
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
জামায়াতে ইসলামীর ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের সমগ্র আসনগুলোতে দাঁড়িপাল্লার জয়জয়কার হবে ১১ দলীয় জোটের। যেখানে যে মার্কা থাকবে, সেখানেই জয়জয়কার হবে। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য, ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের মানচিত্র রক্ষা করার জন্য এবং এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের লড়াই চলবে—ইনশাল্লাহ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারী) বিকেলে রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গালুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ এনাম হোসাইন, সেক্রেটারি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এনসিপির নেতা মোহাম্মদ আহাদ সিকদারসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ড. ফয়জুল হক বলেন, আল্লাহ পাক আপনাদের জন্য ৯০ শতাংশ রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। এখন মাত্র ১০ শতাংশ কাজ আমাদের জন্য বাকি রেখে দিয়েছেন। আর সেই ১০ শতাংশ কাজের জন্যই আজ এখানে কর্মীদের নিয়ে এই মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কী বারাকা—আমরা কর্মীদের ডাকছিলাম, অথচ জনগণ এসে বক্তব্য শুনছে।
তিনি বলেন, এর প্রমাণ হলো—কোনো ভোট ডাকাত, কোনো চোর, কোনো সন্ত্রাসী, কোনো চাঁদাবাজ ও কোনো দুর্নীতিবাজের স্থান রাজাপুর-কাঠালিয়ায় হবে না, ইনশাল্লাহ। আমরা রাজাপুর-কাঠালিয়াকে শান্তিপূর্ণ রাখতে চাই এবং ন্যায় ও ইনসাফের রাষ্ট্র গড়তে চাই।
ইনসাফের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একজন লোক আমাকে পছন্দ করে না, দেখলে আমাকে গালি দেয়; কিন্তু তিনি আমার যত বড় শত্রুই হোন না কেন, সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ তার প্রাপ্য অনুযায়ী সঠিকভাবে ভাগ করে দেবো। এটার নামই ন্যায় ও ইনসাফ।
ড. ফয়জুল হক দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বর্তমানে নাম্বার ওয়ান দল হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে যে দল ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে, সেই দলই বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান দল। ১৬ বা ৩০ বছর আগের ইতিহাস দেখিয়ে নাম্বার ওয়ান দাবি করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর চেয়ার সরাতে চাইলে আরও পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়ী হয়ে প্রমাণ দিতে হবে। এরপরই বলা যাবে আমরা সমান হয়েছি।
জুলাই আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, যারা আন্দোলন করেছে তারা মায়ের মায়া ও বাবার মায়া ত্যাগ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিল। সেই সুন্দর বাংলাদেশ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, চরমোনাই, হেফাজত কিংবা জামায়াত—যে দলের লোকই হোক, ভালো মানুষ হলে তাকে সম্মান করা হবে। আর কেউ টাউট হলে, সে নিজের দলের হলেও কোনো সম্মান পাবে না।
ড. ফয়জুল হক বলেন, এই অঞ্চল আমার এবং এখানকার প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্যই তিনি এমপি হতে চান। তিনি রাজনীতি করতে এসেছেন কৃষক, রিকশাচালক, সবজি বিক্রেতা ও সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার আগে দেখতে হবে প্রার্থী চোর, দুর্নীতিবাজ কিংবা লুটেরাজ কিনা—শুধু তা নয়; দেখতে হবে তার শিক্ষা, বংশ, জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।
ভোট চুরি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কেউ ভোট ডাকাতির চিন্তা করবেন না। ভোট সেন্টারে যদি প্রথম রক্ত দেয়, সেটা হবে ড. ফয়জুল হক। তিনি বলেন, তিনি এই অঞ্চলে ভিসা নিয়ে আসেননি।
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতাকে অনৈতিকভাবে গ্রেফতার করা যাবে না এবং শত্রু হলেও কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
যুব সমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুবকদের শুধু বেতন দিয়ে ঘরে বসিয়ে রাখলে লাভ হবে না। এক হাতে সার্টিফিকেট আর অন্য হাতে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, মা-বোনেরা গার্মেন্টস, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কর্মস্থলে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করবে। রাস্তাঘাটে ইভটিজিং করার সাহস কেউ পাবে না।

























