Dhaka , Sunday, 1 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান প্রবাল রক্ষায় কঠোর সিদ্ধান্ত: সেন্ট মার্টিনে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ রামগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে ছাত্রদলের মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  দেশের ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতায় নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে কোনো আপোষ নাই এবারের নির্বাচন— ইসি সানাউল্লাহ বরগুনা-২ হাতপাখা কর্মীকে মারধরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন  ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ২ শরীয়তপুরে উজ্জ্বল-আনোয়ারের নিয়ন্ত্রণে পিআইও অফিস, কোটি টাকার হরিলুট বিএনপি দেশের উন্নয়নে পরীক্ষিত দল : ড.মঈন খান শ্রীপুরে জাতীয়বাদী ফোরামের নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ মাগুরা–১ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার সভা অনুষ্ঠিত চিলমারীতে ট্রাকের সিটের নিচে মিলল ১৫ কেজি গাঁজা, র‍্যাবের হাতে আটক ৩ তারেক রহমানের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু পাইকগাছায় বিএনপি নেতা সরদার মাসুদ পারভেজের শোকসভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় শিবসা ব্রিজের বাইপাস সড়কের বেহাল অবস্থা; দ্রুত সংস্কারের দাবি চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোক সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শহীদ মন্নান স্মৃতি সংস্থার উদ্যোগে শহীদ মন্নান স্মৃতি শর্টপিছ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬ অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে যুবদলের নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ রূপগঞ্জে দলীয় কর্মসূচীতে নাম আগে -পরে নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ নিহত ১ ঝালকাঠিতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান আগামী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান—শহিদুল আলম বাহাদুরের সমর্থনে ঈদগাঁওয়ে বিশাল গণমিছিল খুরুশকুলে ধানের শীষের বিশাল জনসভা: উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার লুৎফুর রহমান কাজলের বান্দরবানে আরআইসির অভিযানে শটগানের কার্তুজ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার রূপগঞ্জে ধানের শীষে ভোট চেয়ে মুড়াপাড়ায় উঠান বৈঠক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা পর্দা নামছে আজ শেষ মূহুর্তে লোকে লোকারণ্য ॥ মূল্যছাড়ে কেনাকাটার ধুম ॥ বিক্রেতারা খুশি পাঁচবিবি মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ সাভারে গার্মেন্টসে ভাঙচুর: ৭ নারীসহ ২৩ শ্রমিক গ্রেফতার আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর করা হবে চসিককে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অনির্বাচিত সরকার কখনও দেশের মানুষের আশা পূরণ করতে পারে না :- দক্ষিণ হালিশহরে গণসংযোগে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আসন্ন সংসদ নির্বাচন: দিনাজপুরে বিজিবি মোতায়েন ও ১৩টি বেইস ক্যাম্প স্থাপন যারা শংকার সৃষ্টি করছে তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে:– দক্ষিণ আগ্রাবাদে গণসংযোগকালে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী…

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:02:33 pm, Saturday, 28 August 2021
  • 226 বার পড়া হয়েছে

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

লিখন আহমেদ, জেলা প্রতিনিধি।।

ষড় ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষাকাল অন্যতম। এ সময় নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড় ও দিঘি পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। আর সেসব জায়গায় ফোটে নানা রকম ফুল। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা অন্যতম।
বর্ষাকালে প্রকৃতি তার আসল রূপে ধরা দেয়। এ সময় নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড় ও দিঘি পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। চারপাশের প্রকৃতি আরও সবুজ হয়ে ওঠে। গাছে গাছে ফোটে রং-বেরঙের ফুল-ফল। ঠিক তেমনই বর্ষায় পানিতে পরিপূর্ণ খাল-বিল, হাওর-বাওড়ে ফোটে লাল, সাদা, হলুদ রঙের বাহারি শাপলা।

নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার প্রতি আর্কষণ নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের খালে-বিলে ফোটত বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা। এর মধ্যে লাল শাপলা অত্যন্ত সৌন্দর্যের আর্কষণ। রাস্তার ধারে বিলে বা পুকুরে লাল শাপলা দেখে পথচারীরা পুলকিত হতেন। অনেকে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে এক নজর দেখে নিতেন নয়নাভিরাম লাল শাপলার সেই দৃশ্য। কেউ কেউ আবার লাল শাপলা তুলে মালা বানিয়ে গলায় পরে আনন্দ পেতেন।
বর্ষা মৌসুম এলেই রূপগঞ্জের বিল-ঝিল, পুকুর-ডোবা, জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিত লাল শাপলা।বর্ষাকালে প্রথম দেখা মিলত এ শাপলার। এরপরে শরৎকালে নালা ও ডোবায় দেখা যেত এ ফুল। বসন্তের শেষ পর্যন্ত নিচু জমি ও বড় পুকুরে এ ফুল শোভা পেত। লাল শাপলাকে ইংরেজিতে জবফ ধিঃবৎ ষরষু বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঘুসঢ়যধবধ ৎঁনৎধ। এটা একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।

দূর থেকেই চোখে পড়বে লাল আর সবুজের মাখামাখি। কাছে গেলে স্পষ্ট হবে শাপলা ফুলের এক প্রাকৃতিক স্বর্গ। দেখেই চোখ জুড়িয়ে যাবে। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে থাকা হাজার হাজার লাল শাপলা দেখতে কার না ভালো লাগে!
জাতীয় ফুল শাপলার প্রেমে পড়েনি এমন কেউই হয়তো নেই! দিগন্ত বিস্তৃত বিলে ফুটে আছে শাপলা। এ যেন প্রকৃতির এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। বর্ষায় শাপলার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখতে বেশি দূরে যেতে হবে না। ঢাকার অদূরেই প্রকৃতির কোলে ফুটে আছে হাজারো পদ্মফুল।

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য
ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

সূর্যের সোনালি আভা শাপলাপাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় এই বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।
শাপলা ফুল ভোর বেলা ফোটে এবং দিনের আলো বাড়ার সাথে সাথে পাঁপড়ি বুজে যায়। সরাসরি কা- ও মূলের সাথে যুক্ত থাকে ফুল। শাপলার পাতা আর ফুলের কা- পানির নিচে মূলের সাথে যুক্ত থাকে। আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির উপর ভেসে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতা জন্ম নেয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয়, কিন্তু নিচের দিকে কালো রঙ। ভাসমান পাতাগুলোর চারদিক ধারালো হয়। শাপলা ফুল নানা রংয়ের দেখা যায়। সাদা শাপলা দেশের জাতীয় ফুল। তবে রূপগঞ্জে রয়েছে লাল শাপলার এক বিশাল সমাহার।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার শিমুলিয়া গ্রামের সৌন্দর্য বর্তমানে বাড়িয়ে দিয়েছে লাল শাপলা। ঐ এলাকার খাল-বিলগুলো এখন প্রায় শাপলাতেই পরিপূর্ণ। যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। কেউ নিজ হাতে শাপলা উঠাতে নৌকা নিয়ে হানা দেয় বিলে।
রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া এলাকার জহির মিয়া বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে লাল শাপলা ফুল দেখতে পরিবারের সবাই চলে আসি এখানে। শিমুলিয়া গ্রামটি রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের পাশে। এই জায়গাটিকে সবাই লাল শাপলা বিল বলে চিনলেও এই জায়গাটির নাম শিমুলিয়া কুলাদি বিল। বর্ষা মৌসুমে যখন লাল শাপলা ফুল ফোটে, তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে এই লাল শাপলা ফুল দেখতে।
.আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলা ফুলের দেখা মিলে। আর এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে হলে খুব সকাল সকাল আসতে হয়। সূর্য উঠার পরে ফুলের সৌন্দর্য অতটা আর পাওয়া যায় না। সেখানে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা রয়েছে, চাইলে সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেন ঘণ্টা চুক্তিতে।
লাল, সাদা ও বেগুনি এই তিন রঙের শাপলার দেখা মেলে এ বিলে। তবে লাল শাপলাই বেশি। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলার প্রকৃত সৌন্দর্যের দেখা মেলে। তবে জুলাই মাস শেষে যাওয়াই ভালো, কারণ এ সময়ে শাপলা মাত্র ফুটতে শুরু করে। সেখানে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা আছে, চাইলে সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেন ঘণ্টা চুক্তিতে।
শিমুলিয়া গ্রামে কয়েকটি লাল শাপলা ফুলের বিল আছে। এসব বিলে তিন ধরনের লাল শাপলা ফুল দেখতে পাওয়া যায়। আর এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে হলে খুব সকাল সকাল আসতে হয়। সূর্য উঠার পরে ফুলের সৌন্দর্য অতটা আর পাওয়া যায় না।
রাজধানীর কুড়িল বাসস্টপ থেকে কাঞ্চন ব্রীজ যেতে কার ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা জন প্রতি। অথবা এসি বিআরটিসি বাসে ৯০ টাকা জন প্রতি কাঞ্চন ব্রীজে পৌঁছাতে পারবেন। সেখান থেকে শিমুলিয়ায় যেতে অটো রিক্সা ভাড়া পড়বে ২০/২৫ টাকা জনপ্রতি। বলতে হবে শিমুলিয়া কুলাদি বিল/শাপলা বিল যাবো।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

আপডেট সময় : 05:02:33 pm, Saturday, 28 August 2021

লিখন আহমেদ, জেলা প্রতিনিধি।।

ষড় ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষাকাল অন্যতম। এ সময় নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড় ও দিঘি পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। আর সেসব জায়গায় ফোটে নানা রকম ফুল। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা অন্যতম।
বর্ষাকালে প্রকৃতি তার আসল রূপে ধরা দেয়। এ সময় নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড় ও দিঘি পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। চারপাশের প্রকৃতি আরও সবুজ হয়ে ওঠে। গাছে গাছে ফোটে রং-বেরঙের ফুল-ফল। ঠিক তেমনই বর্ষায় পানিতে পরিপূর্ণ খাল-বিল, হাওর-বাওড়ে ফোটে লাল, সাদা, হলুদ রঙের বাহারি শাপলা।

নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার প্রতি আর্কষণ নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের খালে-বিলে ফোটত বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা। এর মধ্যে লাল শাপলা অত্যন্ত সৌন্দর্যের আর্কষণ। রাস্তার ধারে বিলে বা পুকুরে লাল শাপলা দেখে পথচারীরা পুলকিত হতেন। অনেকে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে এক নজর দেখে নিতেন নয়নাভিরাম লাল শাপলার সেই দৃশ্য। কেউ কেউ আবার লাল শাপলা তুলে মালা বানিয়ে গলায় পরে আনন্দ পেতেন।
বর্ষা মৌসুম এলেই রূপগঞ্জের বিল-ঝিল, পুকুর-ডোবা, জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিত লাল শাপলা।বর্ষাকালে প্রথম দেখা মিলত এ শাপলার। এরপরে শরৎকালে নালা ও ডোবায় দেখা যেত এ ফুল। বসন্তের শেষ পর্যন্ত নিচু জমি ও বড় পুকুরে এ ফুল শোভা পেত। লাল শাপলাকে ইংরেজিতে জবফ ধিঃবৎ ষরষু বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঘুসঢ়যধবধ ৎঁনৎধ। এটা একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।

দূর থেকেই চোখে পড়বে লাল আর সবুজের মাখামাখি। কাছে গেলে স্পষ্ট হবে শাপলা ফুলের এক প্রাকৃতিক স্বর্গ। দেখেই চোখ জুড়িয়ে যাবে। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে থাকা হাজার হাজার লাল শাপলা দেখতে কার না ভালো লাগে!
জাতীয় ফুল শাপলার প্রেমে পড়েনি এমন কেউই হয়তো নেই! দিগন্ত বিস্তৃত বিলে ফুটে আছে শাপলা। এ যেন প্রকৃতির এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। বর্ষায় শাপলার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখতে বেশি দূরে যেতে হবে না। ঢাকার অদূরেই প্রকৃতির কোলে ফুটে আছে হাজারো পদ্মফুল।

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য
ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

সূর্যের সোনালি আভা শাপলাপাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় এই বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।
শাপলা ফুল ভোর বেলা ফোটে এবং দিনের আলো বাড়ার সাথে সাথে পাঁপড়ি বুজে যায়। সরাসরি কা- ও মূলের সাথে যুক্ত থাকে ফুল। শাপলার পাতা আর ফুলের কা- পানির নিচে মূলের সাথে যুক্ত থাকে। আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির উপর ভেসে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতা জন্ম নেয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয়, কিন্তু নিচের দিকে কালো রঙ। ভাসমান পাতাগুলোর চারদিক ধারালো হয়। শাপলা ফুল নানা রংয়ের দেখা যায়। সাদা শাপলা দেশের জাতীয় ফুল। তবে রূপগঞ্জে রয়েছে লাল শাপলার এক বিশাল সমাহার।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার শিমুলিয়া গ্রামের সৌন্দর্য বর্তমানে বাড়িয়ে দিয়েছে লাল শাপলা। ঐ এলাকার খাল-বিলগুলো এখন প্রায় শাপলাতেই পরিপূর্ণ। যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। কেউ নিজ হাতে শাপলা উঠাতে নৌকা নিয়ে হানা দেয় বিলে।
রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া এলাকার জহির মিয়া বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে লাল শাপলা ফুল দেখতে পরিবারের সবাই চলে আসি এখানে। শিমুলিয়া গ্রামটি রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের পাশে। এই জায়গাটিকে সবাই লাল শাপলা বিল বলে চিনলেও এই জায়গাটির নাম শিমুলিয়া কুলাদি বিল। বর্ষা মৌসুমে যখন লাল শাপলা ফুল ফোটে, তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে এই লাল শাপলা ফুল দেখতে।
.আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলা ফুলের দেখা মিলে। আর এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে হলে খুব সকাল সকাল আসতে হয়। সূর্য উঠার পরে ফুলের সৌন্দর্য অতটা আর পাওয়া যায় না। সেখানে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা রয়েছে, চাইলে সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেন ঘণ্টা চুক্তিতে।
লাল, সাদা ও বেগুনি এই তিন রঙের শাপলার দেখা মেলে এ বিলে। তবে লাল শাপলাই বেশি। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলার প্রকৃত সৌন্দর্যের দেখা মেলে। তবে জুলাই মাস শেষে যাওয়াই ভালো, কারণ এ সময়ে শাপলা মাত্র ফুটতে শুরু করে। সেখানে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা আছে, চাইলে সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেন ঘণ্টা চুক্তিতে।
শিমুলিয়া গ্রামে কয়েকটি লাল শাপলা ফুলের বিল আছে। এসব বিলে তিন ধরনের লাল শাপলা ফুল দেখতে পাওয়া যায়। আর এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে হলে খুব সকাল সকাল আসতে হয়। সূর্য উঠার পরে ফুলের সৌন্দর্য অতটা আর পাওয়া যায় না।
রাজধানীর কুড়িল বাসস্টপ থেকে কাঞ্চন ব্রীজ যেতে কার ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা জন প্রতি। অথবা এসি বিআরটিসি বাসে ৯০ টাকা জন প্রতি কাঞ্চন ব্রীজে পৌঁছাতে পারবেন। সেখান থেকে শিমুলিয়ায় যেতে অটো রিক্সা ভাড়া পড়বে ২০/২৫ টাকা জনপ্রতি। বলতে হবে শিমুলিয়া কুলাদি বিল/শাপলা বিল যাবো।