Dhaka , Tuesday, 5 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
গাজীপুরে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৫০ সৌন্দর্যবর্ধনের নামে চুক্তি লঙ্ঘন করে স্থাপনা করা চলবেনা:- মেয়র ডা. শাহাদাত মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত রামুতে ডাকাতির প্রস্তুতি কালে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেফতার! পাইকগাছায় কৃষি উন্নয়নে লো লিফট পাম্প স্থাপন; পরিদর্শনে সংশ্লিষ্টরা পাইকগাছায় খাল খনন কার্যক্রমে প্রশাসনের মনিটরিং বানরসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার: রায়পুরে চাঞ্চল্য সিএমপি কমিশনারের ‘ওপেন হাউজ ডে’-তে সেবা নিলেন সেবাপ্রত্যাশীরা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ পলাশে স্বামীর পরকীয়ায় স্ত্রীর আত্মহত্যা রূপগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মিয়া বহিষ্কৃত ফরিদপুরে ব্র্যাক নার্সারির উদ্যোগে পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন। চোরাই কাপড় যুবদল নেতার গোডাউনে মজুদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার পকেটে চিপস, ভেতরে ১ হাজার ইয়াবা সুন্দরবনে পর্যটকদের ওপর হামলা ও ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২ পরিচয় মিললেও মিলছে না স্বজন, কুড়িগ্রাম হাসপাতালে যুবকের মরদেহ হিমাগারের সংরক্ষণ রামগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনালে পানপাড়া ও আঙ্গার পাড়া চ্যাম্পিয়ন অপরাধ দমনে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন রামু থানায় কর্মরত এসআই আনোয়ার হোসেন লালমনিরহাট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলে আধুনিক ও মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা পরিবেশের সূচনা: ১৫ বিজিবি’র অধিনায়কের বিশেষ উদ্যোগ জলাবদ্ধতা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ মেয়রের হত্যা মাদকসহ ডজন মামলার পলাতক আসামি রূপগঞ্জে গ্রেফতারের পর পুলিশের উপর হামলা করে সন্ত্রাসী শামীমকে ছিনতাই, অভিযানে গ্রেফতার-১৩ রূপগঞ্জে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার হত্যা মাদকসহ ডজন মামলার পলাতক আসামি রূপগঞ্জে গ্রেফতারের পর পুলিশের উপর হামলা করে সন্ত্রাসী শামীমকে ছিনতাই, অভিযানে গ্রেফতার-১৩ দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমানের সরকার অত্যন্ত আন্তরিক: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের নবঘোষিত জেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬টি কমিটি করে দিলেন মেয়র রূপগঞ্জে সড়ক নির্মাণ কাজের অনিয়ম, কাদাযুক্ত মাটি ও পুরনো পিচসহ নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ রূপগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার, আটক-২ রূপগঞ্জে তারাবো পৌরসভায় মাদক, চুরি ও ছিনতাই নির্মূলে সচেতনতামূলক সভা

ভোলার রাজাপুরে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করছে।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:29:27 am, Monday, 28 August 2023
  • 377 বার পড়া হয়েছে

ভোলার রাজাপুরে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করছে।।

স্টাফ রিপোর্টার

ভোলা।।

 

ভোলার সদর উপজেলার ১ নং রাজাপুর ইউনিয়ন য়েখানে প্রায় ত্রিশ হাজার লোকের বসবাস। তবে দুর্ভাগ্য হলেও সত্য,এ ইউনিয়নটি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ভাঙছে। এ দীর্ঘ সময় ভাঙ্গনের কারণে কমপক্ষে ১০টি মৌজার কয়েক হাজার একর জমি-বাড়িঘর ভেঙ্গে ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবছর এমনি ভাবে এ ইউনিয়নটি নদী গর্বে বিলীন হয়ে যেতে যেতে আয়তনে অনেকটাই ছোট হয়ে গেছে। এমনিভাবে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে প্রতিবছর চরম দুর্ভোগে পড়েন এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

২৮ আগষ্ট সোমবার বেলা ১২ টার সময় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রাজাপুর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের কন্দ্রকপুর গ্রামের কোড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তাল সেই নদীর দূরত্ব মাত্র ৩৫-৪০ হাত দূরে। শঙ্কার কথা হলো বিদ্যালয়ের পাশের মসজিদের বিশাল পুকুর। সম্প্রতি পুকুরের উত্তরপাড় ভেঙে নদী এসে বিদ্যালয়ের মসজিদ ভবন ছুঁই ছুঁই করছে।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভাঙনের মুখে ব্লক ফেলে তীর সংরক্ষণের দাবিতে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলেও নদী ভাঙ্গন রোধে আদৌ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি ভাঙন প্রতিরোধের কেউ কোনো চেষ্টাও করেনি। তাই বিদ্যালয় ও মসজিদ ভবনটি এখন হুমকির মুখে সরেজমিনে এ দৃশ্য দেখা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের জোড়খাল থেকে মেহেন্দীগঞ্জের চর বাহাদুরপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে । এ ভাঙ্গনের ফলে ইতোমধ্যে ২৫০ একর ফসলি জমি নদী গর্বে চলে গেছ। কোথাও কোথাও আবার নদী বসত বাড়ির খুব কাছে চলে আসায় ৫০টি পরিবার অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। শুধু তাই নয় নদীভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২০টি মসজিদ-মাদ্রাসা ও প্রায় ৫ হাজার পরিবার। এসব পরিবারগুলোর বসতঘরে ও প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ সময় জোয়ারের পানিতো অকপটে ঢুকেই। তারউপর নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এবং একটু বৃষ্টি হতেই পানিবন্দী হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এখানকার বাসিন্দারা।

যদিও এর থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা কংক্রিটের ব্লক ফেলে তীর সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসলেও। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে কয়েকবার ঢাকায় প্রকল্প নকশা তৈরি করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। কিন্তু এখনো ওই প্রকল্প পাস হয়ে আসেনি।

অস্বাভাবিক জোয়ারে এখানকার বাসিন্দারা পানি বন্দী হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতায় মানুষের ঘর থেকে বেরোনোর রাস্তাঘাট ডুবে যায়। চেনার কোন উপায় থাকে না, দেখে মনে হয়, নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ঘর। জোয়ার উঠে মিঝি বাজার থেকে জোড়খাল সড়ক, ছায়েদ আলীর দোকান থেকে উত্তরে রামদাসপুর স্কুল সড়ক, রাজাপুর বানিয়ারচর থেকে জংশন মাদ্রাসা সড়ক, দারগারখাল বাজার থেকে আবদুল খালেক ডাক্তার বাড়ি, চরসিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কসহ ১৫টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে একাধিক কালভার্ট।

আরও জানা যায়, মেহেন্দিগঞ্জের অংশ বাদ দিয়ে ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় আড়াই কিলোমিটার, কন্দ্রকপুরের সাড়ে তিন কিলোমিটার এবং দক্ষিণ রাজাপুরের সোয়া এক কিলোমিটারসহ সোয়া সাত কিলোমিটার তীর অরক্ষিত রয়েছে। দুই বছর আগে রাজাপুরের জোড়খাল পর্যন্ত ব্লক ফেলে কিছুটা ভাঙন প্রতিরোধ করলেও তার পশ্চিমে সাত কিলোমিটারে ভাঙন প্রতিরোধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৪নম্বর ওয়ার্ড সম্পূর্ণ অরক্ষিত। যেখানে ও বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতি থাকায় বাঁধের বাইরে কয়েক হাজার একর জমিতে কয়েক শ কোটি টাকার ফসল উৎপাদ করছে তারা। সেই জমিগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়া সময়ের দাবি মাত্র। তা নিয়ে রীতিমত শঙ্কিত সেখানে বসবাসকারী ভুক্তভোগীরা।

নদীভাঙনকবলিত জোড়খাল এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যখন ব্লক ফেলে তীর সংরক্ষণ হয়, তখন পূর্ব দিকে আরও (৩০০ হাত) ছিল। এখন সেই ৩০০ হাত ভেঙে আরও ১০০ হাত ভেঙে নদীর পেটে গিয়ে এখন আমার ঘরের সামনে চলে এসেছে। অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় আমার ঘরে পানি ওঠে।

রাজাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুহুল আমিন মিজি জানান, তাঁর পরিবারের ১০ একর জমি মেঘনা ও ইলিশা নদী গর্ভে চলে গেছে । কয়েকবার বাড়ি সরিয়ে উত্তর রামদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গড়েছেন। এখন সেটিও ভাঙনের মুখে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর থেকে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে তাঁর ঘর প্লাবিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী বলেন, ‘রাজাপুর ইউনিয়ন ২৫ বছর ধরে ভাঙছে। এ দীর্ঘ সময়ে কমপক্ষে ১০টি মৌজার কয়েক হাজার একর জমি-বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ১০টি বিদ্যালয়, বাজার, রাস্তাঘাটসহ পাঁচ হাজার পরিবার হুমকির মুখে আছে।’

পাউবোর ভোলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, জরুরিভিত্তিতে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও টেক্সটাইল বস্তা ফেলা হবে। সর্বশেষ সদর উপজেলার রাজাপুর, ইলিশা, কাচিয়া, ধনিয়া ও শিবপুর ইউনিয়ন মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার মেঘনার তীর সংরক্ষণের একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য জমা আছে।আশা করি অচিরেই তা পাস হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৫০

ভোলার রাজাপুরে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করছে।।

আপডেট সময় : 10:29:27 am, Monday, 28 August 2023

স্টাফ রিপোর্টার

ভোলা।।

 

ভোলার সদর উপজেলার ১ নং রাজাপুর ইউনিয়ন য়েখানে প্রায় ত্রিশ হাজার লোকের বসবাস। তবে দুর্ভাগ্য হলেও সত্য,এ ইউনিয়নটি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ভাঙছে। এ দীর্ঘ সময় ভাঙ্গনের কারণে কমপক্ষে ১০টি মৌজার কয়েক হাজার একর জমি-বাড়িঘর ভেঙ্গে ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবছর এমনি ভাবে এ ইউনিয়নটি নদী গর্বে বিলীন হয়ে যেতে যেতে আয়তনে অনেকটাই ছোট হয়ে গেছে। এমনিভাবে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে প্রতিবছর চরম দুর্ভোগে পড়েন এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

২৮ আগষ্ট সোমবার বেলা ১২ টার সময় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রাজাপুর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের কন্দ্রকপুর গ্রামের কোড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তাল সেই নদীর দূরত্ব মাত্র ৩৫-৪০ হাত দূরে। শঙ্কার কথা হলো বিদ্যালয়ের পাশের মসজিদের বিশাল পুকুর। সম্প্রতি পুকুরের উত্তরপাড় ভেঙে নদী এসে বিদ্যালয়ের মসজিদ ভবন ছুঁই ছুঁই করছে।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভাঙনের মুখে ব্লক ফেলে তীর সংরক্ষণের দাবিতে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলেও নদী ভাঙ্গন রোধে আদৌ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি ভাঙন প্রতিরোধের কেউ কোনো চেষ্টাও করেনি। তাই বিদ্যালয় ও মসজিদ ভবনটি এখন হুমকির মুখে সরেজমিনে এ দৃশ্য দেখা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের জোড়খাল থেকে মেহেন্দীগঞ্জের চর বাহাদুরপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে । এ ভাঙ্গনের ফলে ইতোমধ্যে ২৫০ একর ফসলি জমি নদী গর্বে চলে গেছ। কোথাও কোথাও আবার নদী বসত বাড়ির খুব কাছে চলে আসায় ৫০টি পরিবার অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। শুধু তাই নয় নদীভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২০টি মসজিদ-মাদ্রাসা ও প্রায় ৫ হাজার পরিবার। এসব পরিবারগুলোর বসতঘরে ও প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ সময় জোয়ারের পানিতো অকপটে ঢুকেই। তারউপর নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এবং একটু বৃষ্টি হতেই পানিবন্দী হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এখানকার বাসিন্দারা।

যদিও এর থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা কংক্রিটের ব্লক ফেলে তীর সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসলেও। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে কয়েকবার ঢাকায় প্রকল্প নকশা তৈরি করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। কিন্তু এখনো ওই প্রকল্প পাস হয়ে আসেনি।

অস্বাভাবিক জোয়ারে এখানকার বাসিন্দারা পানি বন্দী হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতায় মানুষের ঘর থেকে বেরোনোর রাস্তাঘাট ডুবে যায়। চেনার কোন উপায় থাকে না, দেখে মনে হয়, নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ঘর। জোয়ার উঠে মিঝি বাজার থেকে জোড়খাল সড়ক, ছায়েদ আলীর দোকান থেকে উত্তরে রামদাসপুর স্কুল সড়ক, রাজাপুর বানিয়ারচর থেকে জংশন মাদ্রাসা সড়ক, দারগারখাল বাজার থেকে আবদুল খালেক ডাক্তার বাড়ি, চরসিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কসহ ১৫টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে একাধিক কালভার্ট।

আরও জানা যায়, মেহেন্দিগঞ্জের অংশ বাদ দিয়ে ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় আড়াই কিলোমিটার, কন্দ্রকপুরের সাড়ে তিন কিলোমিটার এবং দক্ষিণ রাজাপুরের সোয়া এক কিলোমিটারসহ সোয়া সাত কিলোমিটার তীর অরক্ষিত রয়েছে। দুই বছর আগে রাজাপুরের জোড়খাল পর্যন্ত ব্লক ফেলে কিছুটা ভাঙন প্রতিরোধ করলেও তার পশ্চিমে সাত কিলোমিটারে ভাঙন প্রতিরোধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৪নম্বর ওয়ার্ড সম্পূর্ণ অরক্ষিত। যেখানে ও বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতি থাকায় বাঁধের বাইরে কয়েক হাজার একর জমিতে কয়েক শ কোটি টাকার ফসল উৎপাদ করছে তারা। সেই জমিগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়া সময়ের দাবি মাত্র। তা নিয়ে রীতিমত শঙ্কিত সেখানে বসবাসকারী ভুক্তভোগীরা।

নদীভাঙনকবলিত জোড়খাল এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যখন ব্লক ফেলে তীর সংরক্ষণ হয়, তখন পূর্ব দিকে আরও (৩০০ হাত) ছিল। এখন সেই ৩০০ হাত ভেঙে আরও ১০০ হাত ভেঙে নদীর পেটে গিয়ে এখন আমার ঘরের সামনে চলে এসেছে। অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় আমার ঘরে পানি ওঠে।

রাজাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুহুল আমিন মিজি জানান, তাঁর পরিবারের ১০ একর জমি মেঘনা ও ইলিশা নদী গর্ভে চলে গেছে । কয়েকবার বাড়ি সরিয়ে উত্তর রামদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গড়েছেন। এখন সেটিও ভাঙনের মুখে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর থেকে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে তাঁর ঘর প্লাবিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী বলেন, ‘রাজাপুর ইউনিয়ন ২৫ বছর ধরে ভাঙছে। এ দীর্ঘ সময়ে কমপক্ষে ১০টি মৌজার কয়েক হাজার একর জমি-বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ১০টি বিদ্যালয়, বাজার, রাস্তাঘাটসহ পাঁচ হাজার পরিবার হুমকির মুখে আছে।’

পাউবোর ভোলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, জরুরিভিত্তিতে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও টেক্সটাইল বস্তা ফেলা হবে। সর্বশেষ সদর উপজেলার রাজাপুর, ইলিশা, কাচিয়া, ধনিয়া ও শিবপুর ইউনিয়ন মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার মেঘনার তীর সংরক্ষণের একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য জমা আছে।আশা করি অচিরেই তা পাস হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।