
উৎপল রক্ষিত,
ভালোবাসা দিবস মানেই কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার রোমান্টিক মুহূর্ত—এমন ধারণা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। এবারের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যেও দিনটি ঘিরে ছিল আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের উষ্ণ প্রকাশ।
অনেক পরিবার দিনটি উপলক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর উদ্যোগ নেয়। কেউ ঘরোয়া আয়োজন করেন, কেউবা বাইরে খাওয়া-দাওয়ার পরিকল্পনা করেন। বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপহার বা শুভেচ্ছা জানানোর প্রবণতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনেকে বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে প্রবীণদের সঙ্গে গল্প করেন, ফুল দেন ও শুভেচ্ছা জানান। তাদের ভাষ্য, ভালোবাসা দিবস কেবল যুগলদের নয়; বরং জীবনের প্রতিটি সম্পর্কের মূল্য স্মরণ করার দিন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে বন্ধুদের মধ্যে কার্ড, ফুল ও ছোট উপহার বিনিময়ের দৃশ্য দেখা যায়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার বার্তা প্রকাশ করেন।
শুধু পরিবার নয়, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। অনেকেই দূরে থাকা আত্মীয়দের ফোন করে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিবেশীদের মধ্যেও মিষ্টি বা খাবার বিনিময়ের মতো ছোট ছোট উদ্যোগ ছিল উল্লেখযোগ্য।
বসুন্ধরা থেকে শ্রাবনী পান্ডে বলেন, বিশ্ব ভালবাসা দিবস আমরা এই দিন সামাজিক বন্ধনের দিন হিসাবে বিবেচনায় রাখি, সকল আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করি ও যতটুকু সম্ভব সকলে মিলে একত্রে ঘোরাফেরা দিনশেষে খাওয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে।দিনটি দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।ভালোবাসা দিবসকে যদি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের দিনে রূপ দেওয়া যায়, তবে তা সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
দিনশেষে দেখা গেছে, ভালোবাসা কেবল দু’জন মানুষের অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু ও সমাজের প্রতিটি স্তরে পারস্পরিক সম্মান ও মমতার বন্ধন দৃঢ় করার একটি উপলক্ষ।
এবারের উদযাপন তাই প্রমাণ করেছে—ভালোবাসা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়িয়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
























