
তৌহিদ বেলাল:
২০২৪-২৫ অর্থবছরের রবি মৌসুমে বোরো আবাদ বৃদ্ধির লক্ষে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি বীজ ও সার সহায়তা প্রকল্পে কক্সবাজারে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে লাখ লাখ টাকার সহায়তা দেখানো হলেও বাস্তবে প্রকৃত কৃষকদের একটি বড় অংশই কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে গত অর্থবছরে সারাদেশে মোট ৬১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৬ কোটি ৩১ লাখ ১ হাজার ১১৯ টাকা। তার মধ্যে শুধু একটি সহায়তা প্রকল্পে কক্সবাজার সদর উপজেলার পৌরসভা ও ঝিলংজা, খরুলিয়া, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী এবং ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য বরাদ্দ ছিল জনপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া সার ও ১০ কেজি উফশী বোরো ধানের বীজ।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরাদ্দকৃত এই সহায়তার বড় একটি অংশ মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক কৃষক জানেনই না যে, তারা সরকারি তালিকাভুক্ত উপকারভোগী। আবার কেউ কেউ নামমাত্র কিছু বীজ পেলেও সার পাননি। কোথাও তালিকাভুক্ত হয়েও সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়েছেন কৃষকেরা।
তালিকায় ১ নম্বরে থাকা খুরুশকুল ইউনিয়নের মেহেদীপাড়ার কৃষক মোক্তার আহমদ বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম আছে এটা আমি পরে জানতে পারি। কিন্তু তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে আমি কোনো বীজ বা সার পাইনি।’
একই ইউনিয়নের নজির আহমদ (তালিকা নম্বর ২৬) জানান, তালিকাভুক্ত হয়েও তিনি কোনো ধরনের সহায়তা পাননি।
তালিকার ৫৭ ও ৫৮ নম্বরে থাকা একই পরিবারের বাদশা মিয়া ও আবু খালেক জানান, তাঁরা মাত্র ৫ কেজি বীজ পেলেও এক কেজি সারও পাননি। গাজীর ডেইল এলাকার কৃষক শাহ আলমের অভিযোগ, একই তালিকায় নাম থাকলেও কোনো সহায়তা তাঁর হাতে পৌঁছায়নি।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় বীজ-সার দেয়, যেনো আমরা জমিতে ফসল ফলাতে পারি। কিন্তু বাস্তবে আমরা কিছুই পাই না। কাগজে দেখানো হয়, আমরা সব পেয়েছি, অথচ মাঠে এসে দেখি শূন্য। সহায়তা বরাদ্দ হয়েছে। তালিকায় ভুয়া নাম ঢুকিয়ে, একই মোবাইল নম্বর দিয়ে, অন্য ইউনিয়নের ঠিকানা বসিয়ে টাকা আর মালামাল লুটপাট করা হচ্ছে।’
তারা বলছেন, ‘আমরা ক্ষুদ্র কৃষক, আমাদের কথা বলার কেউ নেই। অফিসে বসে তালিকা বানানো হয়, আর আমরা খালি হাতে মাঠে নামি। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।’
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, উপকারভোগী তালিকার ৯১ থেকে ১০০ নম্বর পর্যন্ত একাধিক কৃষকের জন্য একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে এক ইউনিয়নের কৃষকের ঠিকানা অন্য ইউনিয়নের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করারও প্রমাণ মিলেছে। এসব অনিয়মে প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তার নামে কোটি কোটি টাকা মাঠপর্যায়ে না পৌঁছে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের হাতেই থেকে যাচ্ছে। এতে সরকারের কৃষি সহায়তা কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং কৃষকদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাসেল রানা নতুন দায়িত্বে এসেছেন বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড.বিমল কুমার প্রামানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























