
তৌফিক এলাহি, বগুড়া প্রতিনিধি:
উত্তরের প্রবেশদ্বার খ্যাত বগুড়া জেলায় শীতের তীব্রতা দিনদিন বাড়ছে। টানা কয়েক দিন ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস ও সূর্যের দেখা না মেলায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবার জেলায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।
শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা–ভ্যানচালক, নির্মাণ ও কৃষিশ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। কনকনে শীতে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না—দৈনিক আয়ে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। কেউ আগুন জ্বেলে, কেউ মোটা কাপড় জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
সকালে ঘন কুয়াশায় জেলার সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বগুড়া–ঢাকা ও বগুড়া–রাজশাহী মহাসড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ায় দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন ধীরগতিতে চলছে।যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে।
শীতকালীন সবজি ক্ষেত ও বোরো ধানের বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়ায় ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র শীতে আলুতে ডগা পচা এবং মরিচে পাতাকুকড়ী রোগ দেখা দিয়েছে—আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে শীতজনিত রোগী বাড়ছে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে। সর্দি–কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে বেশি আসছেন শিশু ও বয়স্করা। চিকিৎসকদের পরামর্শ,অপ্রয়োজনে রাত বা ভোরে বাইরে না যাওয়া এবং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। আগামী কয়েক দিন রাত ও ভোরে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এদিকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলো শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

























