
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নে এক আবেগঘন মুহূর্তে বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কারাবন্দী নেতা রাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দর। তবে জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় তাঁর পায়ে ছিল ডান্ডাবেড়ি। ছাত্রলীগের ওই নেতা সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সুবিদপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামে রাকিবুল ইসলামের বাবা মোশাররফ জোমাদ্দরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। জানাজা শেষে তাঁকে আবার পুলিশের পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাকিবুল ইসলাম প্রায় এক মাস ধরে কারাগারে বন্দী ছিলেন। গতকাল সকালে তাঁর বাবার মৃত্যু হলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে প্যারোলের আবেদন করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রাকিবুলকে জানাজায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এ সময় রাকিবুল ইসলাম পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিহিত অবস্থায় জানাজায় অংশ নেন, তবে হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল না। জানাজার পর দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পুলিশি পাহারায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম জানান, ‘‘পরিবারের আবেদনের পর প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে রাকিবুল ইসলামকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। পুরো সময় তিনি পুলিশের পাহারায় ছিলেন এবং যথাসময়ে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
জানাজার সময়ও আসামিকে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় রাখা প্রসঙ্গে ওসি জানান, ‘‘জানাজার সময় রাকিবুলের পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো ছিল, কারণ প্যারোলে মুক্তির জন্য ১২ ঘণ্টার বেশি সময় দেয়া সম্ভব নয়। কারাগার থেকে আসামিকে যে অবস্থায় মুক্তি দেওয়া হয়, আবার সেই অবস্থাতেই তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তাই ডান্ডাবেড়ি খুলে দেয়ার সুযোগ নেই।’’
এদিকে, নলছিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনীক রহমান সরদার বলেছেন, ‘‘পিতৃবিয়োগ একজন সন্তানের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে প্যারোলে এসে জানাজায় অংশ নেওয়া নিঃসন্দেহে আবেগঘন মুহূর্ত। আমরা রাকিবুলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’’
























