
মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ,
ঢাকার ধামরাইয়ে বাড়ির জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত মারধরের ঘটনায় মান্নান মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এলাকায় ঘটনাটি ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোমবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মান্নান মিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি ধামরাই উপজেলার কুশরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামের মৃত জয়নুদ্দিনের ছেলে।
ঘটনায় আহতরা হলেন—
জুয়েল (৪০)
তার স্ত্রী রুমা বেগম (৩২)
তাদের ছেলে আলামিন (১৬)
আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মান্নান মিয়ার সঙ্গে তার ভাই নেওয়াজ আলীর পরিবারের দীর্ঘদিনের জমির সীমানা বিরোধ নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা সংঘর্ষে গড়ায়।
সংঘর্ষের সময় মান্নান মিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালেই তিনি মারা যান।
নিহতের কন্যা রুমা বেগম অভিযোগ করে বলেন,
“বাড়ির জমি নিয়ে বৃহস্পতিবার আমাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে শনিবার আমার স্বামী ও বাবা এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। আমি ও আমার ছেলে তাদের বাঁচাতে গেলে আমাদেরও মারধর করা হয়। পরে বাবাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।”
তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

























