
চঞ্চল,
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন “কাজ হবে আমার এলাকায়, কাজ করবে আমার এলাকার মানুষ”।
শুক্রবার (১ মে) জেলা শ্রমিক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল র্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি। পাশপাশি তিনি লালমনিরহাটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে একাধিক যুগান্তকারী ঘোষণা প্রদান করেন।
শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এই দিনে বেকার যুবকদের জন্য আশার বাণী শুনিয়েছেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানান, দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে খুব শীঘ্রই ১,০০০ (এক হাজার) জনবল নিয়োগ করা হবে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, “সরকার সরাসরি কারখানা করবে না, তবে আমাদের এলাকায় প্রচুর কাঁচামাল যেমন আলু ও ভুট্টা রয়েছে। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে এখানে শিল্প কারখানা গড়তে আমি ব্যক্তিগতভাবে বড় উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলেছি এবং তারা বিনিয়োগে সম্মত হয়েছেন।”
লালমনিরহাটের চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “রাস্তাঘাট, সরকারি ইমারত বা যে কোনো বড় স্থাপনা নির্মাণে আমাদের এলাকার রাজমিস্ত্রি, রঙমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানদের কাজ দিতে হবে।” তিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি কোনো ঠিকাদার আমাদের এলাকার যোগ্য দক্ষ শ্রমিকদের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে কাজ করাতে চায়, তবে সাথে সাথে আমাকে জানাবেন। আমার এলাকার উন্নয়ন হবে আমার এলাকার মানুষের শ্রমে।”
উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচি শুরু করেছি। প্রতিটি ওয়ার্ড, উপজেলা ও পৌরসভায় কমিটি গঠন করা হয়েছে।” তিনি মাদকাসক্ত ও জুয়াড়িদের সতর্ক করে বলেন, “গোপনে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা মাদক বা ক্যাসিনোর সাথে জড়িত, তারা দ্রুত এই পথ ছেড়ে দিন। তা না হলে সামাজিকভাবে বয়কটসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি ইমাম সাহেবদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুতবার সময় সমাজকে সচেতন করতে এই বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে।
সমাবেশে লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী সাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, সদর উপজেলার আহ্বায়ক শিবেন্দ্রনাথ রায়, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন লিমন এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ওমর ফারুক বাবলু ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও হাজারো শ্রমজীবী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।






















