Dhaka , Monday, 4 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন আজিজুল হক আজিজ নীরবতা নয়, প্রতিবাদ-পাইকগাছায় ইভটিজিং বিরোধী সচেতনতা সভা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত… স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত খুললো চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা :- আবু সুফিয়ান এমপি শ্রীপুরের আমতৈল গ্রামের সহিংসতা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে মাগুরা এক আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খানঃ শান্তি বজায় রাখার আহ্বান নোয়াখালীতে মায়ের সামনে ড্রামট্রাকের নিচে প্রাণ গেল শিশুর রাজাপুরে ইয়াবাসহ বিএনপি সভাপতির ছেলে আটক টিসিবির পণ্য গুদামে, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নোয়াখালীতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস: স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যের আহ্বান সাবেক এমপিকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল, সম্পাদক রাহান কাউখালীতে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তিন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রূপগঞ্জে মাদক সেবনকালে আটক ২ ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ড মধুপুর ফুলবাগচালা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন মাসুদ রানা লক্ষ্মীপুরে ১৪ মাস পর কৃষক দল নেতার লাশ উত্তোলন হাতীবান্ধা ও ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫ বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান: বিপুল পরিমাণ মাদক ও ভারতীয় পণ্য জব্দ “জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই” :- চসিক মেয়র উপকূলের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে- পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ঢাকা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হলেন অ্যাডভোকেট সোহেল খান ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন কিশোরগঞ্জের খাইরুল ইসলাম। মধুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত রূপগঞ্জে ছাত্তার জুট মিলস্ মডেল হাই স্কুল পূনঃনামকরণের প্রস্তাব জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ অপসারণ করা হচ্ছে, দ্রুতই হবে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি:- মেয়র ডা. শাহাদাত রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্যক্রম শুরু পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুূদ্ধ করতে হবে :- আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ মাগুরার ব্র্যাক নার্সারির উদ্যোগে পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে”:- চসিক মেয়র ডা.শাহদাত হোসেন ​হরিপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের হাতে আটক পাইকগাছায় অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে গদাইপুর ব্লাড ব্যাংকের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ এক ঝড়ে উড়ে গেল ঘর, খোলা আকাশেই দিন-রাত

ফলন ভালো হলেও লোকসানের আশঙ্কা  স্বরূপকাঠির পেয়ারা চাষিরা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:11:48 pm, Thursday, 4 August 2022
  • 180 বার পড়া হয়েছে

ফলন ভালো হলেও লোকসানের আশঙ্কা  স্বরূপকাঠির পেয়ারা চাষিরা

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো ।।

 

বরিশাল বিভাগের তিন জেলার ৫৫ গ্রামে ফলন হয় পেয়ারার। এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছে ‘পেয়ারাথ অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ ও জীবিকার অবলম্বন। আষাঢ়-শ্রাবণের ভরা বর্ষায় এসব এলাকার নদী-খালজুড়ে পেয়ারার সমারোহ। এ বছরে পেয়ারার ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষীরা।

পেয়ারার মৌসুমী এ অঞ্চলের বাগানে পর্যটক থাকলেও নেই পেয়ারা বেপারী। হতাশায় প্রহার গুনছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার পেয়ারা চাষিরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে পেয়ারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পেয়ারা পেয়ারা চাষিরা প্রকৃত মূল্য না পেয়ে হতাশায় ভুগছে। অপরদিকে ভাসমান পেয়ারা হাট দেখতে বিদেশি পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভ্রমণ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে।

ভাসমান পেয়ারার ভাসমান হাটে ক্রোতা শূন্য থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের। লোকসানের আশঙ্কা দেখছেন কয়েক হাজার কৃষক। ভিমরুলী, শতদশকাঠী, খাজুরিয়া, ডুমুরিয়া, কাপুড়াকাঠী, জগদীশপুর এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কৃষকরা জানান, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানার বিখ্যাত পেয়ারা সরবরাহ হয় সারাদেশে। প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি হতো। কিন্তু এ বছরে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে পেয়ারার ভরা মৌসুমেও বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

চাষিরা জানান, আষাঢ়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় পেয়ারার মৌসুম। প্রতিবছর মৌসুম জুড়ে প্রতিদিন নৌকা, ট্রলার আর ট্রাকে করে স্বরূপকাঠির পেয়ারা যেত দেশের বিভিন্ন স্থানে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাষি, বাগান মালিক, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কোলাহলে মুখর থাকত প্রতিটি পেয়ারা বাগান। কিন্তু এ বছরের চিত্র ভিন্ন।

ফলন ভালো হলেও পাইকারদের আনাগোনা অর্ধেকেরও কম। অন্যদিকে পেয়ারা বাগান কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন কার্যক্রমও নিষ্প্রাণ। ফলে স্বরূপকাঠির পেয়ারাকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে এ বছর বড় ধস নেমেছে।

পেয়ারার রাজ্যখ্যাত পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা এবং পার্শ^বর্তী জিন্দাকাঠি, আদমকাঠি, ধলহার, রাজাপুর প্রভৃতি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে বাগানগুলোতে ফলন ভালো হয়েছে। যেসব গাছে ফলন হয়েছে তারও অর্ধেক ছিটপড়া রোগে আক্রান্ত। জিন্দাকাঠি গ্রামের প্রবীণ পেয়ারা চাষি মোক্তার হোসেন জানান, আটঘর-কুড়িয়ানাকে পেয়ারার রাজ্য বলা হলেও পার্শ^বর্তী বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঝালকাঠি পেয়ারার সাম্রাজ্য।

বরিশাল বিভাগের অন্যত্র ছিটে ফোঁটা পেয়ারা হলেও বরিশাল জেলার বানারীপাড়া, ঝালকাঠী জেলার ঝালকাঠী সদর ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী ঘিরেই মূলত পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষ। বরিশাল জেলার বানারীপাড়ার ১৬ গ্রামে ৯৩৭ হেক্টর, ঝালকাঠী জেলার ১৩ গ্রামে ৩৫০ হেক্টর জমিতে, স্বরূপকাঠীর ২৬ গ্রামের ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। এসব এলাকার মধ্যে ঝালকাঠীর কীর্তিপাশা, ভিমরুলী, শতদশকাঠী, খাজুরিয়া, ডুমুরিয়া, কাপুড়াকাঠী, জগদীশপুর, মীরকাঠী, শাখা গাছির, হিমানন্দকাঠী, আদাকাঠী, রামপুর, শিমুলেশ্বর এই গ্রামে বৃহৎ অংশজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে যুগ যুগ ধরে পেয়ারার চাষ হচ্ছে।

স্বরূপকাঠীর ২৬ গ্রামের মধ্যে রয়েছে সঙ্গীতকাঠী, খায়েরকাঠী, ভদ্রানন্দ, বাচ্চুকাঠী, ভাংগুরা, আদাবাড়ী, রাজাপুর, ব্রাহ্মণকাঠী, ধলহার, জিন্দাকাঠী, আটঘর, কুড়িয়ানা, পূর্ব জলাবাড়ি, ইদিলকাঠী, আরামকাঠী, মাদ্রা, গণপতিকাঠী, আতাকাঠী, জামুয়া, জৈলশার, সোহাগদল, আদমকাঠী, অশ্বত্থকাঠী, সমীত, সেহাংগল, আন্দারকুল।বরিশালের বানারীপাড়ার পেয়ারা বাগানগুলো হলো তেতলা, সৈয়দকাঠী, মালিকান্দা, ব্রাহ্মণবাড়ি, বোয়ালিয়া, জম্বুদ্বীপ, বিশারকান্দি, মরিচবুনিয়া, মুরার বাড়ি, উমরের পাড়, লবণ সড়া, ইন্দির হাওলা, নরেরকাঠী, রাজ্জাকপুর, হলতা, চুয়ারিপাড়।

এসব গ্রামের কয়েক হাজার কর্মজীবী পরিবার যুগ যুগ ধরে পেয়ারার চাষ করছে। পেয়ারার চাষ, ব্যবসা ও বাজারজাতকরণেও রয়েছে কয়েক হাজার মৌসুমী বেপারি এবং শ্রমিক। এ সময় অন্তত কুড়িটি স্থানে পেয়ারার মৌসুমী মোকামের সৃষ্টি হয়। এগুলো হলো ভিমরুলী, আতাকাঠী, ডুমুরিয়া, গণপতিকাঠী, শতদশকাঠী, রাজাপুর, মাদ্রা, আদমকাঠী, জিন্দাকাঠী, বর্ণপতিকাঠী, আটঘর, কুড়িয়ানা, আন্দাকুল, রায়ের হাট, ব্রাহ্মণকাঠী, ধলহার, বাউকাঠী। এসব মোকামের মৌসুমে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার মণ পেয়ারা কেনা-বেচা হয়ে থাকে।

পেয়ারার আদি ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় মানুষরা জানান, শত, শত বছর ধরেই তারা বংশানুক্রমে পেয়ারার চাষ করছেন। তাদের মতে আনুমানিক ২শ বছর আগে স্থানীয় কালীচরণ মজুমদার ভারতের ‘গয়াথ থেকে এই জাতের পেয়ারার বীজ এলাকায় রোপণ করেন। সেই থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে পেয়ারার চাষ।

তবে প্রাচীন পেয়ারা চাষিরা জানালেন, আগে বিচ্ছিন্ন আবাদ হলেও ১৯৪০ সাল থেকে শুরু হয়েছে পেয়োরার বাণিজ্যিক আবাদ। এই আবাদ ক্রমশ বাড়ছে। ২০১০ সালে অন্তত ১৯৩২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক পেয়ারার আবাদ হয়েছে। এ সময় ফলন হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিকটন পেয়ারা।

পেয়ারার চাষ জ্যৈষ্ঠের শেষ থেকে ভাদ্রের শেষ এই তিন মাস পেয়ারার মৌসুম। তবে ভরা মৌসুম শ্রাবণ মাসজুড়ে। এরপর ক্রমশ কমতে থাকে পেয়ারার ফলন। চৈত্র বৈশাখের মধ্যেই পেয়ারা চাষিরা বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত ছোট ছোট খাল, নাল দিয়ে বাগানগুলো মূলভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। চাষিরা মৃতপ্রায় গাছের ডাল কেটে, মাটি আলগা করে পেয়ারা গাছে আলাদা করে যত্ন নেয়। বাগানের চতুর্দিক জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নালা কেটে মাটি পেয়ারা গাছের গোড়ায় দেয়া হয়। চাষিরা জানান, পেয়ারা গাছে তেমন কোন সার বা আলাদা করে কিছু দেবার প্রয়োজন নেই। শুধু পরিচর্যাই যথেষ্ট।

সারাবছর তেমন কোন কিছু করার দরকার হয় না। বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসেই পেয়ারা গাছে ফুল আসতে শুরু করে। তবে বৃষ্টি শুরু না হলে পেয়ারা পরিপক্ক হয় না। জমি ভালো হলে হেক্টর প্রতি ১২ থেকে ১৪ মেট্রিক টন পেয়ারার উৎপাদন হয়। বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলায় পেয়ারা চাষের বিস্তৃতি ঘটেছে। এ তিন উপজেলার ৩৫ গ্রামে গত এক যুগ ধরে চাষ হচ্ছে বাংলার আপেলখ্যাত পেয়ারার।

কুড়িয়ানার পেয়ারা চাষি বঙ্কিম মণ্ডল বলেন, এ বছর বাগানে তেমন ফলন হয়নি। তার ওপর করোনার ভয়ে চাষিরা বাগানের যথাযথ পরিচর্যা করতে না পারায় ছিটপড়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রতিটি বাগান। যে কারণে এ বছর প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। অথচ গত বছর প্রতিমণ পেয়ারা পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৮০০-১০০০ টাকায়।

পেয়ারা চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহর মণ্ডল জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর পেয়ারার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারমূল্যে কম হওয়ায় শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন আর লোকসানের জুলি গুনতে হচ্ছে প্যারা চাষীদের।

ঝালকাঠি জেলা উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: ফজলুল হক জানান, পেয়ারা বাগানে ফুল হওয়ার সাথে সাথেই সার্বক্ষনিক মাঠে কৃর্ষি কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের সহাতায় কৃষকদর পরামর্শ দেই। বর্তমান কৃর্ষিবান্ধব সরকারর দেয়া সার কিটনাশক ও কৃষি উপকরন দিয়ে সহায়াতা করছি।

স্বরূপকাঠি উপজেলা উপ পরিচালক কৃষিবিদ ড.নজরুল ইসলাম জানান, পেয়ারা বাগান ভিজিট করে কৃষকদের সাথে কথা বলে সকল সমস্যা সমাধান করবো। চাষিরা যথাযথভাবে পরিচর্যা করতে না পারায় ছিটপড়া রোগের বিস্তার ঘটেছে। । এ বছর পেয়ারা চাষিরা যাতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন এ জন্য তাদের বিনামূল্যে উপকরণ (বীজ, সার, কীটনাশক) সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অপরদিকে ভাসমান পেয়ারা হাট দেখতে বিদেশি পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভ্রমণ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে। কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কায় চরম বিপর্যয়ের কারণে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন কয়েক হাজার পেয়ারা বাগানী কৃষক।

এ ব্যাপারে স্বরুপকাঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোশারেফ হোসেন জানান, পেয়ারা চাষীরা হতাশ হলেও তাদের বিশেষ প্রণোদনা সহ কৃষিবান্ধব সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। এ বছরে পেয়ারা চাষিরা যাতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন এ জন্য তাদের বিনামূল্যে উপকরণ (সার, কীটনাশক) সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার উর্ধ্বর্তন কতৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। বাংলার আপেল বলে খ্যাত পেয়ারা বাগানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পেয়ারা বাগানের কৃষকসহ সকলের আপ্রয়ন প্রচেষ্টায় কাজ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন আজিজুল হক আজিজ

ফলন ভালো হলেও লোকসানের আশঙ্কা  স্বরূপকাঠির পেয়ারা চাষিরা

আপডেট সময় : 03:11:48 pm, Thursday, 4 August 2022

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো ।।

 

বরিশাল বিভাগের তিন জেলার ৫৫ গ্রামে ফলন হয় পেয়ারার। এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছে ‘পেয়ারাথ অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ ও জীবিকার অবলম্বন। আষাঢ়-শ্রাবণের ভরা বর্ষায় এসব এলাকার নদী-খালজুড়ে পেয়ারার সমারোহ। এ বছরে পেয়ারার ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষীরা।

পেয়ারার মৌসুমী এ অঞ্চলের বাগানে পর্যটক থাকলেও নেই পেয়ারা বেপারী। হতাশায় প্রহার গুনছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার পেয়ারা চাষিরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে পেয়ারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পেয়ারা পেয়ারা চাষিরা প্রকৃত মূল্য না পেয়ে হতাশায় ভুগছে। অপরদিকে ভাসমান পেয়ারা হাট দেখতে বিদেশি পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভ্রমণ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে।

ভাসমান পেয়ারার ভাসমান হাটে ক্রোতা শূন্য থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের। লোকসানের আশঙ্কা দেখছেন কয়েক হাজার কৃষক। ভিমরুলী, শতদশকাঠী, খাজুরিয়া, ডুমুরিয়া, কাপুড়াকাঠী, জগদীশপুর এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কৃষকরা জানান, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানার বিখ্যাত পেয়ারা সরবরাহ হয় সারাদেশে। প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি হতো। কিন্তু এ বছরে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে পেয়ারার ভরা মৌসুমেও বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

চাষিরা জানান, আষাঢ়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় পেয়ারার মৌসুম। প্রতিবছর মৌসুম জুড়ে প্রতিদিন নৌকা, ট্রলার আর ট্রাকে করে স্বরূপকাঠির পেয়ারা যেত দেশের বিভিন্ন স্থানে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাষি, বাগান মালিক, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কোলাহলে মুখর থাকত প্রতিটি পেয়ারা বাগান। কিন্তু এ বছরের চিত্র ভিন্ন।

ফলন ভালো হলেও পাইকারদের আনাগোনা অর্ধেকেরও কম। অন্যদিকে পেয়ারা বাগান কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন কার্যক্রমও নিষ্প্রাণ। ফলে স্বরূপকাঠির পেয়ারাকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে এ বছর বড় ধস নেমেছে।

পেয়ারার রাজ্যখ্যাত পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা এবং পার্শ^বর্তী জিন্দাকাঠি, আদমকাঠি, ধলহার, রাজাপুর প্রভৃতি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে বাগানগুলোতে ফলন ভালো হয়েছে। যেসব গাছে ফলন হয়েছে তারও অর্ধেক ছিটপড়া রোগে আক্রান্ত। জিন্দাকাঠি গ্রামের প্রবীণ পেয়ারা চাষি মোক্তার হোসেন জানান, আটঘর-কুড়িয়ানাকে পেয়ারার রাজ্য বলা হলেও পার্শ^বর্তী বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঝালকাঠি পেয়ারার সাম্রাজ্য।

বরিশাল বিভাগের অন্যত্র ছিটে ফোঁটা পেয়ারা হলেও বরিশাল জেলার বানারীপাড়া, ঝালকাঠী জেলার ঝালকাঠী সদর ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী ঘিরেই মূলত পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষ। বরিশাল জেলার বানারীপাড়ার ১৬ গ্রামে ৯৩৭ হেক্টর, ঝালকাঠী জেলার ১৩ গ্রামে ৩৫০ হেক্টর জমিতে, স্বরূপকাঠীর ২৬ গ্রামের ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। এসব এলাকার মধ্যে ঝালকাঠীর কীর্তিপাশা, ভিমরুলী, শতদশকাঠী, খাজুরিয়া, ডুমুরিয়া, কাপুড়াকাঠী, জগদীশপুর, মীরকাঠী, শাখা গাছির, হিমানন্দকাঠী, আদাকাঠী, রামপুর, শিমুলেশ্বর এই গ্রামে বৃহৎ অংশজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে যুগ যুগ ধরে পেয়ারার চাষ হচ্ছে।

স্বরূপকাঠীর ২৬ গ্রামের মধ্যে রয়েছে সঙ্গীতকাঠী, খায়েরকাঠী, ভদ্রানন্দ, বাচ্চুকাঠী, ভাংগুরা, আদাবাড়ী, রাজাপুর, ব্রাহ্মণকাঠী, ধলহার, জিন্দাকাঠী, আটঘর, কুড়িয়ানা, পূর্ব জলাবাড়ি, ইদিলকাঠী, আরামকাঠী, মাদ্রা, গণপতিকাঠী, আতাকাঠী, জামুয়া, জৈলশার, সোহাগদল, আদমকাঠী, অশ্বত্থকাঠী, সমীত, সেহাংগল, আন্দারকুল।বরিশালের বানারীপাড়ার পেয়ারা বাগানগুলো হলো তেতলা, সৈয়দকাঠী, মালিকান্দা, ব্রাহ্মণবাড়ি, বোয়ালিয়া, জম্বুদ্বীপ, বিশারকান্দি, মরিচবুনিয়া, মুরার বাড়ি, উমরের পাড়, লবণ সড়া, ইন্দির হাওলা, নরেরকাঠী, রাজ্জাকপুর, হলতা, চুয়ারিপাড়।

এসব গ্রামের কয়েক হাজার কর্মজীবী পরিবার যুগ যুগ ধরে পেয়ারার চাষ করছে। পেয়ারার চাষ, ব্যবসা ও বাজারজাতকরণেও রয়েছে কয়েক হাজার মৌসুমী বেপারি এবং শ্রমিক। এ সময় অন্তত কুড়িটি স্থানে পেয়ারার মৌসুমী মোকামের সৃষ্টি হয়। এগুলো হলো ভিমরুলী, আতাকাঠী, ডুমুরিয়া, গণপতিকাঠী, শতদশকাঠী, রাজাপুর, মাদ্রা, আদমকাঠী, জিন্দাকাঠী, বর্ণপতিকাঠী, আটঘর, কুড়িয়ানা, আন্দাকুল, রায়ের হাট, ব্রাহ্মণকাঠী, ধলহার, বাউকাঠী। এসব মোকামের মৌসুমে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার মণ পেয়ারা কেনা-বেচা হয়ে থাকে।

পেয়ারার আদি ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় মানুষরা জানান, শত, শত বছর ধরেই তারা বংশানুক্রমে পেয়ারার চাষ করছেন। তাদের মতে আনুমানিক ২শ বছর আগে স্থানীয় কালীচরণ মজুমদার ভারতের ‘গয়াথ থেকে এই জাতের পেয়ারার বীজ এলাকায় রোপণ করেন। সেই থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে পেয়ারার চাষ।

তবে প্রাচীন পেয়ারা চাষিরা জানালেন, আগে বিচ্ছিন্ন আবাদ হলেও ১৯৪০ সাল থেকে শুরু হয়েছে পেয়োরার বাণিজ্যিক আবাদ। এই আবাদ ক্রমশ বাড়ছে। ২০১০ সালে অন্তত ১৯৩২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক পেয়ারার আবাদ হয়েছে। এ সময় ফলন হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিকটন পেয়ারা।

পেয়ারার চাষ জ্যৈষ্ঠের শেষ থেকে ভাদ্রের শেষ এই তিন মাস পেয়ারার মৌসুম। তবে ভরা মৌসুম শ্রাবণ মাসজুড়ে। এরপর ক্রমশ কমতে থাকে পেয়ারার ফলন। চৈত্র বৈশাখের মধ্যেই পেয়ারা চাষিরা বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত ছোট ছোট খাল, নাল দিয়ে বাগানগুলো মূলভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। চাষিরা মৃতপ্রায় গাছের ডাল কেটে, মাটি আলগা করে পেয়ারা গাছে আলাদা করে যত্ন নেয়। বাগানের চতুর্দিক জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নালা কেটে মাটি পেয়ারা গাছের গোড়ায় দেয়া হয়। চাষিরা জানান, পেয়ারা গাছে তেমন কোন সার বা আলাদা করে কিছু দেবার প্রয়োজন নেই। শুধু পরিচর্যাই যথেষ্ট।

সারাবছর তেমন কোন কিছু করার দরকার হয় না। বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসেই পেয়ারা গাছে ফুল আসতে শুরু করে। তবে বৃষ্টি শুরু না হলে পেয়ারা পরিপক্ক হয় না। জমি ভালো হলে হেক্টর প্রতি ১২ থেকে ১৪ মেট্রিক টন পেয়ারার উৎপাদন হয়। বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলায় পেয়ারা চাষের বিস্তৃতি ঘটেছে। এ তিন উপজেলার ৩৫ গ্রামে গত এক যুগ ধরে চাষ হচ্ছে বাংলার আপেলখ্যাত পেয়ারার।

কুড়িয়ানার পেয়ারা চাষি বঙ্কিম মণ্ডল বলেন, এ বছর বাগানে তেমন ফলন হয়নি। তার ওপর করোনার ভয়ে চাষিরা বাগানের যথাযথ পরিচর্যা করতে না পারায় ছিটপড়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রতিটি বাগান। যে কারণে এ বছর প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। অথচ গত বছর প্রতিমণ পেয়ারা পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৮০০-১০০০ টাকায়।

পেয়ারা চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহর মণ্ডল জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর পেয়ারার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারমূল্যে কম হওয়ায় শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন আর লোকসানের জুলি গুনতে হচ্ছে প্যারা চাষীদের।

ঝালকাঠি জেলা উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: ফজলুল হক জানান, পেয়ারা বাগানে ফুল হওয়ার সাথে সাথেই সার্বক্ষনিক মাঠে কৃর্ষি কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের সহাতায় কৃষকদর পরামর্শ দেই। বর্তমান কৃর্ষিবান্ধব সরকারর দেয়া সার কিটনাশক ও কৃষি উপকরন দিয়ে সহায়াতা করছি।

স্বরূপকাঠি উপজেলা উপ পরিচালক কৃষিবিদ ড.নজরুল ইসলাম জানান, পেয়ারা বাগান ভিজিট করে কৃষকদের সাথে কথা বলে সকল সমস্যা সমাধান করবো। চাষিরা যথাযথভাবে পরিচর্যা করতে না পারায় ছিটপড়া রোগের বিস্তার ঘটেছে। । এ বছর পেয়ারা চাষিরা যাতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন এ জন্য তাদের বিনামূল্যে উপকরণ (বীজ, সার, কীটনাশক) সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অপরদিকে ভাসমান পেয়ারা হাট দেখতে বিদেশি পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভ্রমণ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে। কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কায় চরম বিপর্যয়ের কারণে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন কয়েক হাজার পেয়ারা বাগানী কৃষক।

এ ব্যাপারে স্বরুপকাঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোশারেফ হোসেন জানান, পেয়ারা চাষীরা হতাশ হলেও তাদের বিশেষ প্রণোদনা সহ কৃষিবান্ধব সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। এ বছরে পেয়ারা চাষিরা যাতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন এ জন্য তাদের বিনামূল্যে উপকরণ (সার, কীটনাশক) সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার উর্ধ্বর্তন কতৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। বাংলার আপেল বলে খ্যাত পেয়ারা বাগানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পেয়ারা বাগানের কৃষকসহ সকলের আপ্রয়ন প্রচেষ্টায় কাজ করতে হবে।