Dhaka , Friday, 10 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাঁচবিবিতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন, উপকৃত হবেন স্থানীয় কৃষকরা পাইকগাছায় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত বাকলিয়ায় গুলিবর্ষণকারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শ্যুটার ফারুক গ্রেফতার গণভোটের অধিকার ফেরানোর দাবি: লালমনিরহাটে ১১ দলীয় জোটের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ রূপগঞ্জে অনুমতি ছাড়াই ভোজ্যতেল ব্র্যান্ডিং দুই প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা সীমান্তে ১৫ বিজিবির অ্যাকশন: মাদক ও বিপুল পরিমাণ ডিজেলসহ কারবারি গ্রেপ্তার ফতুল্লায় ঝুট দখল নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপে বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০ টাঙ্গাইলের মধুপুরে খাল খনন উদ্বোধন ঢাকায় সাবেক এমপি সফুরা বেগম রুমী গ্রেফতার: কড়া নিরাপত্তায় আনা হলো লালমনিরহাটে ‘বৈসাবি’ নয়, প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর… ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে আশ ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ নোয়াখালীতে ৩ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি ডিজেল জব্দ মোংলায় জাতীয় গোয়েন্ধা সংস্থার সংবাদে অবৈধ তেলের গোডাউনে র‌্যাবের অভিযান বিজিবির হস্তক্ষেপে দেশে ফিরল লাশ: পাটগ্রামে আলী হোসেনের মরদেহ বুঝে নিল পরিবার রূপগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও একটি চুনা কারখানা গুড়িয়ে দেয় তিতাস কর্তৃপক্ষরা। সাতকানিয়ায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের বর্ণাঢ্য আয়োজন সাতকানিয়ায় অবৈধ জ্বালানি মজুদ: মধ্যরাতে অভিযানে ৪০০ লিটার অকটেন-ডিজেল জব্দ ফুটবল উন্মাদনায় পাইকগাছা; চ্যাম্পিয়ন মডেল-শিববাটী রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ভোজ্য তেলের মজুদ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও র‍্যাব-১১ তদারকি ; অবৈধ মজুদে কোন ছাড় নেই ইউএন সিএমপি’র পাঁচলাইশ মডেল থানা এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা’র শুভ উদ্বোধন কাউখালীতে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমেলা শুরু সায়েদাবাদে বাস টার্মিনাল এলাকায় ডিএসসিসির বড় অভিযান: ২৪০টি অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদ শুরু ফেনীতে ভোজ্যতেলের মজুদ এবং অনুমোদন বিহীন লেভেলিং’র বিরুদ্ধে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম’র উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও  নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান ১১ এপ্রিল ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে বিজিবির বিশেষ অভিযান: মাদক ও মালামাল জব্দ পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তে ইটিসি রেজিষ্ট্রেশন শুরু; দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন দিগন্ত রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার পুষ্টিকর খাবারের নামে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে নষ্ট কলা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত: পতাকা বৈঠকে বিজিবির তীব্র প্রতিবাদ

কক্সবাজারে কৃষিখাতে প্রণোদনার নামে লুটপাট 

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:24:35 pm, Saturday, 17 January 2026
  • 22 বার পড়া হয়েছে
তৌহিদ বেলাল:
২০২৪-২৫ অর্থবছরের রবি মৌসুমে বোরো আবাদ বৃদ্ধির লক্ষে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি বীজ ও সার সহায়তা প্রকল্পে কক্সবাজারে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে লাখ লাখ টাকার সহায়তা দেখানো হলেও বাস্তবে প্রকৃত কৃষকদের একটি বড় অংশই কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে গত অর্থবছরে সারাদেশে মোট ৬১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৬ কোটি ৩১ লাখ ১ হাজার ১১৯ টাকা। তার মধ্যে শুধু একটি সহায়তা প্রকল্পে কক্সবাজার সদর উপজেলার পৌরসভা ও ঝিলংজা, খরুলিয়া, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী এবং ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য বরাদ্দ ছিল জনপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া সার ও ১০ কেজি উফশী বোরো ধানের বীজ।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরাদ্দকৃত এই সহায়তার বড় একটি অংশ মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক কৃষক জানেনই না যে, তারা সরকারি তালিকাভুক্ত উপকারভোগী। আবার কেউ কেউ নামমাত্র কিছু বীজ পেলেও সার পাননি। কোথাও তালিকাভুক্ত হয়েও সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়েছেন কৃষকেরা।
তালিকায় ১ নম্বরে থাকা খুরুশকুল ইউনিয়নের মেহেদীপাড়ার কৃষক মোক্তার আহমদ বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম আছে এটা আমি পরে জানতে পারি। কিন্তু তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে আমি কোনো বীজ বা সার পাইনি।’
একই ইউনিয়নের নজির আহমদ (তালিকা নম্বর ২৬) জানান, তালিকাভুক্ত হয়েও তিনি কোনো ধরনের সহায়তা পাননি।
তালিকার ৫৭ ও ৫৮ নম্বরে থাকা একই পরিবারের বাদশা মিয়া ও আবু খালেক জানান, তাঁরা মাত্র ৫ কেজি বীজ পেলেও এক কেজি সারও পাননি। গাজীর ডেইল এলাকার কৃষক শাহ আলমের অভিযোগ, একই তালিকায় নাম থাকলেও কোনো সহায়তা তাঁর হাতে পৌঁছায়নি।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়  বীজ-সার দেয়, যেনো আমরা জমিতে ফসল ফলাতে পারি। কিন্তু বাস্তবে আমরা কিছুই পাই না। কাগজে দেখানো হয়, আমরা সব পেয়েছি, অথচ মাঠে এসে দেখি শূন্য। সহায়তা বরাদ্দ হয়েছে। তালিকায় ভুয়া নাম ঢুকিয়ে, একই মোবাইল নম্বর দিয়ে, অন্য ইউনিয়নের ঠিকানা বসিয়ে টাকা আর মালামাল লুটপাট করা হচ্ছে।’
তারা বলছেন, ‘আমরা ক্ষুদ্র কৃষক, আমাদের কথা বলার কেউ নেই। অফিসে বসে তালিকা বানানো হয়, আর আমরা খালি হাতে মাঠে নামি। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।’
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, উপকারভোগী তালিকার ৯১ থেকে ১০০ নম্বর পর্যন্ত একাধিক কৃষকের জন্য একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে এক ইউনিয়নের কৃষকের ঠিকানা অন্য ইউনিয়নের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করারও প্রমাণ মিলেছে। এসব অনিয়মে প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তার নামে কোটি কোটি টাকা মাঠপর্যায়ে না পৌঁছে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের হাতেই থেকে যাচ্ছে। এতে সরকারের কৃষি সহায়তা কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং কৃষকদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাসেল রানা নতুন দায়িত্বে এসেছেন বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড.বিমল কুমার প্রামানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচবিবিতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন, উপকৃত হবেন স্থানীয় কৃষকরা

কক্সবাজারে কৃষিখাতে প্রণোদনার নামে লুটপাট 

আপডেট সময় : 08:24:35 pm, Saturday, 17 January 2026
তৌহিদ বেলাল:
২০২৪-২৫ অর্থবছরের রবি মৌসুমে বোরো আবাদ বৃদ্ধির লক্ষে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি বীজ ও সার সহায়তা প্রকল্পে কক্সবাজারে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে লাখ লাখ টাকার সহায়তা দেখানো হলেও বাস্তবে প্রকৃত কৃষকদের একটি বড় অংশই কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে গত অর্থবছরে সারাদেশে মোট ৬১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৬ কোটি ৩১ লাখ ১ হাজার ১১৯ টাকা। তার মধ্যে শুধু একটি সহায়তা প্রকল্পে কক্সবাজার সদর উপজেলার পৌরসভা ও ঝিলংজা, খরুলিয়া, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী এবং ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য বরাদ্দ ছিল জনপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া সার ও ১০ কেজি উফশী বোরো ধানের বীজ।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরাদ্দকৃত এই সহায়তার বড় একটি অংশ মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক কৃষক জানেনই না যে, তারা সরকারি তালিকাভুক্ত উপকারভোগী। আবার কেউ কেউ নামমাত্র কিছু বীজ পেলেও সার পাননি। কোথাও তালিকাভুক্ত হয়েও সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়েছেন কৃষকেরা।
তালিকায় ১ নম্বরে থাকা খুরুশকুল ইউনিয়নের মেহেদীপাড়ার কৃষক মোক্তার আহমদ বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম আছে এটা আমি পরে জানতে পারি। কিন্তু তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে আমি কোনো বীজ বা সার পাইনি।’
একই ইউনিয়নের নজির আহমদ (তালিকা নম্বর ২৬) জানান, তালিকাভুক্ত হয়েও তিনি কোনো ধরনের সহায়তা পাননি।
তালিকার ৫৭ ও ৫৮ নম্বরে থাকা একই পরিবারের বাদশা মিয়া ও আবু খালেক জানান, তাঁরা মাত্র ৫ কেজি বীজ পেলেও এক কেজি সারও পাননি। গাজীর ডেইল এলাকার কৃষক শাহ আলমের অভিযোগ, একই তালিকায় নাম থাকলেও কোনো সহায়তা তাঁর হাতে পৌঁছায়নি।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়  বীজ-সার দেয়, যেনো আমরা জমিতে ফসল ফলাতে পারি। কিন্তু বাস্তবে আমরা কিছুই পাই না। কাগজে দেখানো হয়, আমরা সব পেয়েছি, অথচ মাঠে এসে দেখি শূন্য। সহায়তা বরাদ্দ হয়েছে। তালিকায় ভুয়া নাম ঢুকিয়ে, একই মোবাইল নম্বর দিয়ে, অন্য ইউনিয়নের ঠিকানা বসিয়ে টাকা আর মালামাল লুটপাট করা হচ্ছে।’
তারা বলছেন, ‘আমরা ক্ষুদ্র কৃষক, আমাদের কথা বলার কেউ নেই। অফিসে বসে তালিকা বানানো হয়, আর আমরা খালি হাতে মাঠে নামি। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।’
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, উপকারভোগী তালিকার ৯১ থেকে ১০০ নম্বর পর্যন্ত একাধিক কৃষকের জন্য একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে এক ইউনিয়নের কৃষকের ঠিকানা অন্য ইউনিয়নের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করারও প্রমাণ মিলেছে। এসব অনিয়মে প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তার নামে কোটি কোটি টাকা মাঠপর্যায়ে না পৌঁছে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের হাতেই থেকে যাচ্ছে। এতে সরকারের কৃষি সহায়তা কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং কৃষকদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাসেল রানা নতুন দায়িত্বে এসেছেন বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড.বিমল কুমার প্রামানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।