
মো.ইমরান হোসেন,
কালিয়াকৈর (গাজীপুর ) প্রতিনিধি।।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিভিন্ন এলাকায় বর্ষাকালের নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে । নদীখাল ও বিলে পানি আর পানি। এ সময় উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে ও যাতায়াতের জন্য কোষা নৌকার ওপর নির্ভরশীল থাকেন। ফলে উপজেলায় নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে।
পাশাপাশি চলছে পুরোনো নৌকা মেরামতের কাজও। নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পায় করছেন কারিগররা। তবে গত বছরের তুলনায় কাঠের দাম বেশি হওয়ায় এবার নৌকার দাম বেশি বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার দক্ষিণ – পশ্চিমাঞ্চল নিচু এলাকা। বর্ষাকালেই মাঠঘাট ও বিল পানিতে তলিয়ে যায়। সুত্রাপুর ইউনিয়নের টালাবহ বাজার, ঢালজোড়া ইউনিয়নের আড়ই গঞ্জ, বেনুপুর বাজার, বলিয়াদী বাজার সহ বিভিন্ন গ্রামে চলছে নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজ। হাতুড়ি কাঠের খুটখাট ছন্দ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশ। কেউ কাঠ কাটছেন, আবার কেউ নৌকায় আলকাতরা লাগাচ্ছেন। কোথাও কোথাও পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নৌকা তৈরিতে কাজ করছেন নারীরাও।
টালাবহ বাজারে কাঠ ব্যবসায়ী মো.লাবিব উদ্দিন জানান, কাঠের দাম গত বছরের তুলনায় এবছর কাঠের দাম অনেক বেশী। প্রতিদিন ছয় জন কারিগর কোষা নৌকা তৈরি করেন। বিভিন্ন মাপের যেমন – নয় হাত থেকে বারো হাত দৈর্ঘ্য পর্যন্ত কোষা নৌকা তৈরি করা হয়। কারিগরদের কোষা প্রতি ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা মুজুরী দেয়া হয়। বর্ষা মওসুমে কোষা কৌকার চাহিদা রয়েছে প্রচুর। বর্তমানে প্রতি কোষা নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৩ হজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। এদিকে কারিগরের অভাব রয়েছে। পাশা-পাশি কোষা তৈরির ব্যবসায়ী গড়ে উঠেছে অনেক। ফলে কাঠের দাম ও কারিগরদের মুজুরী বাদে কোষা নৌকা প্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা লাভ হয়ে থাকে।
কালিপদ চন্দ্র সরকার, বুলু সরকার, হরিপদ সরকার, মৃদুল সরকারসহ অন্তত ১০টি পরিবার নৌকা তৈরির পেশায় যুক্ত। অন্যান্য মৌসুমে তারা কাঠমিস্ত্রির পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্ষার মৌসুমে তৈরি করেন কাঠের নৌকা। প্রতিটি নৌকা ছয় থেকে হাজার টাকা বিক্রি করেন তারা। তা থেকে কোনো কোনো নৌকায় ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা লাভ হয়। নৌকার কারিগর ক্ষিতিশ চন্দ্র সরকার বলেন, ৫০ বছর যাবৎ নৌকা তৈরির কাজ করছি। এখন আগের মতো সারা বছর নৌকার চাহিদা থাকে না। কিন্তু বর্ষার শুরুতে নৌকার চাহিদা বেশি থাকে। ইতিমধ্যে পাঁচটি নৌকা তৈরি করেছি। আরেক কারিগর পরিমল সরকার বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই নৌকা তৈরির কাজে জড়িত। এখন জেলেদের মাছ ধরার নৌকা বানানোর কাজ করছি। চাহিদা মোতাবেক ছোট, বড় বিভিন্ন রকম নৌকা বানানো হয়। আকারভেদে এসব নৌকার দাম নির্ধারণ হয়।
ব্যবসায়ী মো.কাসেম মন্ডল বলেন, বর্ষার শুরুতে এ উপজেলার নিচু এলাকার নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। ঐসব এলাকায় যাতায়াত ও জেলেরা মাছ ধরার জন্য নতুন নৌকা কিনে থাকেন। ছোটবেলায় আমরা অনেক নৌকা দেখেছি কিন্তু সেই নৌকার দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। এ নৌকা তৈরির শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী।

























