Dhaka , Saturday, 17 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সিলেটের পর্যটনকে ব্যাপক প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে চালু হচ্ছে পর্যটন সম্পর্কিত মোবাইল অ্যাপ ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, ২০ মামলার তথ্য পুলিশের দীঘিনালায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, ৯ মণ্ডপ পরিদর্শন আলোচনায় অপু বিশ্বাসের ‘প্রিয় বন্ধু’, কে তিনি? সানচোকে দলে নিতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গেতাফের নোয়াখালীতে অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ নামাজ পড়ে ফেরা হলো না চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মেহরাজের রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর সৌজন্য সাক্ষাৎ খুলশীতে ৬ কেজি গাঁজা ও বিদেশি মদসহ মাদক সম্রাট সোহাগ এসআরবি-৭’র হাতে আটক শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষ হতে হবে:- হাটহাজারীতে ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল পাইকগাছায় ১৫১ পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা; সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান এমপি ফাহমিদা হকের মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি সৌদির বিশ্ব ডাক দিবসে সম্মাননা পেলেন ‘নগদ’-এর ৬ প্রতিনিধি সড়কে বেহাল গৌরনদী–বাবুগঞ্জে নদীভাঙনের হাহাকার: দ্রুত সমাধানের আশ্বাস স্বপনের, এলাকায় উদাসীন জয়নাল আবেদীন পাইকগাছার গজালিয়া কালুয়া আলিম মাদ্রাসার এডহক কমিটির- সভাপতি শরিফুল পাইকগাছায় মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান; জব্দ ৩টি ছান্দি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস ২৪ ঘণ্টায় পাইকগাছায় মাদক, জুয়া, নাশকতাসহ বিভিন্ন অপরাধে আটক ১৭ বর্তমানে দেশের বাইরে থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে: ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ নারায়ণগঞ্জে ইজিবাইক চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী ‘মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত করতে চায় সরকার’ জাজিরায় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমপির নির্দেশ রূপগঞ্জে শিক্ষিকার লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ও হামলাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন শীতলক্ষ্যায় কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে সাজেকে ফের সড়ক অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল মাদারীপুরে মানকচুর ওজন ৪০ কেজি, দেখতে মানুষের ভিড় নেত্রকোনার মদনে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ বিমান সেবা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিনেতা বললেন, ‘বেইমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’ সর্বকালের সেরা কে, জানালেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা

চার বছরেও শেষ হয়নি এলজিইডির স্কুল ভবন নির্মাণকাজ, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:39:55 pm, Friday, 16 May 2025
  • 220 বার পড়া হয়েছে

চার বছরেও শেষ হয়নি এলজিইডির স্কুল ভবন নির্মাণকাজ, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি  

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এর অধীনে নির্মাণাধীন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ ৪ বছরেও শেষ হয়নি!

২০২১ সালে সংশ্লিষ্ট মূল ঠিকাদার কাজটি বিক্রি করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার কাছে। অভিযোগ উঠেছে যে,সেই আওয়ামী লীগ নেতা ভিত্তি ও কয়েকটি পিলারের কাজ করেই কাজ বন্ধ করে দেন।  এছাড়াও তিনি যে পরিমাণ কাজ করেছেন তার থেকে অধিক পরিমাণ অর্থ এলজিইডি থেকে উত্তোলন করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন।

এদিকে আনুমানিক  ১.৫ বছরের  মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ না করায় অস্থায়ী টিনের চালায় আবহাওয়া ও প্রকৃতিগত কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন কোমলমতি শিশুরা। চরম ভোগান্তির শিকারও হচ্ছেন তারা।

জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে এলজিইডির অধীনে হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী ডাঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ দরপত্রের মাধ্যমে পান রংপুরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে তারা কাজটি অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন সিন্দুর্ণা ইউনিয়ন আ. লীগের সাধা: সম্পাদক ও এলজিইডির ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম সেলিমের কাছে। সেলিম এই কাজটি শুরু করেন ২০২১ সালের জুলাই মাসে যা ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই কারণে আনুমানিক ১.৫ বছর পাঠদানের জন্য ও সরকারের অতিরিক্ত খরচ বাঁচাতে  কয়েকটি কক্ষবিশিষ্ট  একটি টিনের চালা প্রস্তুত করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  ২০২২ সালেই ঠিকাদার সেলিম মূলভবনের ভিত্তি আর কয়েকটি পিলার দাড় করিয়ে এলজিইডি থেকে কিছু টাকা উত্তোলন করেন।  এরপর তিনি অনৈতিকভাবে আরও টাকা উত্তোলনের চাহিদা দিলেও এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার সেলিম কাজ না করলে তাকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ঠিকাদার সেলিম কাজ বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনেকবার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের দাড়স্থ হয়েও কোন সুরহা হয়নি। ফলে পুরাতন টিন দিয়ে প্রস্তুত করা সেই অস্থায়ী টিনের চালায় আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে গ্রীষ্মকালে অসহনীয় গরম, বর্ষাকালে টিনের চালের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে শিশুদের বই-খাতা ও শরীর ভিজে যায়। মাটির মেঝে হওয়ায় কর্দমাক্ত হয়ে যায় ফলে অনেক শিশু পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

এলজিইডির সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে প্রকল্পের তথ্য যেমন- প্রকল্পের নাম, মূল ঠিকাদারের নাম, দরপত্র মূল্য, সাব-কন্ট্রাক্টর কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছু সময় চান। কিন্তু ক’দিন লাগবে তা তারা জানাননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, কাজটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আর সাব-কন্ট্রাক্টর যে পরিমাণ কাজ করেছেন তার চেয়ে ২০থেকে ৩০ লাখ বেশী টাকা অগ্রিম হিসেবে উত্তোলন করেছেন। এক্ষেত্রে এলজিইডির সংশ্লিষ্টরাও জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আব্দুস সালাম বলেন, “টিনের চালের নিচে আমাদের বাচ্চারা গরমে অনেক কষ্ট পায়৷ বৃষ্টির দিনে ক্লাসে পানি ঢোকে বই-খাতাসহ বাচ্চারাও ভিজে যায়। মেঝে মাটির হওয়ার কারণে গায়ে ও স্কুলড্রেসে কাদা লাগে । কখনও তারা পিছলে পড়ে যায়।  “

এভাবে বাচ্চারা কতদিন ক্লাশ করবে? এই প্রশ্ন ছুড়ে দেন এই অভিভাবক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেন বলেন, “আমি এলজিইডিতে বহুবার গিয়েছি । এমনকি সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর ১৫ জুন ২০২৪ ও ১৬ জানুয়ারি ২০২৫সহ এর আগেও কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। তারা বহুবার আমাকে আশ্বাস দিয়েও কিছু করেননি। উপায়ন্তর না দেখে আমি আগের ইউএনও স্যারের কাছেও গিয়েছিলাম। বর্তমান ইউএনও স্যার নতুন এসেছেন  বিষয়টি দেখবেন বলে তিনি আমার পরিচিত একজন ভাইকে আশ্বাস দিয়েছেন। একটা অস্থায়ী টিনের চালায় এভাবে ক্লাশ নেওয়া আমাদের জন্য দুষ্কর হয়ে গেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিভাবকরাও অসন্তুষ্ট। আমি আশা করবো কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিবেন।”

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: বেলাল হোসেন বলেন, ” এই বিষয়টি আমরা জানি। কাজ শেষ হয়নি এমন  আরও কিছু স্কুল হাতীবান্ধায় রয়েছে। আমরা বিভিন্ন মিটিং-এ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোন সমাধান হয়নি। আসলে কাজটা আমাদের অধীনে নয়। তাই এলজিইডি শুধু বলতে পারবে কেন এমনটি হয়েছে।”

এলজিইডির হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন বলেন, “যখন কাজ শুরু হয় তখন আমার পোস্টিং অন্য জায়গায় ছিল। আমি অনেক পরে এখানে জয়েন করেছি। তবুও আমরা এ নিয়ে বহুবার মিটিং করেছি৷ সম্প্রতি আমাদের রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী স্যার এসে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সাথে বসেছিলেন। আমরা কিছু অর্থ রিকভার করেছি। কাজ কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হওয়ার কথা।”

যারা এলজিইডির কাজ নিয়ে বিক্রি করে দেয় কিংবা যারা কাজ সমাপ্ত না করেই বন্ধ করে দেন এমন ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সাব-কন্ট্রাক্টর কাজটি নিয়ম মেনেই নিয়েছে। তবে ঠিকাদারদের বিষয়ে আমরা একটি সিস্টেম দাড় করানোর চেষ্টা করছি। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য মার্কিং এর ব্যবস্থা থাকবে। সন্তোষজনক না হলে অনেক লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।”

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা -ইউএনও- মো. শামীম মিঞা বলেন, ™আমি কিছুদিন হল এখানে জয়েন করেছি। কয়েকটি স্কুলের শেষ না করেই কাজ বন্ধ করা হয়েছে বলে জেনেছি। আমি এখন এরকম একটি স্কুলে এসেছি৷ এখন লিস্টে আরেকটি স্কুল যোগ হল। এগুলোর অতিদ্রুত যেন কাজ শুরু করা যায় সেই চেষ্টা করছি।”

এ বিষয়ে ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে জানা যায় তিনি  আত্মগোপনে  রয়েছেন।

এখন প্রশ্ন থেকে যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এর মতো একটি দায়িত্বশীল সরকারি দপ্তরে কীভাবে এবং কেন মূল ঠিকাদার কাজ বিক্রি করছেন? সাব কন্ট্রাক্ট যারা নিচ্ছেন তাদের সলভেন্সি না থাকলেও কীভাবে কাজ পাচ্ছেন? কিংবা কাজের কিছু অংশ সম্পন্ন করে এর যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে এর মূল্যমানের চেয়ে বেশী অর্থ কীভাবে উত্তোলন করছেন তারা?

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটের পর্যটনকে ব্যাপক প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে চালু হচ্ছে পর্যটন সম্পর্কিত মোবাইল অ্যাপ

চার বছরেও শেষ হয়নি এলজিইডির স্কুল ভবন নির্মাণকাজ, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : 08:39:55 pm, Friday, 16 May 2025

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি  

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এর অধীনে নির্মাণাধীন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ ৪ বছরেও শেষ হয়নি!

২০২১ সালে সংশ্লিষ্ট মূল ঠিকাদার কাজটি বিক্রি করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার কাছে। অভিযোগ উঠেছে যে,সেই আওয়ামী লীগ নেতা ভিত্তি ও কয়েকটি পিলারের কাজ করেই কাজ বন্ধ করে দেন।  এছাড়াও তিনি যে পরিমাণ কাজ করেছেন তার থেকে অধিক পরিমাণ অর্থ এলজিইডি থেকে উত্তোলন করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন।

এদিকে আনুমানিক  ১.৫ বছরের  মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ না করায় অস্থায়ী টিনের চালায় আবহাওয়া ও প্রকৃতিগত কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন কোমলমতি শিশুরা। চরম ভোগান্তির শিকারও হচ্ছেন তারা।

জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে এলজিইডির অধীনে হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী ডাঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ দরপত্রের মাধ্যমে পান রংপুরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে তারা কাজটি অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন সিন্দুর্ণা ইউনিয়ন আ. লীগের সাধা: সম্পাদক ও এলজিইডির ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম সেলিমের কাছে। সেলিম এই কাজটি শুরু করেন ২০২১ সালের জুলাই মাসে যা ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই কারণে আনুমানিক ১.৫ বছর পাঠদানের জন্য ও সরকারের অতিরিক্ত খরচ বাঁচাতে  কয়েকটি কক্ষবিশিষ্ট  একটি টিনের চালা প্রস্তুত করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  ২০২২ সালেই ঠিকাদার সেলিম মূলভবনের ভিত্তি আর কয়েকটি পিলার দাড় করিয়ে এলজিইডি থেকে কিছু টাকা উত্তোলন করেন।  এরপর তিনি অনৈতিকভাবে আরও টাকা উত্তোলনের চাহিদা দিলেও এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার সেলিম কাজ না করলে তাকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ঠিকাদার সেলিম কাজ বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনেকবার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের দাড়স্থ হয়েও কোন সুরহা হয়নি। ফলে পুরাতন টিন দিয়ে প্রস্তুত করা সেই অস্থায়ী টিনের চালায় আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে গ্রীষ্মকালে অসহনীয় গরম, বর্ষাকালে টিনের চালের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে শিশুদের বই-খাতা ও শরীর ভিজে যায়। মাটির মেঝে হওয়ায় কর্দমাক্ত হয়ে যায় ফলে অনেক শিশু পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

এলজিইডির সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে প্রকল্পের তথ্য যেমন- প্রকল্পের নাম, মূল ঠিকাদারের নাম, দরপত্র মূল্য, সাব-কন্ট্রাক্টর কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছু সময় চান। কিন্তু ক’দিন লাগবে তা তারা জানাননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, কাজটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আর সাব-কন্ট্রাক্টর যে পরিমাণ কাজ করেছেন তার চেয়ে ২০থেকে ৩০ লাখ বেশী টাকা অগ্রিম হিসেবে উত্তোলন করেছেন। এক্ষেত্রে এলজিইডির সংশ্লিষ্টরাও জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আব্দুস সালাম বলেন, “টিনের চালের নিচে আমাদের বাচ্চারা গরমে অনেক কষ্ট পায়৷ বৃষ্টির দিনে ক্লাসে পানি ঢোকে বই-খাতাসহ বাচ্চারাও ভিজে যায়। মেঝে মাটির হওয়ার কারণে গায়ে ও স্কুলড্রেসে কাদা লাগে । কখনও তারা পিছলে পড়ে যায়।  “

এভাবে বাচ্চারা কতদিন ক্লাশ করবে? এই প্রশ্ন ছুড়ে দেন এই অভিভাবক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেন বলেন, “আমি এলজিইডিতে বহুবার গিয়েছি । এমনকি সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর ১৫ জুন ২০২৪ ও ১৬ জানুয়ারি ২০২৫সহ এর আগেও কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। তারা বহুবার আমাকে আশ্বাস দিয়েও কিছু করেননি। উপায়ন্তর না দেখে আমি আগের ইউএনও স্যারের কাছেও গিয়েছিলাম। বর্তমান ইউএনও স্যার নতুন এসেছেন  বিষয়টি দেখবেন বলে তিনি আমার পরিচিত একজন ভাইকে আশ্বাস দিয়েছেন। একটা অস্থায়ী টিনের চালায় এভাবে ক্লাশ নেওয়া আমাদের জন্য দুষ্কর হয়ে গেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিভাবকরাও অসন্তুষ্ট। আমি আশা করবো কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিবেন।”

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: বেলাল হোসেন বলেন, ” এই বিষয়টি আমরা জানি। কাজ শেষ হয়নি এমন  আরও কিছু স্কুল হাতীবান্ধায় রয়েছে। আমরা বিভিন্ন মিটিং-এ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোন সমাধান হয়নি। আসলে কাজটা আমাদের অধীনে নয়। তাই এলজিইডি শুধু বলতে পারবে কেন এমনটি হয়েছে।”

এলজিইডির হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন বলেন, “যখন কাজ শুরু হয় তখন আমার পোস্টিং অন্য জায়গায় ছিল। আমি অনেক পরে এখানে জয়েন করেছি। তবুও আমরা এ নিয়ে বহুবার মিটিং করেছি৷ সম্প্রতি আমাদের রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী স্যার এসে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সাথে বসেছিলেন। আমরা কিছু অর্থ রিকভার করেছি। কাজ কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হওয়ার কথা।”

যারা এলজিইডির কাজ নিয়ে বিক্রি করে দেয় কিংবা যারা কাজ সমাপ্ত না করেই বন্ধ করে দেন এমন ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সাব-কন্ট্রাক্টর কাজটি নিয়ম মেনেই নিয়েছে। তবে ঠিকাদারদের বিষয়ে আমরা একটি সিস্টেম দাড় করানোর চেষ্টা করছি। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য মার্কিং এর ব্যবস্থা থাকবে। সন্তোষজনক না হলে অনেক লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।”

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা -ইউএনও- মো. শামীম মিঞা বলেন, ™আমি কিছুদিন হল এখানে জয়েন করেছি। কয়েকটি স্কুলের শেষ না করেই কাজ বন্ধ করা হয়েছে বলে জেনেছি। আমি এখন এরকম একটি স্কুলে এসেছি৷ এখন লিস্টে আরেকটি স্কুল যোগ হল। এগুলোর অতিদ্রুত যেন কাজ শুরু করা যায় সেই চেষ্টা করছি।”

এ বিষয়ে ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে জানা যায় তিনি  আত্মগোপনে  রয়েছেন।

এখন প্রশ্ন থেকে যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এর মতো একটি দায়িত্বশীল সরকারি দপ্তরে কীভাবে এবং কেন মূল ঠিকাদার কাজ বিক্রি করছেন? সাব কন্ট্রাক্ট যারা নিচ্ছেন তাদের সলভেন্সি না থাকলেও কীভাবে কাজ পাচ্ছেন? কিংবা কাজের কিছু অংশ সম্পন্ন করে এর যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে এর মূল্যমানের চেয়ে বেশী অর্থ কীভাবে উত্তোলন করছেন তারা?