Dhaka , Monday, 18 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রামুতে শতশত বনভূমির মাঝে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অসহায় মুফিজের একমাত্র ঘর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিবৃতি অকাল ঝড়ে কৃষক-ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, তবুও গাজীপুরের লিচু ঘিরে সম্ভাবনার স্বপ্ন সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, জিম্মি ৪ জেলে উদ্ধার মেঘনা ভাঙনে উপকূল, জরুরি কাজের আশ্বাস পানিসম্পদ মন্ত্রীর কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোন অরাজকতা চলবেনা:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকার ১২টা বাজিয়ে গেছে: আবদুস সালাম দুই দিনের সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় ঈদুল আজহা ২৭ মে আহত খেলোয়াড়কে আর্থিক সহায়তা দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মাদক প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাইলেন মধুপুরের ওসি ফজলুল হক রূপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়া ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা ৭টি পাসপোর্টসহ সীমান্তে আটক সাবেক পররাষ্ট্র ডিজি সাব্বির কারাগারে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে দিল্লিতে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪৫ ডিগ্রিতে আবুধাবির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা রাশিয়ায় ইউক্রেনের পালটা ড্রোন হামলা, নিহত ৪ ঈদুল আজহা কবে জানাল আফগানিস্তান ইসলামের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করছে জামায়াত: রাশেদ খান এবার অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের সব ঘটনার তদন্ত চেয়ে রিট উন্নয়নের মহাযজ্ঞে পাল্টে যাচ্ছে পাইকগাছা পৌরসভার যোগাযোগ ব্যবস্থা হরমুজ ইস্যুতে চীনের অবস্থানকে সমর্থন করবে রাশিয়া ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে? মোটরসাইকেল মালিক-চালকদের ওপর কর চান না বিরোধী দলীয় নেতা চট্টগ্রামে র‌্যাবের পৃথক অভিযান, জাল নোটসহ গ্রেফতার ৩ ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: বিপুল পরিমাণ গাঁজা জব্দ গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দড়ি ছাড়াই ঘুরে বেড়ায় ১৩শ কেজির ‘নেইমার’ ড. ইউনূসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট জামায়াত নেতার বাড়িতে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)’র কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে আওয়ামী সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:58:41 pm, Friday, 13 March 2026
  • 25 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)-এর কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ শুক্রবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ১৪ মার্চ বিকালে নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ইফতার মাহফিলের নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছে। বাস্তবে এটি একটি রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা, যা নিষিদ্ধ সংগঠন ও তাদের অনুসারীদের পুনরায় সংগঠিত করার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ বলে আমাদের দৃঢ বিশ্বাস। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারন সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানসহ নেতৃবৃন্দ জানান, ইতিপূর্বেও এই চক্রটি পুলিশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টাওয়ারের সামনে এক সমাবেশে পুলিশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাসহ জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে সমাবেশ শেষ করে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, সিইউজে নামের এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির কথিত সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরীসহ এর অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগের পলাতক ফ্যাসিস্ট নেতৃত্বের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি চট্টগ্রামের সর্বমহলে সুবিদিত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের কাছে এমনও তথ্য রয়েছে যে, উক্ত কর্মসূচির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, যারা বর্তমানে জনসমক্ষে সক্রিয় হতে না পেরে ইফতার মাহফিলের মতো সামাজিক আয়োজনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে। এই চক্রটি সরকার বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জেলে আটক শ্যামল দত্তসহ আরো অনেককে তাদের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে সবসময় সরকার বিরোধী অবস্থান নেয়। শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষনা ও বিগত জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্য রিয়াজ হায়দারসহ কতিপয় সাংবাদিক স্বাক্ষর করে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের মুখোশ উম্মোচন করেছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় পর্যায়েও এই সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং কেউ কেউ পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তারা মূলত পলাতক আওয়ামী লীগ

নেতাদের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে জনমনে দৃঢ় ধারণা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামেও এই নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পলাতক ফ্যাসিস্ট নেতৃত্ব ও তাদের সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বিগত কমিটি সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এটি একটি প্রতারণামূলক ও অনৈতিক পদক্ষেপ। কারণ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী ও নিয়মতান্ত্রিক সাংবাদিক সংগঠন, যার মর্যাদা ও নিরপেক্ষতার আড়ালে ফ্যাসিস্ট ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিদর্শন করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

ফ্যাসিস্ট শক্তির সহযোগী হিসেবে পরিচিত একটি সংগঠন প্রকাশ্যে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করায় সাংবাদিক সমাজ, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নিষিদ্ধ শক্তিকে পুনরায় সংগঠিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের দৃঢ় ধারণা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় উক্ত কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনানুগভাবে তদন্তের আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন, ফ্যাসিবাদের এসব দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে, যা জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ বলেন, জনরায়ে নির্বাচিত সরকারের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরাও চাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক। তবে যারা জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রদের রক্ত নিয়ে হোলিখেলা করেছে এবং প্রেস মিডিয়াতে আন্দোলনের যোদ্ধাদের নামে যারা ভীতি তৈরি করেছে, যারা সহযোগিতার ভূমিকা পালন করছে তাদের এ ধরনের অবাধ বিচরণ ও সমাবেশ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমাজের মতো চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজও মেনে নিবে না। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের সমাবেশে কোন ধরনের অপ্রিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ দায়ী থাকবে না। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে শতশত বনভূমির মাঝে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অসহায় মুফিজের একমাত্র ঘর

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)’র কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে আওয়ামী সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান।

আপডেট সময় : 03:58:41 pm, Friday, 13 March 2026

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)-এর কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ শুক্রবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ১৪ মার্চ বিকালে নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ইফতার মাহফিলের নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছে। বাস্তবে এটি একটি রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা, যা নিষিদ্ধ সংগঠন ও তাদের অনুসারীদের পুনরায় সংগঠিত করার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ বলে আমাদের দৃঢ বিশ্বাস। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারন সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানসহ নেতৃবৃন্দ জানান, ইতিপূর্বেও এই চক্রটি পুলিশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টাওয়ারের সামনে এক সমাবেশে পুলিশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাসহ জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে সমাবেশ শেষ করে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, সিইউজে নামের এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির কথিত সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরীসহ এর অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগের পলাতক ফ্যাসিস্ট নেতৃত্বের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি চট্টগ্রামের সর্বমহলে সুবিদিত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের কাছে এমনও তথ্য রয়েছে যে, উক্ত কর্মসূচির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, যারা বর্তমানে জনসমক্ষে সক্রিয় হতে না পেরে ইফতার মাহফিলের মতো সামাজিক আয়োজনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে। এই চক্রটি সরকার বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জেলে আটক শ্যামল দত্তসহ আরো অনেককে তাদের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে সবসময় সরকার বিরোধী অবস্থান নেয়। শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষনা ও বিগত জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্য রিয়াজ হায়দারসহ কতিপয় সাংবাদিক স্বাক্ষর করে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের মুখোশ উম্মোচন করেছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় পর্যায়েও এই সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং কেউ কেউ পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তারা মূলত পলাতক আওয়ামী লীগ

নেতাদের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে জনমনে দৃঢ় ধারণা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামেও এই নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পলাতক ফ্যাসিস্ট নেতৃত্ব ও তাদের সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বিগত কমিটি সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এটি একটি প্রতারণামূলক ও অনৈতিক পদক্ষেপ। কারণ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী ও নিয়মতান্ত্রিক সাংবাদিক সংগঠন, যার মর্যাদা ও নিরপেক্ষতার আড়ালে ফ্যাসিস্ট ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিদর্শন করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

ফ্যাসিস্ট শক্তির সহযোগী হিসেবে পরিচিত একটি সংগঠন প্রকাশ্যে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করায় সাংবাদিক সমাজ, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নিষিদ্ধ শক্তিকে পুনরায় সংগঠিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের দৃঢ় ধারণা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় উক্ত কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনানুগভাবে তদন্তের আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন, ফ্যাসিবাদের এসব দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে, যা জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ বলেন, জনরায়ে নির্বাচিত সরকারের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরাও চাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক। তবে যারা জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রদের রক্ত নিয়ে হোলিখেলা করেছে এবং প্রেস মিডিয়াতে আন্দোলনের যোদ্ধাদের নামে যারা ভীতি তৈরি করেছে, যারা সহযোগিতার ভূমিকা পালন করছে তাদের এ ধরনের অবাধ বিচরণ ও সমাবেশ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমাজের মতো চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজও মেনে নিবে না। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের সমাবেশে কোন ধরনের অপ্রিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ দায়ী থাকবে না। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।