
শওকত আলম, কক্সবাজার:
কক্সবাজার সদর উপজেলাসহ সারাদেশে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা আবারও জনমনে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। সর্বশেষ এক অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পাশাপাশি একজন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর একটি সুপরিকল্পিত ও ভয়ংকর ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটন করেছে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোর আনুমানিক সকাল ৫টার দিকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের অধীন ৯ ই বেংগল-এর একটি বিশেষ দল। অভিযানের সময় একটি বসতবাড়ির পাশ থেকে ২টি দেশীয় অস্ত্র ও ২টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়।
অভিযান-পরবর্তী গভীর অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, দক্ষিণ ডিককুল এলাকার মারুফ হাসান তাহসিন ও অজুফা বেগম দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ওই এলাকার সাংবাদিক ফরহাদকে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব অস্ত্র ও কার্তুজ ঘটনাস্থলে রেখে যায়।
সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপে সন্দেহভাজন মারুফ হাসান তাহসিনকে আটক করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর অভিযুক্ত অজুফা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক ফরহাদের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে গত প্রায় দুই বছর ধরে অজুফা বেগম ও তার সহযোগীরা তাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হামলার ঘটনায় তিনি দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে তাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর ভয়ংকর পরিকল্পনাও করা হয়, যা সেনাবাহিনীর সতর্কতা ও দক্ষতায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়।
এই অভিযানের মাধ্যমে একদিকে যেমন একটি গভীর ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে, তেমনি সম্ভাব্য বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা অবনতি আগেভাগেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এই সাহসী, মানবিক ও পেশাদার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন ৯ ই বেংগল-এর টহল দল সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত ও নিয়োজিত রয়েছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরীহ নাগরিকদের সুরক্ষা এবং যেকোনো অপরাধ ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা দমনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন আপসহীন ভূমিকা আবারও প্রমাণ করল—সেনাবাহিনী শুধু শক্তির প্রতীক নয়, বরং ন্যায় ও জনআস্থার অন্যতম ভরসাস্থল।
























