
চঞ্চল,
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বেগম খালেদা জিয়ার সাধারণ মানুষের প্রতি মমত্ববোধের স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, “আমি যখন এমপি-মন্ত্রী হলাম, উনি একদিন উনার অফিসে আমাকে বসিয়ে বললেন— দুলু ওই মহিলাগুলোর খোঁজ রাখো না তুমি? আমি বলছি, কোন মহিলা ম্যাডাম? তিনি বললেন, ওই যে তোমার ওখানে যে গাড়ি ব্লক করে দিল। আমি বলেছি, জি ম্যাডাম। উনি বললেন, অবশ্যই ওদের খোঁজ রাখবা। কত বড় বড় জায়গায় উনি ঘোরেন, কত বড় বড় স্মৃতি উনার কাছে, অথচ সামান্য গ্রামের কতগুলো মহিলার কথা উনি কীভাবে স্মরণে রেখেছেন এবং আমাকে বললেন যে ওদের খোঁজ রাখবা সবসময়। এটাই তো নেতা, এটাই তো মানবিকতা!”
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে লালমনিরহাট জেলা শহরের মিশনমোড়ে ‘হামার বাড়ি’ কার্যালয়ে জেলা বিএনপি এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার একটি সফরের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে এসব কথা বলেন অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুস্তম আলী প্রামাণিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম মমিনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান (ভিপি আনিছ) এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জননেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবেগাপ্লুত বক্তব্যে আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, “আমার প্রিয় নেত্রী এতো নির্যাতনের পরেও ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশ্যে বলেছিলেন— যারা জয়ী হয়, বিজয়ীরা পরাজিতদের ওপর প্রতিশোধ নিলে বিজয়ের আনন্দ থাকে না। কত বড় মহৎ ও উদার মানুষের পক্ষে এটি বলা সম্ভব! আমার মনে হয় আমাদের কারও পক্ষেই এটি বলা সম্ভব হবে না। প্রিয় নেত্রী যে লাঞ্ছিত হয়েছেন, তাঁকে অপমানিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বিদায় যাত্রায় বাংলাদেশের মানুষের দেওয়া সম্মান প্রমাণ করে নিয়তি তাঁকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।”
লালমনিরহাটের উন্নয়নে বেগম জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “উনার আমলেই উদ্বোধন হয়েছে তিস্তা ব্রিজ। এরপর একে একে উদ্বোধন করা হয়েছে আমাদের লালমনি এক্সপ্রেস, রেলওয়ে স্টেশন, হাসপাতাল, টিটিসি, এতিমখানা ও যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।” এছাড়া স্মৃতিচারণকালে তিনি দহগ্রাম-অঙ্গরপোতা বাসীর জন্য তিনবিঘা করিডোর খোলার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন।
অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, “বিবিসি একটা সংবাদ পরিবেশন করেছে সেদিন, বলেছে সেদিন গণভোট হয়েছে খালেদা জিয়ার পক্ষে, যেদিন উনার জানাজা হয়। জানাজার যে কাতার হওয়ার নিয়ম, যত ফিট সেজদার জায়গা রেখে কেউ কোনো জায়গা রাখতে পারেনি। রাখা সম্ভব হয়নি। খালেদা জিয়া শুধু আজকের বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের গণতান্ত্রিক মানুষের মানসপটে ভেসে থাকবেন চিরদিন আমাদের মাঝে।”
শোকসভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এরপর অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রজেক্টরের পর্দায় প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লালমনিরহাট সফরকালীন বিভিন্ন দুর্লভ ভিডিও চিত্র এবং স্থিরচিত্র অবলোকন করেন। স্মৃতির আয়নায় প্রিয় নেত্রীর স্মৃতিগুলো ভেসে উঠলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
























