
ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:
নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে হালিশহর এলাকায় খেলার মাঠ, সড়ক ও সেতু নির্মাণসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার, ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ড এবং ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো উদ্বোধনকালে মেয়র বলেন, পরিকল্পিত নগর গড়তে ক্রীড়া, যোগাযোগ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। হালিশহর এলাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য আবাসিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতেই এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডস্থ হালিশহর এইচ ব্লক আবাসক এলাকা মাঠের উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার বর্গফুট মাঠের চারদিকে ৭ ফুট প্রশস্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ওয়াকওয়ের পাশে ৫ ফুট প্রশস্ত দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠ এলাকায় ১৩২টি গার্ডেন লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
বাগানের ফাঁকে ৪৪টি বিশ্রাম বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ২৬৪ জন বসতে পারবেন। ২২ হাজার ৫০০ বর্গফুট আধুনিক সবুজ খেলার মাঠ, ৩ হাজার ৭৫০ বর্গফুট ইনডোর সুবিধা (টেনিস, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি), ৩ হাজার ৩৭৫ বর্গফুট কিডস জোন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বায়ু চলাচল উপযোগী দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ এবং তরুণদের ক্রীড়া চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে আধুনিক মানের খেলার মাঠ অত্যন্ত প্রয়োজন।
২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডস্থ হালিশহর এসি মসজিদ থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও গড়ে ৩৫ ফুট প্রশস্ত সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র।
রাস্তার উভয় পাশে ৪ থেকে ৫ ফুট প্রশস্ত স্ল্যাবসহ নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৭ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত বাগানসমৃদ্ধ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, যা পথচারীদের চলাচলকে নিরাপদ ও আরামদায়ক করবে।
মেয়র বলেন, টেকসই সড়ক অবকাঠামো এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডস্থ মহেশখালের উপর প্রায় ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩.৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.৫০ মিটার প্রস্থের একটি সেতুর উদ্বোধন করেন মেয়র। সেতুর উভয় পাশে এপ্রোচ রোড, দৃষ্টিনন্দন ও নিরাপত্তা রেলিং এবং পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১.৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ মিটার প্রস্থের কার্পেটিং রোড, ৩০০ মিটার আরসিসি রোড, ৪৭৫ মিটার ফুটপাত, বিজিবি অফিসের সামনে ৩৫২ মিটার দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল, ১২০টি লাইট এবং ৬২ মিটার আরসিসি প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, এ সেতু চালু হওয়ায় দুই ওয়ার্ডের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি আসবে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে চলবে। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান লক্ষ্য।

























