
তৌফিক এলাহি, বগুড়া প্রতিনিধি:
জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন ও এক দিনের সরকারি ছুটির দিনে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নারিল্যা ইটালী এস ইউ মাদ্রাসায় পিকনিক পার্টি ও ভোজ আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার(৩১ ডিসেম্বর ) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মাদ্রাসার সুপার ও ম্যানেজিং কমিটির নেতৃত্বে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ছুটির দিনে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন চলছিল। সকাল থেকেই সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই মাদ্রাসার কৃষি বিষয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান উচ্চতর গ্রেড লাভ করেন। গ্রেড প্রাপ্তির প্রায় ১৫ মাস পর বুধবার তার অর্থায়নে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ভোজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন মাহফু, সহকারী শিক্ষক নওফেল, এনামুল হক, অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নানসহ বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষক।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার জানায়, বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন মাহফু বলেন, “শিক্ষক মিজানুর রহমানের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি উপলক্ষে খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। পাশাপাশি আমরা বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজাতেও অংশ নিয়েছি।”
তবে এ বিষয়ে শিক্ষক মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা দেশে শোক চলছে। সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। অথচ সকাল থেকেই দেখি মাদ্রাসায় রান্নাবান্নার উৎসব। পরে তারা খাওয়া-দাওয়া শুরু করে।”
তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে মাদ্রাসা মাঠে লোক দেখানো গায়েবানা জানাজা দেওয়া হয়। শুনেছি বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা দুপুর দুইটায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নিজেদের বাঁচাতে দেড়টার দিকে জানাজা করা হয়, যা অনৈতিক।”
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, সরকারি ঘোষণায় আজ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এদিন মাদ্রাসা খোলার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একজন শিক্ষকের আয়োজনে পিকনিক হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। পরে আবার গায়েবানা জানাজা করেছে বলেও শুনেছি।
তিনি আরও বলেন, একদিকে সরকারি ছুটির দিনে পিকনিক করে সরকারের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই গায়েবানা জানাজা করে অনৈতিকতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

























