
মাকসুদুল হোসেন তুষার,
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরেই গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প কলকারখানার উৎপাদন চরম ভাবে ব্যাহত। এতে করে শতভাগ উৎপাদন করতে পারছেন না শিল্প মালিকরা। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাই করে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়ছেন ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা। প্রেসার না থাকায় প্রায় সময় বন্ধ থাকে সিএনজি পাম্প, ভোগান্তিতে গাড়ি চালকরা। আবাসিক গ্রাহকরা অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। দ্রুত গ্যাসের সমস্যা সমাধান চায় সকলে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ একটি শিল্প এলাকা। উপজেলার যাত্রামুড়া, বরাব, বরপা, ভুলতা, আড়িয়াবো, কর্ণগোপ, গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, হাটাবো, সাওঘাট, কাতরারচক, ডহরগাঁও, পাড়াগাঁও, মুড়াপাড়া, বানিয়াদিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হারবেস্ট রিচ গার্মেন্টস, অলটেক্স, অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানা, গ্রামটেক নিট ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানা, ফকির ফ্যাশন, সিটি অয়েল মিল, রবিন টেক্স অ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেডসহ ছোটবড় সব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার শিল্প-কলকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জি, থ্রিপিস, চাদর, প্রিন্ট কাপড়, লুঙ্গি, প্লাস্টিক জাতীয় পণ্যসহ হরেক রকমের জিনিসপত্র। রয়েছে নিটিং ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানাও। এর মধ্যে অনেক কারখানায় গ্যাস ব্যবহার করে গ্যাস জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। আর ওই বিদ্যুৎ দিয়েই কারখানা চলে।
কয়েক দিন ধরেই গ্যাসের প্রেসার কমে যাওয়ার কারণে কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিল্প-কলকারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীদের। এতে করে লোকসানের মুখে রয়েছেন তারা। গ্যাস সংকটের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আবাসিক এলাকার জনজীবনও। শিল্প-কারখানার মালিকরা তেলচালিত জেনারেটরে কারখানা চালানোর চেষ্টা করছেন। এতে তাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। এভাবেও শতভাগ উৎপাদন করতে পারছেন না। এভাবে গ্যাস সংকট চলতে থাকলে শিল্প-কারখানাগুলো সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রূপগঞ্জের শিল্পমালিক ও ব্যবসায়ীরা। এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫০ ভাগ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সিএনজি স্টেশন গুলোতে একই অবস্থা। গ্যাসের প্রেসার না থাকায় সিএনজি চালিত যানবাহনে দিতে না পারছেন না। এতে করে চরম খুব প্রকাশ করেছেন যানবাহন চালকরা। তারা চার গুণ তেল ব্যবহার করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে করে তাদের লোকসান গুনতো হচ্ছে প্রতিদিন। কয়েকটি এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস সংকটের কারণে অতিরিক্ত দামে বোতল গ্যাস ব্যবহার করছে অনেকেই।
শিল্প মালিকপক্ষ, শ্রমিক, গাড়ি চালক ও সিএনজি স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানান, এভাবে গ্যাস সংকট উৎপাদন অর্ধেকে চলে আসবে। বেকারত্ব হয়ে পড়বে শ্রমিকরা। গ্যাসের প্রেসার না থাকলে যানবাহন চালকরা খেয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। শ্রমিকরা যাতে বেকার হয়ে না পরে সেজন্য সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। তাই গ্যাস সংকট সমাধান করতে হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে।
এ ব্যাপারে কথা বলতে রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় অবস্থিত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কার্যালয়ে গিয়ে রুপগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে একপর্যায়ে তিনি জানান, আড়াই হাজার উপজেলায় তিতাস গ্যাসের পাইপ লিকেজ হয়ে গিয়েছে। মেরামতের কাজ চলছে। এই কারণে তিতাস গ্যাসের প্রেসার ডিআরএস থেকে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।

























