Dhaka , Wednesday, 18 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রাউজান থানা পুলিশের অভিযানে ০৯ জন আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার টাঙ্গাইলে ঈদ বাজারে ক্রেতা কম, বিপাকে ব্যবসায়ীরা ঝড়ের রাতে চরে আটকা লঞ্চ, ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার শতাধিক যাত্রী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল টাঙ্গাইলে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পথশিশুদের আইন দিয়ে নয় আদর দিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনুন:- আমীরুল ইসলাম ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেলায় সরকারিভাবে সংগৃহীত যাকাত ফান্ড হতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে চেক বিতরণ মির্জাপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর ইটভাটায় যুবদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু ঈদ উপলক্ষে রেলপথে তীব্র ভিড়, আসন না পেয়ে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করছেন মানুষ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি ভুক্তভোগীর রূপগঞ্জে সাংবাদিকদের হুমকি-অপহরণে নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের উদ্বেগ শরীয়াতপুরের পদ্মার বুকে ভাসমান মরদেহ, রহস্যে ঘেরা অজ্ঞাত তরুণের মৃত্যু লালমনিরহাটে পৌর কাউন্সিলর কল্যাণ পরিষদ গঠিত, সভাপতি সালাম, সম্পাদক সেনা নিলক্ষা ইউনিয়নের বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠিতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, তিন দিনের মধ্যে জবাবের নির্দেশ ঝালকাঠিতে বন বিভাগের গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে জুয়েলার্স ব্যবসায়ী অপহরণ, উদ্ধারে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মধুপুরে ৩ মাদক কারবারিকে ১ বছরের কারাদণ্ড রূপগঞ্জে পথচারী ও চালকদের মাঝে ইফতার বিতরণ পাইকগাছায় অনুমোদনহীন ক্লিনিকে অভিযান; জরিমানা ও কারাদণ্ড বিজিবির ধাওয়া খেয়ে গাঁজা ফেলে পালালো চোরাকারবারী: অনন্তপুর সীমান্তে বড় সাফল্য মেহনতি মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী, চট্টগ্রামে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করলেন ডা. শাহাদাত রূপগঞ্জে বরিশাল ও চাঁদপুরগামী যাত্রীদের বিকল্প নৌপথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘরমুখী ও কর্মজীবী যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর- নৌ-পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারালেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবা চট্টগ্রামের নতুন ডিআইজি মনিরুজ্জামান, সিএমপি’র নতুন কমিশনার শওকত আলী বুড়িমারী স্থলবন্দরে ১১ দিনের বিরতি: বন্ধ থাকছে আমদানি-রপ্তানি স্বপ্ন কেড়ে নিল ঘাতক ট্রাক: পাটগ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যের করুণ মৃত্যু বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য রমজানের উপহার পাঠালেন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন চন্দনাইশে ফসলি জমির টপসয়েল কাটায় প্রশাসনের অভিযান: এসকেভেটর জব্দ নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন সিএমপি কমিশনার

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:02:33 pm, Saturday, 28 August 2021
  • 234 বার পড়া হয়েছে

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

লিখন আহমেদ, জেলা প্রতিনিধি।।

ষড় ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষাকাল অন্যতম। এ সময় নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড় ও দিঘি পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। আর সেসব জায়গায় ফোটে নানা রকম ফুল। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা অন্যতম।
বর্ষাকালে প্রকৃতি তার আসল রূপে ধরা দেয়। এ সময় নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড় ও দিঘি পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। চারপাশের প্রকৃতি আরও সবুজ হয়ে ওঠে। গাছে গাছে ফোটে রং-বেরঙের ফুল-ফল। ঠিক তেমনই বর্ষায় পানিতে পরিপূর্ণ খাল-বিল, হাওর-বাওড়ে ফোটে লাল, সাদা, হলুদ রঙের বাহারি শাপলা।

নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার প্রতি আর্কষণ নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের খালে-বিলে ফোটত বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা। এর মধ্যে লাল শাপলা অত্যন্ত সৌন্দর্যের আর্কষণ। রাস্তার ধারে বিলে বা পুকুরে লাল শাপলা দেখে পথচারীরা পুলকিত হতেন। অনেকে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে এক নজর দেখে নিতেন নয়নাভিরাম লাল শাপলার সেই দৃশ্য। কেউ কেউ আবার লাল শাপলা তুলে মালা বানিয়ে গলায় পরে আনন্দ পেতেন।
বর্ষা মৌসুম এলেই রূপগঞ্জের বিল-ঝিল, পুকুর-ডোবা, জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিত লাল শাপলা।বর্ষাকালে প্রথম দেখা মিলত এ শাপলার। এরপরে শরৎকালে নালা ও ডোবায় দেখা যেত এ ফুল। বসন্তের শেষ পর্যন্ত নিচু জমি ও বড় পুকুরে এ ফুল শোভা পেত। লাল শাপলাকে ইংরেজিতে জবফ ধিঃবৎ ষরষু বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঘুসঢ়যধবধ ৎঁনৎধ। এটা একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।

দূর থেকেই চোখে পড়বে লাল আর সবুজের মাখামাখি। কাছে গেলে স্পষ্ট হবে শাপলা ফুলের এক প্রাকৃতিক স্বর্গ। দেখেই চোখ জুড়িয়ে যাবে। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে থাকা হাজার হাজার লাল শাপলা দেখতে কার না ভালো লাগে!
জাতীয় ফুল শাপলার প্রেমে পড়েনি এমন কেউই হয়তো নেই! দিগন্ত বিস্তৃত বিলে ফুটে আছে শাপলা। এ যেন প্রকৃতির এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। বর্ষায় শাপলার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখতে বেশি দূরে যেতে হবে না। ঢাকার অদূরেই প্রকৃতির কোলে ফুটে আছে হাজারো পদ্মফুল।

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য
ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

সূর্যের সোনালি আভা শাপলাপাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় এই বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।
শাপলা ফুল ভোর বেলা ফোটে এবং দিনের আলো বাড়ার সাথে সাথে পাঁপড়ি বুজে যায়। সরাসরি কা- ও মূলের সাথে যুক্ত থাকে ফুল। শাপলার পাতা আর ফুলের কা- পানির নিচে মূলের সাথে যুক্ত থাকে। আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির উপর ভেসে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতা জন্ম নেয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয়, কিন্তু নিচের দিকে কালো রঙ। ভাসমান পাতাগুলোর চারদিক ধারালো হয়। শাপলা ফুল নানা রংয়ের দেখা যায়। সাদা শাপলা দেশের জাতীয় ফুল। তবে রূপগঞ্জে রয়েছে লাল শাপলার এক বিশাল সমাহার।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার শিমুলিয়া গ্রামের সৌন্দর্য বর্তমানে বাড়িয়ে দিয়েছে লাল শাপলা। ঐ এলাকার খাল-বিলগুলো এখন প্রায় শাপলাতেই পরিপূর্ণ। যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। কেউ নিজ হাতে শাপলা উঠাতে নৌকা নিয়ে হানা দেয় বিলে।
রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া এলাকার জহির মিয়া বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে লাল শাপলা ফুল দেখতে পরিবারের সবাই চলে আসি এখানে। শিমুলিয়া গ্রামটি রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের পাশে। এই জায়গাটিকে সবাই লাল শাপলা বিল বলে চিনলেও এই জায়গাটির নাম শিমুলিয়া কুলাদি বিল। বর্ষা মৌসুমে যখন লাল শাপলা ফুল ফোটে, তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে এই লাল শাপলা ফুল দেখতে।
.আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলা ফুলের দেখা মিলে। আর এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে হলে খুব সকাল সকাল আসতে হয়। সূর্য উঠার পরে ফুলের সৌন্দর্য অতটা আর পাওয়া যায় না। সেখানে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা রয়েছে, চাইলে সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেন ঘণ্টা চুক্তিতে।
লাল, সাদা ও বেগুনি এই তিন রঙের শাপলার দেখা মেলে এ বিলে। তবে লাল শাপলাই বেশি। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলার প্রকৃত সৌন্দর্যের দেখা মেলে। তবে জুলাই মাস শেষে যাওয়াই ভালো, কারণ এ সময়ে শাপলা মাত্র ফুটতে শুরু করে। সেখানে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা আছে, চাইলে সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেন ঘণ্টা চুক্তিতে।
শিমুলিয়া গ্রামে কয়েকটি লাল শাপলা ফুলের বিল আছে। এসব বিলে তিন ধরনের লাল শাপলা ফুল দেখতে পাওয়া যায়। আর এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে হলে খুব সকাল সকাল আসতে হয়। সূর্য উঠার পরে ফুলের সৌন্দর্য অতটা আর পাওয়া যায় না।
রাজধানীর কুড়িল বাসস্টপ থেকে কাঞ্চন ব্রীজ যেতে কার ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা জন প্রতি। অথবা এসি বিআরটিসি বাসে ৯০ টাকা জন প্রতি কাঞ্চন ব্রীজে পৌঁছাতে পারবেন। সেখান থেকে শিমুলিয়ায় যেতে অটো রিক্সা ভাড়া পড়বে ২০/২৫ টাকা জনপ্রতি। বলতে হবে শিমুলিয়া কুলাদি বিল/শাপলা বিল যাবো।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাউজান থানা পুলিশের অভিযানে ০৯ জন আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

আপডেট সময় : 05:02:33 pm, Saturday, 28 August 2021

লিখন আহমেদ, জেলা প্রতিনিধি।।

ষড় ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষাকাল অন্যতম। এ সময় নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড় ও দিঘি পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। আর সেসব জায়গায় ফোটে নানা রকম ফুল। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা অন্যতম।
বর্ষাকালে প্রকৃতি তার আসল রূপে ধরা দেয়। এ সময় নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড় ও দিঘি পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। চারপাশের প্রকৃতি আরও সবুজ হয়ে ওঠে। গাছে গাছে ফোটে রং-বেরঙের ফুল-ফল। ঠিক তেমনই বর্ষায় পানিতে পরিপূর্ণ খাল-বিল, হাওর-বাওড়ে ফোটে লাল, সাদা, হলুদ রঙের বাহারি শাপলা।

নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার প্রতি আর্কষণ নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের খালে-বিলে ফোটত বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা। এর মধ্যে লাল শাপলা অত্যন্ত সৌন্দর্যের আর্কষণ। রাস্তার ধারে বিলে বা পুকুরে লাল শাপলা দেখে পথচারীরা পুলকিত হতেন। অনেকে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে এক নজর দেখে নিতেন নয়নাভিরাম লাল শাপলার সেই দৃশ্য। কেউ কেউ আবার লাল শাপলা তুলে মালা বানিয়ে গলায় পরে আনন্দ পেতেন।
বর্ষা মৌসুম এলেই রূপগঞ্জের বিল-ঝিল, পুকুর-ডোবা, জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিত লাল শাপলা।বর্ষাকালে প্রথম দেখা মিলত এ শাপলার। এরপরে শরৎকালে নালা ও ডোবায় দেখা যেত এ ফুল। বসন্তের শেষ পর্যন্ত নিচু জমি ও বড় পুকুরে এ ফুল শোভা পেত। লাল শাপলাকে ইংরেজিতে জবফ ধিঃবৎ ষরষু বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঘুসঢ়যধবধ ৎঁনৎধ। এটা একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।

দূর থেকেই চোখে পড়বে লাল আর সবুজের মাখামাখি। কাছে গেলে স্পষ্ট হবে শাপলা ফুলের এক প্রাকৃতিক স্বর্গ। দেখেই চোখ জুড়িয়ে যাবে। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে থাকা হাজার হাজার লাল শাপলা দেখতে কার না ভালো লাগে!
জাতীয় ফুল শাপলার প্রেমে পড়েনি এমন কেউই হয়তো নেই! দিগন্ত বিস্তৃত বিলে ফুটে আছে শাপলা। এ যেন প্রকৃতির এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। বর্ষায় শাপলার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখতে বেশি দূরে যেতে হবে না। ঢাকার অদূরেই প্রকৃতির কোলে ফুটে আছে হাজারো পদ্মফুল।

ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য
ঢাকার পাশেই লাল শাপলার রাজ্য

সূর্যের সোনালি আভা শাপলাপাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় এই বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।
শাপলা ফুল ভোর বেলা ফোটে এবং দিনের আলো বাড়ার সাথে সাথে পাঁপড়ি বুজে যায়। সরাসরি কা- ও মূলের সাথে যুক্ত থাকে ফুল। শাপলার পাতা আর ফুলের কা- পানির নিচে মূলের সাথে যুক্ত থাকে। আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির উপর ভেসে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতা জন্ম নেয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয়, কিন্তু নিচের দিকে কালো রঙ। ভাসমান পাতাগুলোর চারদিক ধারালো হয়। শাপলা ফুল নানা রংয়ের দেখা যায়। সাদা শাপলা দেশের জাতীয় ফুল। তবে রূপগঞ্জে রয়েছে লাল শাপলার এক বিশাল সমাহার।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার শিমুলিয়া গ্রামের সৌন্দর্য বর্তমানে বাড়িয়ে দিয়েছে লাল শাপলা। ঐ এলাকার খাল-বিলগুলো এখন প্রায় শাপলাতেই পরিপূর্ণ। যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। কেউ নিজ হাতে শাপলা উঠাতে নৌকা নিয়ে হানা দেয় বিলে।
রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া এলাকার জহির মিয়া বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে লাল শাপলা ফুল দেখতে পরিবারের সবাই চলে আসি এখানে। শিমুলিয়া গ্রামটি রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের পাশে। এই জায়গাটিকে সবাই লাল শাপলা বিল বলে চিনলেও এই জায়গাটির নাম শিমুলিয়া কুলাদি বিল। বর্ষা মৌসুমে যখন লাল শাপলা ফুল ফোটে, তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে এই লাল শাপলা ফুল দেখতে।
.আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলা ফুলের দেখা মিলে। আর এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে হলে খুব সকাল সকাল আসতে হয়। সূর্য উঠার পরে ফুলের সৌন্দর্য অতটা আর পাওয়া যায় না। সেখানে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা রয়েছে, চাইলে সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেন ঘণ্টা চুক্তিতে।
লাল, সাদা ও বেগুনি এই তিন রঙের শাপলার দেখা মেলে এ বিলে। তবে লাল শাপলাই বেশি। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলার প্রকৃত সৌন্দর্যের দেখা মেলে। তবে জুলাই মাস শেষে যাওয়াই ভালো, কারণ এ সময়ে শাপলা মাত্র ফুটতে শুরু করে। সেখানে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা আছে, চাইলে সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেন ঘণ্টা চুক্তিতে।
শিমুলিয়া গ্রামে কয়েকটি লাল শাপলা ফুলের বিল আছে। এসব বিলে তিন ধরনের লাল শাপলা ফুল দেখতে পাওয়া যায়। আর এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে হলে খুব সকাল সকাল আসতে হয়। সূর্য উঠার পরে ফুলের সৌন্দর্য অতটা আর পাওয়া যায় না।
রাজধানীর কুড়িল বাসস্টপ থেকে কাঞ্চন ব্রীজ যেতে কার ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা জন প্রতি। অথবা এসি বিআরটিসি বাসে ৯০ টাকা জন প্রতি কাঞ্চন ব্রীজে পৌঁছাতে পারবেন। সেখান থেকে শিমুলিয়ায় যেতে অটো রিক্সা ভাড়া পড়বে ২০/২৫ টাকা জনপ্রতি। বলতে হবে শিমুলিয়া কুলাদি বিল/শাপলা বিল যাবো।