Dhaka , Sunday, 1 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ভঙ্গুর সংযোগ সড়কে মরণফাঁদ: মোগলহাটে ৬৯ লাখ টাকার সেতুতে জনভোগান্তি চরমে রামগঞ্জে সন্ধ্যার পর কোন শিক্ষার্থী বাহিরে থাকতে পারবে না শাহাদাত হোসেন সেলিম এমপি ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আকাশপথে অচলাবস্থা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আটকা কয়েক হাজার যাত্রী মির্জাপুরে মাটিবোঝাই ট্রাক ঢুকল ঘরে, চাপা পড়ে ঘুমন্ত বৃদ্ধ নিহত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে: পানি সম্পদ মন্ত্রী হাজীদের কষ্ট দিলে শাস্তি পেতে হবে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নরসিংদীসহ সারাদেশে খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে মশাল মিছিল ট্র্যাব এর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৬ আসনের নবনির্বাচিত এমপি কর্নেল (অব:) মোহাম্মদ আব্দুল বাতেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা এই জনপদ আমাদের সন্তানদের জন্য উপযোগী করে রাখতে হবে- প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা: চবি এলাকায় মসজিদ সংস্কার কার্যক্রম রামগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত “বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারী লেসন ভিউ একাডেমি’র শিক্ষার্থীদের সাফল্য অর্জন “ স্যার কে.জি. গুপ্ত : কৃতিত্ব থাকলেও পালন করা হয় না জন্মবার্ষিকী পলিথিন বর্জন ও পরিবেশ রক্ষায় সদর উপজেলা প্রশাসনের পাটের ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচি জনগণের ‘দুলু ভাই’-এর নির্দেশে রমজানে বড়বাড়ীতে ‘জনতার বাজার’: অর্ধেক দামে মিলছে দুধ-মাংস সাতকানিয়ায় অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে মধ্যরাতের অভিযান, ২ এস্কেভেটর বিকল সাতকানিয়ায় টপসয়েল কাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ট্রাক-এক্সেভেটর জব্দ, জরিমানা ৪০ হাজার আইসিটি খাতে ১০লাখ লোকের কর্মসংস্থান করা হবে: তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ঝালকাঠিতে অটোরিকশা-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোচালক নিহত নোয়াখালীতে নিখোঁজের ২ দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা আমেনা (২০) বেতন ভাতা, শ্রমিক নির্যাতন ও ছাটাই এর প্রতিবাদে রূপগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ, শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০, ৫ ঘন্টা ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ১৮ কিমি যানজট নারায়নগঞ্জ আইন কলেজের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহাফিল কাজে বের হয়ে প্রাণ হারালেন ওয়ালটন ব্যবস্থাপক; মহাসড়কে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ত্যাগ সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী গাজীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড,ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস এমপি মজিবুর রহমান বেতাগী ১০০ একর জমিতে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন -খুশি কৃষক  কালীগঞ্জে ১৫ বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান; গাঁজা ও ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ

জগন্নাথপুরে উপকারি বৃষ্টিতে কৃষকূলে স্বস্তি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:18:00 pm, Friday, 25 March 2022
  • 285 বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুরে উপকারি বৃষ্টিতে কৃষকূলে স্বস্তি

 

 

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে গত প্রায় এক মাস ধরে কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টির অভাবে ফসলি জমি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। চারদিকে রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়। এর মধ্যে গত প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে উপজেলার নলুয়ার হাওর সহ ছোট-বড় সকল হাওরের বোরো জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধানের থোড় বের হতে থাকে। অনাবৃষ্টিতে (স্থানীয় ভাষায় খরায় ধরেছে) এসব ধানের কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। ব্রি-২৮ জাতের ধানে আশারুপ ফলন না হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা বিচলিত হলেও ব্রি-২৯ জাতের ধানের উপর ভরসা বেড়ে যায়। এর মধ্যে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্রি-২৯ জাতের ধানেরও থোড় বের হতে থাকে। এ সময়ের মধ্যেও বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষককূলে রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়ে যায়। প্রতিদিন বাড়তে থাকে শঙ্কা। বি-২৮ এর মতো যদি ব্রি-২৯ ধানও খরায় নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে মাত্র কয়েক দিনে ব্রি-২৯ জাতের ধানের থোড়ের মাথা সামান্য হলেও ঝলসে গিয়ে কিছু ক্ষতি হয়। তা দেখে কৃষকরা আরো দিশেহারা হয়ে পড়েন। কারণ তুলনামূলক ভাবে জগন্নাথপুরে বিগত কয়েক বছর ধরে ব্রি-২৯ জাতের ধান বেশি আবাদ হয়ে থাকে। এসব ধানে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের ভরসাও বেশি। তাই শুধু বৃষ্টির অভাবে বোরো ধানের সমুহ ক্ষতির আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েন কৃষকরা।
গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের উদ্যোগে বৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও শিরণি বিতরণ করা হয়। সেই সাথে সনাতন ধর্মের কৃষকরাও প্রার্থনা করেন। এছাড়া গ্রাম-গঞ্জের পুরনো সংস্কৃতি অনুযায়ী বৃষ্টির জন্য “বাগাই মাগা” হয়। গ্রামের ১৫/২০ জন কৃষক পরিবারের মানুষ সমবেত হয়ে দল বেধে সবার হাতে লাটিসোটা নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে “আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে রে তুই” এমন সারিগানে মাটিতে লাটিসোটা দিয়ে আঘাত করে বৃষ্টি ভিক্ষা চাওয়া হয়। এ সময় বাড়ির নারী-পুরুষ জনতা এ বাগাই দলকে চাল, ডাল সহ বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য প্রদান করেন। বাগাই দল এসব খাদ্য দ্রব্য নিয়ে শিরণি তৈরি করে হাওরে ও মাঠে গিয়ে বিতরণ করে আল্লাহ পাকের কাছে বৃষ্টি কামনা করেন।
ঠিক এভাবেই গত প্রায় এক সপ্তাহ গেছে। যে যেভাবে পারছেন, বৃষ্টির জন্য আর্তনাত জানিয়েছেন। অবশেষে মহান আল্লাহ পাকের অশেষ দয়ায় ২৪ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জগন্নাথপুরের উপর দিয়ে প্রায় ঘন্টা ব্যাপী ঝড়ো হাওয়া সহ মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হয়। এ উপকারি বৃষ্টিতে অগ্নিমূর্ত প্রকৃতি শান্ত হয়েছে। শুধু বোরো ধান নয়, সব ধরণের শাক-সবজি ও বৃক্ষরাজির উপকার হয়েছে। এমন অভিমত কৃষক সহ সাধারণ মানুষের। তাই কাঙ্খিত বৃষ্টি পেয়ে কৃষককূলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকে আল্লাহ পাকের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন।
২৫ মার্চ শুক্রবার সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে দেখা যায়, বৃষ্টি পেয়ে থোড় ধান যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ধানের গোছা যেন আনন্দে ঝলঝল করছে। এ সময় হাওরে জমি দেখতে আসা কৃষকদের মধ্যে অনেকে জানান, এখন বৃষ্টি না হলে, ব্রি-২৮ জাতের ধানের মতো ব্রি-২৯ জাতের ধানও নষ্ট হয়ে যেত। বৃষ্টি হওয়াতে রক্ষা হয়েছে। এখন আশা করছি, জমিতে বাম্পার ফলন হবে। এ সময় বৃষ্টির জন্য তারা গত সপ্তাহ ধরে কি কি করেছেন, সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভঙ্গুর সংযোগ সড়কে মরণফাঁদ: মোগলহাটে ৬৯ লাখ টাকার সেতুতে জনভোগান্তি চরমে

জগন্নাথপুরে উপকারি বৃষ্টিতে কৃষকূলে স্বস্তি

আপডেট সময় : 07:18:00 pm, Friday, 25 March 2022

 

 

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে গত প্রায় এক মাস ধরে কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টির অভাবে ফসলি জমি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। চারদিকে রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়। এর মধ্যে গত প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে উপজেলার নলুয়ার হাওর সহ ছোট-বড় সকল হাওরের বোরো জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধানের থোড় বের হতে থাকে। অনাবৃষ্টিতে (স্থানীয় ভাষায় খরায় ধরেছে) এসব ধানের কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। ব্রি-২৮ জাতের ধানে আশারুপ ফলন না হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা বিচলিত হলেও ব্রি-২৯ জাতের ধানের উপর ভরসা বেড়ে যায়। এর মধ্যে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্রি-২৯ জাতের ধানেরও থোড় বের হতে থাকে। এ সময়ের মধ্যেও বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষককূলে রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়ে যায়। প্রতিদিন বাড়তে থাকে শঙ্কা। বি-২৮ এর মতো যদি ব্রি-২৯ ধানও খরায় নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে মাত্র কয়েক দিনে ব্রি-২৯ জাতের ধানের থোড়ের মাথা সামান্য হলেও ঝলসে গিয়ে কিছু ক্ষতি হয়। তা দেখে কৃষকরা আরো দিশেহারা হয়ে পড়েন। কারণ তুলনামূলক ভাবে জগন্নাথপুরে বিগত কয়েক বছর ধরে ব্রি-২৯ জাতের ধান বেশি আবাদ হয়ে থাকে। এসব ধানে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের ভরসাও বেশি। তাই শুধু বৃষ্টির অভাবে বোরো ধানের সমুহ ক্ষতির আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েন কৃষকরা।
গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের উদ্যোগে বৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও শিরণি বিতরণ করা হয়। সেই সাথে সনাতন ধর্মের কৃষকরাও প্রার্থনা করেন। এছাড়া গ্রাম-গঞ্জের পুরনো সংস্কৃতি অনুযায়ী বৃষ্টির জন্য “বাগাই মাগা” হয়। গ্রামের ১৫/২০ জন কৃষক পরিবারের মানুষ সমবেত হয়ে দল বেধে সবার হাতে লাটিসোটা নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে “আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে রে তুই” এমন সারিগানে মাটিতে লাটিসোটা দিয়ে আঘাত করে বৃষ্টি ভিক্ষা চাওয়া হয়। এ সময় বাড়ির নারী-পুরুষ জনতা এ বাগাই দলকে চাল, ডাল সহ বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য প্রদান করেন। বাগাই দল এসব খাদ্য দ্রব্য নিয়ে শিরণি তৈরি করে হাওরে ও মাঠে গিয়ে বিতরণ করে আল্লাহ পাকের কাছে বৃষ্টি কামনা করেন।
ঠিক এভাবেই গত প্রায় এক সপ্তাহ গেছে। যে যেভাবে পারছেন, বৃষ্টির জন্য আর্তনাত জানিয়েছেন। অবশেষে মহান আল্লাহ পাকের অশেষ দয়ায় ২৪ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জগন্নাথপুরের উপর দিয়ে প্রায় ঘন্টা ব্যাপী ঝড়ো হাওয়া সহ মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হয়। এ উপকারি বৃষ্টিতে অগ্নিমূর্ত প্রকৃতি শান্ত হয়েছে। শুধু বোরো ধান নয়, সব ধরণের শাক-সবজি ও বৃক্ষরাজির উপকার হয়েছে। এমন অভিমত কৃষক সহ সাধারণ মানুষের। তাই কাঙ্খিত বৃষ্টি পেয়ে কৃষককূলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকে আল্লাহ পাকের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন।
২৫ মার্চ শুক্রবার সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে দেখা যায়, বৃষ্টি পেয়ে থোড় ধান যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ধানের গোছা যেন আনন্দে ঝলঝল করছে। এ সময় হাওরে জমি দেখতে আসা কৃষকদের মধ্যে অনেকে জানান, এখন বৃষ্টি না হলে, ব্রি-২৮ জাতের ধানের মতো ব্রি-২৯ জাতের ধানও নষ্ট হয়ে যেত। বৃষ্টি হওয়াতে রক্ষা হয়েছে। এখন আশা করছি, জমিতে বাম্পার ফলন হবে। এ সময় বৃষ্টির জন্য তারা গত সপ্তাহ ধরে কি কি করেছেন, সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।