
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন জামিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের সামনে সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আকস্মিক মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারবিরোধী স্লোগান, নাশকতার পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুবলীগ নেতাসহ ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে ২০২৬ ইং তারিখে কোতোয়ালী থানায় কর্মরত এসআই শরীফ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ এলাকায় জরুরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি অংশ জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মিছিল বের করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে হাতে লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে অবস্থান নেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এসআই শরীফ উদ্দিন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ১৫টি ইটের ভাঙা টুকরা ও ৮টি কাঠের লাঠি জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিএমপির কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কোতোয়ালী থানার এসআই শরীফ উদ্দিন, এসআই মোঃ সোহরাব হোসেন, এএসআই তফাজ্জল হোসাইন, এএসআই উত্তম চন্দ্র পালসহ বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগ নেতা মোঃ মহিউদ্দিন প্রকাশ মহিউদ্দিন (৩৯), মোঃ সুমন (২৪), মোঃ ইমন (২৩), যুবলীগ নেতা মোঃ মুর্তুজা মেহেদী প্রকাশ মেহেদী হাসান (২২), মোঃ বশর প্রকাশ হাসান (২৪), মোঃ সজিব (২৭), মোঃ মুসা (৪২), মোঃ সোহেল (২৮), মোঃ মনির (৩৭), রায়হান (২৯), ইলিয়াছ প্রকাশ মিলন (২৬), মোঃ জাহিদুল হক প্রকাশ সোহাগ (২৪), মোঃ শাহিন (২৭), মোঃ শরীফ (২০), মোঃ ছোটন প্রকাশ রাকিব মিয়া (২৮), আলামিন (২৪), মোঃ সাদ্দাম হোসেন (২৯), মোঃ রাসেল (২৫) ও মোঃ জয়নাল (২২)-কে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-২৭, তারিখ ১৫/০৫/২০২৬ ইং, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩) এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা, সরকারবিরোধী ভ্রান্ত তথ্য প্রচার, নাশকতা ও অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
পুলিশের সিডিএমএস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেফতারকৃত যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কোতোয়ালী থানায় অন্তত ১৫টি মামলা পাওয়া গেছে। একইভাবে গ্রেফতারকৃত সুমন, মেহেদী হাসান, মুসা, সাদ্দাম হোসেন ও রায়হানের বিরুদ্ধেও হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, রাজনৈতিক ব্যানারে সহিংসতা, নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর অবস্থান জরুরি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

























