Dhaka , Thursday, 26 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জয়নুল আবদীন ফারুকের স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন: সেনবাগে শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত পরিবেশ দোকানে ঢুকল তেলবাহী লরি:নোয়াখালীতে বাবার মৃত্যুর ছয়দিন পর ছেলের মৃত্যু হরিপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান: মালিকবিহীন ৩৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার মোংলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত শরীয়তপুরে সেরা ওসি নির্বাচিত জাজিরা থানার মো. সালেহ্ আহাম্মদ হিলি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ৭ ঘণ্টা পর বিজিবির হাতে আটক যুবককে ফেরত দিল বিএসএফ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল মুক্ত করে ফুটপাত উচ্ছেদের পর ফের দখল চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম’র বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযান; বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস ও মাদক জব্দ কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৮ ডাকাত আটক ৪ জেলে উদ্ধার পাঁচবিবির ১নং রেলগেট সড়ক সংস্কার: দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে স্বস্তি ফিরেছে শরীয়তপুরে দেবরের আত্মহত্যার ২৪ ঘন্টা পর ভাবীর আত্মহত্যা পাইকগাছায় শিবসা ব্রিজ যেন মরণফাঁদ; প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পথচারী পাইকগাছায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে প্রশাসন মধুপুরে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মধুপুরে গাছ নিধনের পর বনে আগুন ॥ ৭৫ একর ভূমি জবরদখলের পায়তারা ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে রাজনগরে যুবক খুন ছুরিকাঘাতে নিহত, অভিযুক্ত একই গ্রামের তরুণ ফতুল্লায় মোতালেব মনোয়ারা কম্পোজিটে শ্রমিক অসন্তোষ, ৪ মার্চ বকেয়া পরিশোধের চুক্তি চরভদ্রাসনে আইন- শৃঙ্খলা উন্নয়নে উঠান বৈঠক: “মাদকের ছয়লাভ- লাইসেন্সবিহীন দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল: অভিযোগ এলাকাবাসীর। লক্ষ্মীপুরে ভাবির মৃত্যুর খবর শুনে দেবরের মৃত্যু শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিতে হবে: শ্রমমন্ত্রী ভুট্টা ক্ষেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার: এলাকায় শোকের ছায়া লালমনিরহাটে অটোরিকশা চালকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি: ডিবি পুলিশের জালে দুই অপরাধী দেশের ক্রীড়াঙ্গণের সামগ্রিক উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক। খালের দখল-দূষণ প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী জুনিয়র বৃত্তি ও সমমানের বৃত্তি ও এবতেদায়ি ৫ম বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফল প্রকাশঃ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের একীভূত অন্তর্ভুক্তির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের সাথে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সভা/ ধর্ম সংক্রান্ত সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি-ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের নির্দেশনা ডিএসসিসি প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিএনসিসি প্রশাসক

লক্ষ্মীপুরের দুর্গম চরে  সবজি বিপ্লব কৃষকের মুখে হাসি।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:46:53 am, Tuesday, 3 December 2024
  • 99 বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরের দুর্গম চরে  সবজি বিপ্লব কৃষকের মুখে হাসি।।

মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
   
   
লক্ষ্মীপুর জেলার মেঘনার চরাঞ্চলে সোনালি ফসল চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করছেন চাষিরা। দামও ভালো পাচ্ছেন। তাই এ অঞ্চলের কৃষকের মুখে এখন সোনালী হাসি। পূর্বে পরিত্যক্ত ও গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত মেঘনায় জেগে উঠা চরে গত কয়েক বছর ধরে অনাবাদি জমিতে ফলতে শুরু করেছে- সবুজ শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল।
বর্তমানে  লক্ষ্মীপুর  জেলার চরাঞ্চলে  ১২ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হচ্ছে। এতে মেঘনার চরে চাষিদের জীবনে এসেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব ফসল পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা- চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে প্রায়ই ক্ষতির শিকার হতে হয় কৃষকদের। কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণে বেপারিদের বেঁধে দেয়া মূল্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হয় চাষিদের। এতে অনেকাংশ সময় নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় কৃষক।
কৃষকদের অভিযোগ- কৃষি বিভাগ থেকে কোন সহযোগিতা তো দূরের কথা- পরামর্শও পান না। তাদের দাবি সংশ্লিষ্টদের সু নজর পেলে চরের মাটিতে সোনা ফলানো সম্ভব আরও বিপ্লব ঘটানো যাবে।
চরের কৃষক জামাল চাষি বলেন- গত তিন বছর ধরে চরে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষাবাদ করছি। চরের মাটিতে শশা- খিরা- করল্লা- লাউ- কুমড়া- চিচিঙ্গা- তরীসহ নানা জাতের সবজির ভাল উৎপাদন হয়। বাণিজ্যিক চাষাবাদে মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা কোন ঋণ পাই না। সঠিক মতো চাষাবাদ করতে পারলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে ভাল লাভ হয়। তিনি বলেন- নদীর মাঝে চর হওয়ায় মাঝেমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলেও পড়তে হয়। 
জামাল জানান- তিনি এবার তিন একর জমিতে শশার আবাদ করেছেন। গাছের বয়স হয়েছে ১৫ দিন- ৪৫ দিনের মাথায় ফলনে চেয়ে যাবে শশার ক্ষেত। প্রতি একরে খরচ পড়েছে ছয় লাখ টাকা। মোট ব্যয় হয়েছে ১৮ লাখ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
জামাল অভিযোগ করে বলেন- চরের কৃষকেরা সম্পূর্ণ নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফসল ফলিয়ে যাচ্ছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কোনো সহযোগিতা এবং পরামর্শ পাই না। এখানকার কৃষকরা কৃষি অফিসারকেও চিনেও না।
ধানচাষি আবদুর রহমান বলেন- ঝড়বৃষ্টি বা জোয়ার উঠলে কিছুটা ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়। আবার নতুন করে চাষাবাদ করি। তবে সব মিলিয়ে লাভও হয়।
চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন- চরের মাটির গুণাগুণ ভালো। তাই ফলন ভালো হয়। ১৫ বছর ধরে চরে ধান, সয়াবিন, সবজির চাষ করি। তবে মাঝে-মধ্যে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে চরের ফসল তলিয়ে যায়। তখন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হই। ক্ষতির শিকার হলেও আমরা সরকারি কোন সহযোগিতা পাই না।
চরের কৃষি শ্রমিক রিয়াজ- ফরিদা বেগম ও নাসরিন বলেন- চরের চাষাবাদ শুরুর পর থেকে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বছরের ছয় মাস চরে কাজ থাকে। আমরা মাসিক ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে নিয়োজিত আছি। চরেই থাকি- চরেই কাজকর্ম করি।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী মো. জিহাদ হোসেন বলেন- চরের ফসল স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনে চরের জমি এবং কৃষকেরা ভূমিকা রাখছে। কিন্তু কৃষিপণ্য বাজারজাতের ক্ষেত্রে কৃষকদের ঠকতে হয়। তারা নায্যমূল্য পায় না। পণ্য বাজারজাতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন। এতে কৃষি উৎপাদনে উৎসাহিত হবে কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ চরে ফসল উৎপাদনে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন- লক্ষ্মীপুর উপকূলীয় এলাকা। চরের ১২ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হচ্ছে। চরে বিচ্ছিন্ন কিছু দ্বীপ রয়েছে। সেগুলোকে কেন্দ্র করে কৃষি বিভাগ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে। এখানে জোয়ার-ভাটার একটা প্রভাব রয়েছে। তাই ‘ক্লাইমেট স্মাট এগ্রিকালচার’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের কিছু প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। মাঠ দিবসও করা হয়। তিনি বলেন, চরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। সেখানে সরিষা, ভুট্টা, বাদাম, তিল সম্ভাবনাময় ফসল। আমরা ব্যাপকভাবে এগুলো চাষাবাদের উৎসাহিত করছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জয়নুল আবদীন ফারুকের স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন: সেনবাগে শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত পরিবেশ

লক্ষ্মীপুরের দুর্গম চরে  সবজি বিপ্লব কৃষকের মুখে হাসি।।

আপডেট সময় : 05:46:53 am, Tuesday, 3 December 2024
মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
   
   
লক্ষ্মীপুর জেলার মেঘনার চরাঞ্চলে সোনালি ফসল চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করছেন চাষিরা। দামও ভালো পাচ্ছেন। তাই এ অঞ্চলের কৃষকের মুখে এখন সোনালী হাসি। পূর্বে পরিত্যক্ত ও গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত মেঘনায় জেগে উঠা চরে গত কয়েক বছর ধরে অনাবাদি জমিতে ফলতে শুরু করেছে- সবুজ শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল।
বর্তমানে  লক্ষ্মীপুর  জেলার চরাঞ্চলে  ১২ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হচ্ছে। এতে মেঘনার চরে চাষিদের জীবনে এসেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব ফসল পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা- চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে প্রায়ই ক্ষতির শিকার হতে হয় কৃষকদের। কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণে বেপারিদের বেঁধে দেয়া মূল্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হয় চাষিদের। এতে অনেকাংশ সময় নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় কৃষক।
কৃষকদের অভিযোগ- কৃষি বিভাগ থেকে কোন সহযোগিতা তো দূরের কথা- পরামর্শও পান না। তাদের দাবি সংশ্লিষ্টদের সু নজর পেলে চরের মাটিতে সোনা ফলানো সম্ভব আরও বিপ্লব ঘটানো যাবে।
চরের কৃষক জামাল চাষি বলেন- গত তিন বছর ধরে চরে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষাবাদ করছি। চরের মাটিতে শশা- খিরা- করল্লা- লাউ- কুমড়া- চিচিঙ্গা- তরীসহ নানা জাতের সবজির ভাল উৎপাদন হয়। বাণিজ্যিক চাষাবাদে মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা কোন ঋণ পাই না। সঠিক মতো চাষাবাদ করতে পারলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে ভাল লাভ হয়। তিনি বলেন- নদীর মাঝে চর হওয়ায় মাঝেমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলেও পড়তে হয়। 
জামাল জানান- তিনি এবার তিন একর জমিতে শশার আবাদ করেছেন। গাছের বয়স হয়েছে ১৫ দিন- ৪৫ দিনের মাথায় ফলনে চেয়ে যাবে শশার ক্ষেত। প্রতি একরে খরচ পড়েছে ছয় লাখ টাকা। মোট ব্যয় হয়েছে ১৮ লাখ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
জামাল অভিযোগ করে বলেন- চরের কৃষকেরা সম্পূর্ণ নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফসল ফলিয়ে যাচ্ছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কোনো সহযোগিতা এবং পরামর্শ পাই না। এখানকার কৃষকরা কৃষি অফিসারকেও চিনেও না।
ধানচাষি আবদুর রহমান বলেন- ঝড়বৃষ্টি বা জোয়ার উঠলে কিছুটা ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়। আবার নতুন করে চাষাবাদ করি। তবে সব মিলিয়ে লাভও হয়।
চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন- চরের মাটির গুণাগুণ ভালো। তাই ফলন ভালো হয়। ১৫ বছর ধরে চরে ধান, সয়াবিন, সবজির চাষ করি। তবে মাঝে-মধ্যে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে চরের ফসল তলিয়ে যায়। তখন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হই। ক্ষতির শিকার হলেও আমরা সরকারি কোন সহযোগিতা পাই না।
চরের কৃষি শ্রমিক রিয়াজ- ফরিদা বেগম ও নাসরিন বলেন- চরের চাষাবাদ শুরুর পর থেকে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বছরের ছয় মাস চরে কাজ থাকে। আমরা মাসিক ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে নিয়োজিত আছি। চরেই থাকি- চরেই কাজকর্ম করি।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী মো. জিহাদ হোসেন বলেন- চরের ফসল স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনে চরের জমি এবং কৃষকেরা ভূমিকা রাখছে। কিন্তু কৃষিপণ্য বাজারজাতের ক্ষেত্রে কৃষকদের ঠকতে হয়। তারা নায্যমূল্য পায় না। পণ্য বাজারজাতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন। এতে কৃষি উৎপাদনে উৎসাহিত হবে কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ চরে ফসল উৎপাদনে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন- লক্ষ্মীপুর উপকূলীয় এলাকা। চরের ১২ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হচ্ছে। চরে বিচ্ছিন্ন কিছু দ্বীপ রয়েছে। সেগুলোকে কেন্দ্র করে কৃষি বিভাগ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে। এখানে জোয়ার-ভাটার একটা প্রভাব রয়েছে। তাই ‘ক্লাইমেট স্মাট এগ্রিকালচার’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের কিছু প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। মাঠ দিবসও করা হয়। তিনি বলেন, চরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। সেখানে সরিষা, ভুট্টা, বাদাম, তিল সম্ভাবনাময় ফসল। আমরা ব্যাপকভাবে এগুলো চাষাবাদের উৎসাহিত করছি।