
সাদ্দাম আলী,
তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। বলেন, সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে। শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না আমরা। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো সহ সকল শিল্পকলকারখানা চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র ফিরিয়ে আনা হবে।যারা আধিপত্যবাদের গোলাম তাদের সাথেও নেই। আমরা আজাদীর বাংলাদেশের পক্ষ্যে। ইনশাআল্লাহ তিস্তাপারের মানুষজনের মতো জেগে উঠেছে এই বাংলাদেশের কোটি মানুষজন। আজাদী নিশ্চিত হবে, সেই বিজয় ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত করতে চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে আমাদেরও বিজয়। ১৮ কোটি মানুষ হেরে গেলে আমাদেরও পরাজয়। এই জন্য বিজয়ের সূচনা হবে ইনশাল্লাহ গণভোটে ভোট দিয়ে। আমীরে জামায়াত বলেন, আপনারা গণভোটে কী বলবেন? ১২ তারিখ প্রথম ভোটটি হবে হ্যাঁ। সবাইকে নিয়ে। এই তিস্তাপাড়ে যারা আছেন সবাইকে নিয়ে। আপনারা যদি বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ৩৩ আসনে ১১ দলের আমাদের প্রার্থীদের উপহার দেন আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে, আল্লাহ সুস্থ রাখলে, আল্লাহ যদি আমাদের হাতে দেশ গড়ার সুযোগ দেন ইনশাল্লাহ আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার জন্য আমরা লড়াই করে যাব। আপনাদের সাথে বেইমানি করব না। আপনাদের ন্যায্য যতগুলা পাওনা আছে- রাষ্ট্র আপনাদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য থাকবে, ইনশাল্লাহ।ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ তুলে বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে। তিনি বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে কাউকে পিছনে নিতে দেয়া হবে না। উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না আমরা। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে এ অঞ্চলের বন্ধ থাকা চিনি কল সহ বিভিন্ন শিল্পকলকারখানা চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র ফিরিয়ে আনা হবে।
কোনো অসৎ-দুর্নীতিবাজের সুন্দর গল্প বিশ্বাস করা যাবে না বলে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই বাংলাদেশ গড়ার কথা যে বলবে, তাদের নিজেদের চরিত্রের প্রমাণ দিতে হবে যে তারা এটার জন্য উপযুক্ত। ওরা মতলববাজ। যারা মাঝে মাঝে দুস্টুমি করে। অসৎ, দুর্নীতিবাজ যদি অনেক সুন্দর করে গল্প শোনায়, তাদের কথা বিশ্বাস করা যাবে না। তারা নির্বাচনে রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে চতুর্থ আসমানে পাঠাবে। তারা ধোঁকাবাজ, তাদের চিনে রাখবেন। তাদের ইয়েস নয়, বলবেন তোমাদের জন্য লাল কার্ড। এই মতলব বাজদের বিরুদ্ধে বলতে চাই আমরা বাংলাদেশকে আর বিভক্ত করতে দিবোনা। এরা জাতিকে বিরক্ত করার পাঁয়তারা করছে। রাজনৈতিক নাম ব্যবসা নয়, চাঁদাবাজি নয়। আমরা কথা দিচ্ছি, বঞ্চিত উত্তরবঙ্গের এলাকা থেকে উন্নয়ন শুরু করবো। বিসমিল্লাহ শুরু করবো উত্তরবঙ্গ।তিনি বলেন, জামায়াত বসন্তের কোকিল নই। আমরা দেশ থেকে পালিয়ে যাইনি। যারা পালিয়ে গেছিল তারা ফিরে এসে রঙিন স্বপ্ন দেখান। মিথ্যে আশ্বাস দেয়। আমরা সকল মানুষকে, সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশের উন্নয়ন ঘটনাবো। গরম ভাতে বিলাই ভেজার। তিনি বলেন, তোমরা যারা চুরি করেছ, এখন নতুন করে চুরি করার জন্য কৌশল নিয়েছো। তোমাদের দিন শেষ। এখন আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়বো আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে।
আমরা বলতে চাই দেশের ৯ কোটি মা রয়েছেন। আমরা সকল মাকে নিরাপদে রাখবো। তারা কাজ করবেন নিরাপদে। আমরা সবাই মিলে দেশটা গড়তে পারি। আমাদের দুটি ভোট। আমরা হ্যাঁ ভোটের আজাদি। যারা না ভোটে ছিল। তারা প্রথমে না ভোটের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। এখন তারা হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা করছে তাদের স্বাগতম। দ্বিতীয় ভোট হলো যারা দেশ চালাবে তাদের। তবে যারা বিগত সময় দুর্নীতি করেছেন তারা পুনরায় দুর্নীতি করতে প্রস্তুত নিচ্ছেন। এদের বিজয় হবে না। জামায়াতের আমির বলেন, আমি জামায়াতের বিজয় চাই না। আমি বিজয় চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না। জনসভায় ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় আমরা দয়ার পাত্রমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। তিনি দাবি করেন, দেশবাসীকে বিপদের সময় ফেলে তারা কোথাও যাননি, ভবিষ্যতেও যাবেন না।আমীরে জামায়াত বলেন, আমি বিশ্বাস করি ইনশাআল্লাহ সারাদেশের মতো তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ৫টি আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত আছেন। এই ৭টি আসন আমরা ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে ১২ দলকে উপহার দেওয়ার জন্য আপনাদের কাছে আমি আহ্বান জানাই। আমি আল্লাহকে সাী রেখে আপনাদের এই ল্য জনতাকে সাী রেখে আমি বলছি আমরা এবং আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। কোনো পরিবারের রাজত্ব কায়েম করতে চাই না। কোনো গোষ্ঠীর হাতে দেশ তুলে দিতে চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আর পিছনের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই, সময় নেই। অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে এই জাতির। আর এই জাতিকে বিভক্ত করে কাউকে পিছনে নিতে দেওয়া হবে না। এখানে আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-চারটা ধর্মের মানুষ বসবাস করি। আমরা চারটা ধর্ম দিয়েই বাংলাদেশকে ফুলের বাগানের মতো সাজাবো ইনশাআল্লাহ। আর ধর্মে বর্ণে কোনো বিভক্তি টানতে দেব না। এই দেশে সবাই মর্যাদার সাথে বসবাস করবে। কারো করুণার পাত্র হয়ে নয় নিজের যোগ্যতা বলে, ইনশাআল্লাহ। যুবকরা তৈরি হয়ে যাও। আমাদের এই ছোটাছুটি দৌড়াদৌড়ি তোমাদের জন্যে। এই বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দেব। সবাই মিলেই তো বাংলাদেশ। এইজন্যেই আমাদের স্লোগান ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আপনারা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের সাথে আছেন? আলহামদুলিল্লাহ। জনসভায় জামায়াতে আমির নিজেই স্লোগান তুলেন ১২ তারিখ বিজয়ের মালা উঠে যাবে আমাদের ১২ দলের পক্ষে। জামায়াতে আমির মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে নীলফামারীর চারটি ও লালমনিরহাটের ৩টি সহ ৭ আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক তুলে দেন।
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও লালমনিরহাট ৩ (সদর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল হালিম, রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের জামায়াতের সহকারী পরিচালক ও কর্মপরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য নীলফামারী জেলা সাবেক আমির আব্দুর রশিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (জকসু) জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক ডা. নাঈম তাজওয়ার।
আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজ কবির, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ন সংগঠক আবু সাঈদ লিওন ও রাসেল আহমেদ, এনসিপির নীলফামারী জেলা কমিটির আহবায়ক আব্দুল মজিদ, এনসিপি লালমনিরহাট জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক গোলাম ফারুক সরকার সুমন, খেলাফত মজলিসের নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাদ্দাম হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালাম, লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আবুল কাসেম।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তিস্তাপাড়ের জনসভা প্রস্তুতি কমিটির প্রধান লালমনিরহাট জামায়াত নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমান, লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ্যাডঃ আব্দুল বাতেন, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ৭টি আসনের প্রার্থী নীলফামারী ১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী ২ (সদর) আসনের প্রার্থী আল ফারুক আব্দুল লতীফ, নীলফামারী ৩ (জলঢাকা) আসনের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী ৪ (সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ) আসনের আব্দুল মুনতাকিম, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের আনোয়ারুল ইসলাম, লালমনিরহাট-২ (কালিগঞ্জ-আদিতমারী) আসনের অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু. নীলফামারীর ডিমলার অমুসলিম শাখার নেতা কৃষ্ণ চন্দ্র, হাতীবান্ধা অমুসলিশ শাখার আহবায়ক সনজিৎ কুমার রায়, যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ বিপুল চন্দ্র রায়, সদস্যসচিব পুস্পজিৎ বর্ম্মণ, জামায়াতে ইসলামীর জলঢাকা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত আমির মোঃ কামরুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর সোশ্যাল এক্টিভিস্ট লেখক আলী আহমাদ মাবরুর, আমার বাংলাদেশ পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য আবু রায়হান আসালী ওয়াসির, নীলফামারী জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আলতাফ হোসাইন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ইউসুফ আলী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির রংপুর মহানগরের সভাপতি নুরুল হুদা, ইসলামী ছাত্র শিবির নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি তাজমুল হাসান সাগর, লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল আলম সালেহী প্রমুখ।
























