
উৎপল রক্ষিত,
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে ওঠার কথা ছিল টাঙ্গাইলের শপিংমল ও বাজারগুলো। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। আজ মংগলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন বিপণিবিতানে ঈদের কেনাকাটায় তেমন ভিড় নেই। ফলে বিক্রি কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
টাঙ্গাইল প্লাজা, নিরালা মোড়সহ শহরের প্রধান শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দোকান মালিকরা।
টাঙ্গাইল প্লাজার ‘শ্রীনিকেতন’-এর এক স্বত্বাধিকারী আনন্দ সাহা জানান, “এটি আমাদের অনেক পুরনো ব্যবসা। আমরা নিজেরাই কারিগরের মাধ্যমে অধিকাংশ শাড়ি উৎপাদন করে বিক্রি করি । এছাড়া কিছু পণ্য স্থানীয় বাজার, করটিয়া ও পাথরাইল থেকে সংগ্রহ করি। আমাদের টাংগাইলের শাড়ী রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে , বিদেশেও রপ্তানি হয়। কিন্তু এবার ঈদের বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। সামনে আর দুই-তিন দিন সময় আছে, এই সময়ে কাঙ্ক্ষিত বিক্রি না হলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়তে হবে।”
একই চিত্র পাথরাইল এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। সেখানকার ব্যবসায়ী উত্তম বসাক বলেন, “আগের বছরের তুলনায় এবার এখন পর্যন্ত বিক্রি অনেক কম। ক্রেতারা বাজারে এলেও কেনাকাটা কম করছে।”
এদিকে ‘প্রান্ত শার্ট গ্যালারি’র স্বত্বাধিকারী আঃ সাত্তার জানান, “এবার ঈদের বাজার মন্দার অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ। এর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, যার প্রভাব সরাসরি আমাদের ব্যবসায় পড়ছে।”
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে ক্ষতির মুখে পড়বেন অনেকেই—এমনটাই শঙ্কা তাদের।
























