Dhaka , Saturday, 28 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
লালমনিরহাটকে ‘আলোকিত জেলা’ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু কলা গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা! মোংলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম একই পরিবারের ৪জনের মৃত্যু…..সড়কে নিভে গেল মাদরাসা শিক্ষকের সুখের সংসার সৌদিতে স্ট্রোক করে বাংলাদেশির মৃত্যু   গাকৃবিতে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন তুরাগ তীরে পুণ্যস্নানের মহামিলন সরাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালিত যথাযোগ্য মর্যাদায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বিভাগীয় কমিশনার স্বাধীনতা দিবসে বিপ্লব উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে ডা. শাহাদাত হোসেন শহিদ জিয়ার ঘোষণা ও নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি মুক্তির লড়াই শুরু করেছিল: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল শহীদ জামালের কন্যার বিয়েতে ও ঢাবিতে উত্তীর্ণ জপেল চাকমাকে শুভেচ্ছা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রূপগঞ্জে ভূমিদস্যু আন্ডা রফিক এলাকায় ফেরায় কায়েতপাড়ায় আতঙ্ক রূপগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা রূপগঞ্জ পূর্বাচলে ভয়াবহ নৃশংসতা: একাধিক প্লটে ঘোড়া জবাই, উদ্ধার হাড়ের স্তুপ পাওনা টাকা না দেয়ায় ৯ মাসের শিশু অপহরন ; বিকাশে লেনাদেনার সময় গণধোলাই রূপগঞ্জে ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস বলে বিক্রি, জীবিত ১১ টি জবাই করার ৯টি ঘোড়া উদ্ধার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবস ও ঈদ পুনর্মিলনী উদযাপন নরসিংদীর পলাশে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন মধুপুরে ভূয়া পুলিশ অফিসার আটক ১৭ বছরের অরাজকতা দূর করে সিন্দুরমতি মেলায় ফিরল সম্প্রীতি: উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু স্বাধীনতা দিবসে জেলা পুলিশের নান্দনিক উদ্যোগ: পুলিশ লাইন্সে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সবুজের জয় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র সাঁড়াশি অভিযান: ৪ লাখ টাকার মাদক ও ভারতীয় স্বর্ণ শাড়ি জব্দ ইবির প্রবেশমুখে বেহাল সড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকার বিবর্ণ রঙ দেখে হতাশা প্রকাশ অভিভাবকদের ইবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে সন্তানদের নিরাপত্তার শঙ্কায় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জেলা গণঅধিকার পরিষদ উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল বীর শহীদের প্রতি জেলা পুলিশের শ্রদ্ধা ও পুস্পস্তবক অর্পণ গণহত্যা দিবসে মোংলা উপজেলা প্রশাসনের পুষ্পস্তবক অর্পণ  চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অটোরিকশায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায়, ২ জন নিহত

জন্মান্ধ শিক্ষক ইয়াহইয়া ছড়াচ্ছেন কোরআনের আলো।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:23:28 am, Wednesday, 9 October 2024
  • 113 বার পড়া হয়েছে

জন্মান্ধ শিক্ষক ইয়াহইয়া ছড়াচ্ছেন কোরআনের আলো।।

নোয়াখালী প্রতিনিধ।।

 

জন্ম থেকেই দু’চোখে দেখতে পাননা সিলেটের জন্তাপুর গ্রামের লুৎফুর রহমানের ছেলে হাফেজ মো.ইয়াহইয়া -২২-। তিনি পেশায় একজন মাদরাসা শিক্ষক।

তবে জন্মান্ধতা তার জীবনে কোনো বাধা হোতে পারেনি। এমনটা প্রমাণ করতে যেন তার লড়াইটা জীবনের প্রথম দিন থেকে শুরু। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কারো কাছে হাত না পেতে বিভিন্ন মাদরাসায় গত পাঁচ বছর যাবত শিক্ষকতা করে আসছেন। তার এমন চেষ্টায় অনুপ্রাণিত মাদরাসার শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। সে যেন নিজের অনুপ্রেরণা নিজেই।
২০০২ সালে জন্ম গ্রহণ করেন ইয়াহইয়া। জন্মান্ধ শিশুপুত্র ৷ জন্মের পরে তার বাবা-মাকে শুনতে হয়েছিল- এ ছেলে কী করবে?  অনুপ্রাণিত করতে কেউ আসেনি বাবা-মা ছাড়া ৷ বরং ছোটো থেকেই কপালে জুটেছে পাড়া-পড়শির ব্যঙ্গোক্তি ৷ সাত ভাই-বোনের মধ্যে সে পঞ্চম। ১২ বছর বয়সে হিফজ সম্পন্ন করেন। এর কয়েক করে বছর পর হিফজ বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। রীতিমত ছাত্রদের প্রিয় শিক্ষক হয়ে সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি হার মানেন নি। তিনি পেরেছেন প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে। তখন থেকেই বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে চলেছেন।
শৈশব থেকেই তার সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর ও অসাধারণ কুরআন তেলাওয়াত যে কাউকে মুগ্ধ করে।বর্তমানে তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের তা’মীরুল উম্মাহ হিফজুল কোরআন মাদরাসায় হিফ্জ বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। আজ তিনি কোরআনে হাফেজ বানানোর কারিগর ৷ এই মাদরাসায় তিনি প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫জন শিক্ষানবিশ হাফেজের ছবক নেন। অন্যান্য শিক্ষকের মত তিনি খুব সাধারণ ভাবে শিক্ষার্থীদের পড়া দেন এবং নেন। শিক্ষার্থীরাও তার পড়ায় সন্তুষ্ট।

হাফেজ ইয়াহইয়া পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেছেন বাগেরহাট আমতলী মাদরাসা ও পাবনার চাওতুল কোরআন মাদরাসায়। নিজের গ্রাম ও কর্মরত মাদরাসার সাথে তার নাড়ির সম্পর্ক। কারো সহযোগিতা ছাড়াই রাস্তাঘাটে চলাফেরা করেন। একা একা চলা ফেরা করেন বিভিন্ন স্থানে। গোসল থেকে খাবার সবই করেন নিজে হাতে কারো সাহায্য ছাড়া। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও অন্যদের থেকে সে পুরোপুরি আলাদা। সে নিজের সকল কাজ নিজে করতে পারে। কোরআন পড়া ও কোরআনের বিস্তারই তাঁর জীবনের সাধনা।

জন্মান্ধ শিক্ষক হাফেজ মো.ইয়াহইয়া বলেন, আমি ১২ বছর বয়সে হিফজ সম্পন্ন করি। জীবনের শুরু থেকে আমি পৃথিবীর কোন কিছু উপভোগ করতে পারছিনা। তবে মৃত্যু পর্যন্ত আমি কোরআনের সাথে থাকতে চাই।      

সুবর্ণচরের তা’মীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসার মুহতামিম এইচ- এম- নাছরুল্লাহ বলেন- দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা যে স্বপ্ন পূরণের জন্য বাধা নয় তার উজ্জল শিক্ষক ইয়াহইয়া। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও অবিরাম বিলিয়ে যাচ্ছেন কোরআনের আলো। দৃষ্টি তার সামনে এগোনোতে কোনো বাধা হতে পারেনি- উল্টো সে এক অনুপ্রেরণার নাম। ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী ইয়াহ ইয়াহ কারো বোঝা না হয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কোরআনের সাথে থাকতে চান। তার এ উদ্যম ও মনের শক্তি সমাজের প্রতিটি মানুষের কর্মজীবনকে প্রভাবিত করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।    

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটকে ‘আলোকিত জেলা’ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

জন্মান্ধ শিক্ষক ইয়াহইয়া ছড়াচ্ছেন কোরআনের আলো।।

আপডেট সময় : 06:23:28 am, Wednesday, 9 October 2024

নোয়াখালী প্রতিনিধ।।

 

জন্ম থেকেই দু’চোখে দেখতে পাননা সিলেটের জন্তাপুর গ্রামের লুৎফুর রহমানের ছেলে হাফেজ মো.ইয়াহইয়া -২২-। তিনি পেশায় একজন মাদরাসা শিক্ষক।

তবে জন্মান্ধতা তার জীবনে কোনো বাধা হোতে পারেনি। এমনটা প্রমাণ করতে যেন তার লড়াইটা জীবনের প্রথম দিন থেকে শুরু। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কারো কাছে হাত না পেতে বিভিন্ন মাদরাসায় গত পাঁচ বছর যাবত শিক্ষকতা করে আসছেন। তার এমন চেষ্টায় অনুপ্রাণিত মাদরাসার শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। সে যেন নিজের অনুপ্রেরণা নিজেই।
২০০২ সালে জন্ম গ্রহণ করেন ইয়াহইয়া। জন্মান্ধ শিশুপুত্র ৷ জন্মের পরে তার বাবা-মাকে শুনতে হয়েছিল- এ ছেলে কী করবে?  অনুপ্রাণিত করতে কেউ আসেনি বাবা-মা ছাড়া ৷ বরং ছোটো থেকেই কপালে জুটেছে পাড়া-পড়শির ব্যঙ্গোক্তি ৷ সাত ভাই-বোনের মধ্যে সে পঞ্চম। ১২ বছর বয়সে হিফজ সম্পন্ন করেন। এর কয়েক করে বছর পর হিফজ বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। রীতিমত ছাত্রদের প্রিয় শিক্ষক হয়ে সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি হার মানেন নি। তিনি পেরেছেন প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে। তখন থেকেই বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে চলেছেন।
শৈশব থেকেই তার সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর ও অসাধারণ কুরআন তেলাওয়াত যে কাউকে মুগ্ধ করে।বর্তমানে তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের তা’মীরুল উম্মাহ হিফজুল কোরআন মাদরাসায় হিফ্জ বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। আজ তিনি কোরআনে হাফেজ বানানোর কারিগর ৷ এই মাদরাসায় তিনি প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫জন শিক্ষানবিশ হাফেজের ছবক নেন। অন্যান্য শিক্ষকের মত তিনি খুব সাধারণ ভাবে শিক্ষার্থীদের পড়া দেন এবং নেন। শিক্ষার্থীরাও তার পড়ায় সন্তুষ্ট।

হাফেজ ইয়াহইয়া পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেছেন বাগেরহাট আমতলী মাদরাসা ও পাবনার চাওতুল কোরআন মাদরাসায়। নিজের গ্রাম ও কর্মরত মাদরাসার সাথে তার নাড়ির সম্পর্ক। কারো সহযোগিতা ছাড়াই রাস্তাঘাটে চলাফেরা করেন। একা একা চলা ফেরা করেন বিভিন্ন স্থানে। গোসল থেকে খাবার সবই করেন নিজে হাতে কারো সাহায্য ছাড়া। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও অন্যদের থেকে সে পুরোপুরি আলাদা। সে নিজের সকল কাজ নিজে করতে পারে। কোরআন পড়া ও কোরআনের বিস্তারই তাঁর জীবনের সাধনা।

জন্মান্ধ শিক্ষক হাফেজ মো.ইয়াহইয়া বলেন, আমি ১২ বছর বয়সে হিফজ সম্পন্ন করি। জীবনের শুরু থেকে আমি পৃথিবীর কোন কিছু উপভোগ করতে পারছিনা। তবে মৃত্যু পর্যন্ত আমি কোরআনের সাথে থাকতে চাই।      

সুবর্ণচরের তা’মীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসার মুহতামিম এইচ- এম- নাছরুল্লাহ বলেন- দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা যে স্বপ্ন পূরণের জন্য বাধা নয় তার উজ্জল শিক্ষক ইয়াহইয়া। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও অবিরাম বিলিয়ে যাচ্ছেন কোরআনের আলো। দৃষ্টি তার সামনে এগোনোতে কোনো বাধা হতে পারেনি- উল্টো সে এক অনুপ্রেরণার নাম। ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী ইয়াহ ইয়াহ কারো বোঝা না হয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কোরআনের সাথে থাকতে চান। তার এ উদ্যম ও মনের শক্তি সমাজের প্রতিটি মানুষের কর্মজীবনকে প্রভাবিত করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।