
মো.ইমরান হোসেন,
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি।।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মঙ্গলবার সকালে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি হলেন কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর এলাকার ভজন দাসের মেয়ে মুক্তা দাস (১৯)।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে প্রেমের মাধ্যমে সুত্রাপুর ইউনিয়নের নেপাল দাসের সাথে বিয়ে হয় মুক্ত দাসের। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নেপাল দাস ও তার বাবা-মা এবং বোন মুক্তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। স্বামীর পরিবার বিয়ের পর থেকেই তাকে মেনে নিতে পারেননি। পরে নেপাল দাস ভারত যাবে বলে মুক্তা দাসকে তার বাবার বাড়িতে রেখে যায়। মুক্তা দাস স্বামীকে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করে নেপাল জানিয়ে দেন আমি ভারত চলে আসছি। এখন দেশে আসা যাবে না। পরে বেশির ভাগ সময়ই মুক্তা দাস তার বাবার বাড়িতে থাকতেন।
গত রবিবার মুক্তার মা দিপালী দাস মেয়ের শ্বশুরকে খবর দিলে মুক্তাকে এসে নিয়ে যায়। মুক্তা শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পর থেকেই স্বামী নেপালের ছোট বোন নির্যাতন করতে থাকেন। মুক্তার বাবা ভজন দাস বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার মেয়েকে নিয়ে আসেন।
মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মুক্তার মা দিপালী দাস মেয়েকে বাড়িতে রেখে গোসল করতে যান। গোসল শেষে বাড়িতে এসে মুক্তা দাসকে বাড়িতে না পেয়ে ডাকাডাকি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ঘরের বারান্দার একটি কক্ষের দরজা বন্ধ দেখে মা দিপালী দাস ওই কক্ষের দরজার কাছে গিয়ে মুক্তা বলে ডাকতে থাকে।কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজার ফাক দিয়ে উকি মেরে দেখতে পায় মেয়ে মুক্তা দাস ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে রয়েছে। তার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে।
এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক রকিবুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে হত্যা না আত্মহত্যা।

























