মো.ইমরান হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার।।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর জেলায় সংসদীয় আসনের সংখ্যা পাঁচটি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ পাঁচটি আসনে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এদের মধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দুজন ও বাকি তিনজন বর্তমান সংসদ সদস্য। উল্লেখ্য যে এ পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই নারী এবং এরা সবাই বর্তমান সংসদ সদস্য। এদের মধ্যে গত নির্বাচনে দুজন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এবং একজন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য।
আওয়ামী লীগের মূল প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জামায়াত । কিন্তু বিএনপি জামায়াত আসন্ন নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা সহজ ভাবে বিজয় হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও নির্বাচন যতই সামনে এগোচ্ছে ভোটের হিসেব-নিকেশ কিন্তু তা মিলছে না। পাঁচটি আসনেই পাঁচজন নৌকা প্রতীকের হেভিওয়েট প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য হলেও তারা যে বিজয় লাভে পুরোপুরি নির্ভরশীল এমনটা মনে করছেন না নির্বাচন-বিশ্লেষক অনেকেই। জেলার দুটি আসনে নৌকা প্রতীকে বর্তমানে একজন মন্ত্রী ও অন্যজন প্রতিমন্ত্রী এবং বাকি তিনটি আসনে বর্তমান নারী সংসদ সদস্য থাকলেও তাদের প্রত্যেককেই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছেন তাদের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে । এমনকি একাধিক আসনে নৌকা প্রার্থী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারেন এমন আশঙ্কাও করছেন নির্বাচন-বিশ্লেষক অনেকেই। ফলে আসনগুলিতে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা যেমন নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তেমনি দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরাও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। বিশ্লেষকদের অভিমত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক পেয়ে সহজ জয়ের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভাটা পড়ছে মনে করে জোর প্রচারণায় নেমে পড়েছেন তারা। আর তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ এখন বিএনপি -জামায়াত নয় । বরং প্রধান প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ অর্থাৎ নৌকা বনাম স্বতন্ত্র প্রার্থী ।
গাজীপুর জেলার পাঁচটি আসনে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীগণের কাছে এ নির্বাচন শুধু জয়ের লড়াই নয় এ যেন মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রাণপণ লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন উভয় পক্ষের প্রার্থীগণ ও তাদের সমর্থক নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া না পড়লেও আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বিধা- বিভক্ত হয়ে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় একে অপরের প্রতি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে ৷ তারপরও থেমে নেই প্রার্থীগনের নির্বাচনী তৎপরতা।

























