Dhaka , Tuesday, 27 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন যারা ‘পৃথিবী বিপক্ষে দাঁড়ালেও রাশমিকার সঙ্গে থাকব’ দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল কালিয়াকৈরে আনসার-ভিডিপি একাডেমির কুটিরশিল্পের পণ্যে আকৃষ্ট চার দেশের রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার সাজে চমক, শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না মেঘনা আলম ঝটিকা মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার সবজি আনতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে আহত সরাইলে মব সন্ত্রাসের প্রতিবাদে কৃষকদলের প্রতিবাদ মিছিল তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীতে সাড়ে ৩ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ গাইবান্ধায় খেলা করতে গিয়ে ডোবায় ডুবে প্রাণ হারাল দুই শিশু রূপগঞ্জ উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির কমিটি গঠন শাহীন হত্যার বিচারের দাবিতে ফতুল্লা আদালত চত্বরে মানববন্ধন সিদ্ধিরগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু, পরিচয় মেলেনি সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য লালমনিরহাটে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা: জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অ্যাডভোকেসির গুরুত্বারোপ চট্টগ্রামে ১ দিনে ১ লাখ গাছ রোপণে ১৫ হাজার সহকর্মী নিয়ে মাঠে নামছেন ডিসি জাহিদ রূপগঞ্জে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ১২জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড পাঁচ লাখ লোকের জন্য ২ হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন: ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পুলিশ কমিশনার পাঁচবিবিতে এক দিনের ব্যবধানে ফের কোটি টাকার কালো বেলে পাথর উদ্ধার আটক ১ সরাইলে ১০ মাসে ১,১৫৮ আসামি গ্রেপ্তার, মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নাদিয়া পাঠান পাপন এমপির শুভেচ্ছা বিনিময় প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান ডিসি জাহিদের দীঘিনালায় কঠিন চীবর দানোৎসব ঘিরে বিজিবির নিরাপত্তা সভা, বিহারগুলোতে অনুদান দীঘিনালা বন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন। নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, প্রেমিকসহ আটক ৩ নাদিয়া পাঠান পাপন এমপির শুভেচ্ছা বিনিময় কালিয়াকৈর এক ব্যবসায়ের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা সংবদ্ধ ছিনতাই করে এক চক্র

সুন্দরগঞ্জে ঘাঘট নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০ পরিবার।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 11:29:54 am, Wednesday, 9 October 2024
  • 152 বার পড়া হয়েছে

সুন্দরগঞ্জে ঘাঘট নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০ পরিবার।।

হযরত বেল্লাল
সুন্দরগঞ্জ -গাইবান্ধা- প্রতিনিধি।।
   
   
ভারি বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ঘাঘট নদী ভাঙনের আতঙ্কে দক্ষিণ সাহাবাজ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০টি পরিবার ও মধ্য সাহাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ কারণে প্রকল্পের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ- প্রায় এক মাস ধরে এভাবে নদীভাঙন চললেও কর্তৃপক্ষ তেমন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এদিকে ভাঙন কবলিত এলাকা সংস্কার করা না হলে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে প্রকল্পের ঘরবাড়িগুলো ও স্কুলটি। তাই এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষেরা। কখনো তীব্র স্রোত আর আছড়ে পড়া ঢেউয়ে পাড়ের মাটি খসে গ্রাস করছে এলাকা। কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ সাহাবাজ গুচ্ছগ্রামঘেঁষা ঘাঘট অশান্ত হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি পানি কমতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন যেমন চোখে পড়ছে, তেমনি ভাঙনভীতিতে দিন কাটছে গুচ্ছগ্রামের মানুষজন। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩০টি ভূমিহীন পরিবারের কয়েক শত মানুষ বসবাস করছে।
বর্তমানে সেখানকার ৩০ পরিবার হুমকির মুখে রয়েছেন। নদীর ভাঙন রক্ষার পদক্ষেপ না নিলে এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দ্রুতই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা। যে কোনো মুহূর্তে গুচ্ছগ্রাম ও স্কুলটি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। নদীভাঙনকবলিত এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩০টি ভূমিহীন পরিবারের কয়েক শ মানুষ বসবাস করছেন। একইভাবে সর্বানন্দ ইউনিয়ের ঘাঘট নদীর আশেপাশে বসবাসকারী কয়েক হাজার পরিবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এসব পরিবার এক যুগ আগে থেকে বসবাস করে আসছে। নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করায় সর্বানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, নদী ভাঙ্গন রোধে এবং স্থায়ী সংস্কারের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রকল্পের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন- আমরা  ৩০ টি পরিবার এখানে বসবাস করি। ঘর ছিল না- এই ঘর পেয়ে খুব ভালো লাগছিল। ভাঙনের কারণে অধিকাংশ জায়গা নদীতে চলে গেছে। রাতে যখন জোয়ার আসে তখন খুব ভয় হয় এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল। অনেকে ভয়ে রাতে অন্য জায়গায় চলে যায়।
আরেক বাসিন্দা হালিম মিয়া বলেন- নদী থেকে আমাদের ঘর ৭০ থেকে ৮০ হাত দূরে ছিল। এক মাসের ভাঙনে নদী এখন ঘরের কাছে চলে এসেছে। রাতে খুব ভয় হয় কখন ঘর ভেঙে পড়ে। ঘর নদীতে চলে গেলে কোথায় থাকব আমরা।
স্থানীয়রা বলছেন- প্রতিবছর বন্যায় ভাঙন সৃষ্টি হলেও স্থায়ী ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।  এখন যারা দক্ষিণ সাহাবাজ গুচ্ছগ্রামে আছে, তারাও ঘাঘটের ছোবলের কাছাকাছি। এভাবে ভাঙতে থাকলে আশ্রয়হীন ও সর্বস্বান্ত হবে অনেক পরিবার।
প্রতিবছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে নদীপাড়ে এমন বন্যা আর ভাঙন হয় জানিয়ে গুচ্ছগ্রামের যুবক মোনারুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের কথায় কেউ গুরুত্ব দেয় না। আমরা কষ্টে থাকি। প্রতিবছর ভাঙনের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমাদের গুচ্ছগ্রামটি রক্ষা করতে জিও ব্যাগ ও টেকসই ব্লকের ব্যবস্থা সরকার করে দেন । আমরা নিরাপদে এখানে থাকতে চাই।
এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম। এ সময় ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অবগত করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা -ইউএনও- মো. নাজির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে ঘাঘট নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০ পরিবার।।

আপডেট সময় : 11:29:54 am, Wednesday, 9 October 2024
হযরত বেল্লাল
সুন্দরগঞ্জ -গাইবান্ধা- প্রতিনিধি।।
   
   
ভারি বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ঘাঘট নদী ভাঙনের আতঙ্কে দক্ষিণ সাহাবাজ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০টি পরিবার ও মধ্য সাহাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ কারণে প্রকল্পের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ- প্রায় এক মাস ধরে এভাবে নদীভাঙন চললেও কর্তৃপক্ষ তেমন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এদিকে ভাঙন কবলিত এলাকা সংস্কার করা না হলে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে প্রকল্পের ঘরবাড়িগুলো ও স্কুলটি। তাই এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষেরা। কখনো তীব্র স্রোত আর আছড়ে পড়া ঢেউয়ে পাড়ের মাটি খসে গ্রাস করছে এলাকা। কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ সাহাবাজ গুচ্ছগ্রামঘেঁষা ঘাঘট অশান্ত হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি পানি কমতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন যেমন চোখে পড়ছে, তেমনি ভাঙনভীতিতে দিন কাটছে গুচ্ছগ্রামের মানুষজন। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩০টি ভূমিহীন পরিবারের কয়েক শত মানুষ বসবাস করছে।
বর্তমানে সেখানকার ৩০ পরিবার হুমকির মুখে রয়েছেন। নদীর ভাঙন রক্ষার পদক্ষেপ না নিলে এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দ্রুতই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা। যে কোনো মুহূর্তে গুচ্ছগ্রাম ও স্কুলটি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। নদীভাঙনকবলিত এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩০টি ভূমিহীন পরিবারের কয়েক শ মানুষ বসবাস করছেন। একইভাবে সর্বানন্দ ইউনিয়ের ঘাঘট নদীর আশেপাশে বসবাসকারী কয়েক হাজার পরিবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এসব পরিবার এক যুগ আগে থেকে বসবাস করে আসছে। নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করায় সর্বানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, নদী ভাঙ্গন রোধে এবং স্থায়ী সংস্কারের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রকল্পের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন- আমরা  ৩০ টি পরিবার এখানে বসবাস করি। ঘর ছিল না- এই ঘর পেয়ে খুব ভালো লাগছিল। ভাঙনের কারণে অধিকাংশ জায়গা নদীতে চলে গেছে। রাতে যখন জোয়ার আসে তখন খুব ভয় হয় এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল। অনেকে ভয়ে রাতে অন্য জায়গায় চলে যায়।
আরেক বাসিন্দা হালিম মিয়া বলেন- নদী থেকে আমাদের ঘর ৭০ থেকে ৮০ হাত দূরে ছিল। এক মাসের ভাঙনে নদী এখন ঘরের কাছে চলে এসেছে। রাতে খুব ভয় হয় কখন ঘর ভেঙে পড়ে। ঘর নদীতে চলে গেলে কোথায় থাকব আমরা।
স্থানীয়রা বলছেন- প্রতিবছর বন্যায় ভাঙন সৃষ্টি হলেও স্থায়ী ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।  এখন যারা দক্ষিণ সাহাবাজ গুচ্ছগ্রামে আছে, তারাও ঘাঘটের ছোবলের কাছাকাছি। এভাবে ভাঙতে থাকলে আশ্রয়হীন ও সর্বস্বান্ত হবে অনেক পরিবার।
প্রতিবছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে নদীপাড়ে এমন বন্যা আর ভাঙন হয় জানিয়ে গুচ্ছগ্রামের যুবক মোনারুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের কথায় কেউ গুরুত্ব দেয় না। আমরা কষ্টে থাকি। প্রতিবছর ভাঙনের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমাদের গুচ্ছগ্রামটি রক্ষা করতে জিও ব্যাগ ও টেকসই ব্লকের ব্যবস্থা সরকার করে দেন । আমরা নিরাপদে এখানে থাকতে চাই।
এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম। এ সময় ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অবগত করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা -ইউএনও- মো. নাজির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।