
মো.ইমরান হোসেন,
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গাজীপুর শিল্পনগরীকে আমি মনে করি পোশাক শিল্পের রাজধানী। এই গার্মেন্টসে লক্ষ লক্ষ ভাই -বোনেরা কাজ করেন। এই শিল্প এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বিদেশে আমাদের শ্রমিক যাই, সেই ব্যবস্থা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমাদের মেয়েদের জন্য প্রাইমারি থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। গার্মেন্টস শিল্পকে আরও বাড়িয়ে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার চালু করা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১২টায় গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ময়দানে বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনিএসব কথা বলেন । এসময় তিনি গাজীপুরের ৫টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষায় গাজীপুরের মানুষের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে এবং নিজের শৈশবের স্মৃতির কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে আমি এই রাজবাড়ী মাঠে অনেক দৌড়াদৌড়ি ও খেলাধুলা করেছি। রাজ বাড়িতে লাল দুটি বাংলো বাড়ি ছিল, সেই বাংলোতে আমরা পরিবারের সবাই থাকতাম। আমার ছোটবেলা এই গাজীপুরেই কেটেছে। কাজেই গাজীপুরের মানুষের কাছে আমার একটি হক আছে। আপনাদের কাছে আমার একটি দাবি -ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখে বিএনপি নির্বাচিত হলে আমরা অনেকগুলো পরিকল্পনা নিয়েছি। এর একটি হচ্ছে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড। যা দিয়ে আমাদের দেশের নারী ও কৃষকরা অনেক উপকৃত হবে। এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য যদি কোনো দল কাজ করে থাকে তাহলে সেটা একমাত্র বিএনপি করেছে।
গাজীপুরের কয়েকটি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সর্বপ্রথম গাজীপুরে রেলগেইটে একটি উড়াল সড়ক তৈরি করা হবে যাতে এ এলাকার মানুষ যানজট থেকে মুক্তি লাভ করে। তিনি তুরাগ, চিলাই শালদহ নদী খনন করে পানি প্রবাহ বাড়ানো এবং এগুলো দূষণমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এর আগে তারেক রহমান ময়মনসিংহে জনসভা শেষ করে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গাজীপুরে ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ময়দানে জনসভা মঞ্চে হাজির হন। তাকে বিএনপির গাজীপুর জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ স্বাগত জানান।
তারেক রহমানের আগমন এবং জনসভা উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ময়দান নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। রাজবাড়ীর বিশাল এ ময়দানে মানুষ স্থান না পেয়ে ময়দানের পূর্ব দিকে জোরপুকুর পার, পশ্চিমে শিববাড়ি মোড়, দক্ষিণে রথ খোলা ও উত্তর দিকে আদালত এলাকা ও শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে জড়ো হন এবং তারেক রহমানের বক্তব্য শোনেন। এসময় শহরের বিভিন্ন উঁচু ভবনগুলোতেও নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে নির্মাণ করা হয় সুবিশাল মঞ্চ। সভাস্থলে নেয়া হয় কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
গাজীপুর মহানগর বিএনপি’র সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এ,কে,এম ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর -৫),ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু (গাজীপুর- ৩, সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান (গাজীপুর- ১), শাহ রিয়াজুল হান্নান (গাজীপুর-৪), প্রেম মঞ্জুরুল করিম রনি ( গাজীপুর -২)।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল,সহ -সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, সহ- বিষয়ক শ্রম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, ডা. মাজহারুল আলম, ওমর ফারুক শাফিন, সালাউদ্দিন সরকার, মুফতি নাসির উদ্দিন, কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, সাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ, বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

























