
এন. রহমান নয়ন, চন্দনাইশ প্রতিনিধি:
চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী হাজারী টাওয়ারের আন্ডারগ্রাউন্ডে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে আবু হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তির ফলের আড়তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয় বলে জানা যায়। এতে ফলের আড়ৎসহ পাশাপাশি আরো ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয় বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থরা। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আবু হুমায়নের মালিকানাধীন ফলের আড়ৎ, আমানত উদ্দীনের মালিকানাধীন খাগরিয়া স্টোর, কাজী ছৈয়দ নুরের মালিকানাধীন এজে সুপার সপ এবং ছাবের আহমদের মালিকানাধীন মেজবান বাড়ি রেস্তোরা।
জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ আবু হুমায়নের মালিকানাধীন ফলের আড়ৎ থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়। এসময় ওই মার্কেটের সকল দোকান বন্ধ ছিল। এসময় আগুনের ঘটনা টের পেয়ে পার্শ্ববর্তী মেজবান বাড়ি রেস্টুরেন্টের ১৫ জন কর্মচারী আগুন নেভাতে এগিয়ে আসে। পরবর্তীতে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
মেজবান বাড়ি রেষ্টুরেন্টের সত্বাধিকারী সাবের আহমদ সওদাগর জানান, তার রেস্টুরেন্টের সামনে আবু হুমায়ুনের মালিকানাধীন ফলের আড়তে গতকাল মঙ্গলবার রাতব্যাপী বিপুল সংখ্যক পেঁপে পাকার জন্য কর্মচারীরা কাগজ মুড়িয়ে মজুদ করে। শেষরাতে তারা চলে গেলেও বৈদ্যুতিক পাখা চালু রেখেছিল। সকাল ৭টার সময় বৈদ্যুতিক পাখা থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে কাগজে পড়লে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তার রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা পানি ও বালু ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনার সময় আন্ডারগ্রাউন্ডের সকল দোকানপাঠ বন্ধ ছিল। না হয় ক্ষতির পরিমান আরো বৃদ্ধি পেতো। তবে পানি ও কালো ধোয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ডের প্রায় প্রত্যেকটি দোকানে রক্ষিত মালামালের ক্ষতি সাধিত হয়।
চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক অতীশ চাকমা জানান, দোহাজারী হাজারী টাওয়ারের আন্ডারগ্রাউন্ডে আগুন লাগার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস থেকেও ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকান্ডে ফলের আড়ৎসহ পাশাপাশি ৪টি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে এবং তদন্তে সেখানে অবস্থিত একটি ফলের আড়ৎ থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির নিরুপের কাজ চলছে।























