Dhaka , Saturday, 16 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রিয়াল মাদ্রিদে আগুন, ‘গ্রুপিং’ সমস্যা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের উঁকি দেওয়া নোটবুকটি আসলে কার, যা জানা গেল স্বামীকে হত্যার পর হাড়-মাংস আলাদা করে রাখতে যান ফ্রিজে সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা চৌমুহনীতে আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী ; নগদ টাকা ও খাদ্য সামগ্রী সহায়তা প্রদান চুরির মামলার আসামির মৃত্যু কারাগারে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে পলাশে যুবক গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও শীতলক্ষ্যার ঘাটে ঘাটে আবর্জনার স্তুপ \ পঁচা-দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত পরিবেশ  রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট রূপগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে নারী-পুরুষের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জামায়াত আমিরের ইরান-আমিরাত সমঝোতায় ভারতের মধ্যস্থতা চায় রাশিয়া উন্নয়নমূলক কাজের মানে কাউকে ছাড় নয়: ডেপুটি স্পিকার রূপগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে নারী-পুরুষের মরদেহ উদ্ধার আম গাছ থেকে পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু নিখোঁজের ২৭ ঘণ্টা পর নদী থেকে হোসেন’র মরদেহ উদ্ধার সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বনদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধ, আটক  ফেনীতে যুবদলে বিতর্কের ঝড়, অস্বস্তিতে বিএনপি জনগণের কল্যাণেই সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন নেতৃত্বে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, ভিসি হলেন চবি’র অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন মোংলায় ট্রলার থেকে পড়ে যুবক নিখোঁজ মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন সরকার শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিভা বিকাশের ধারা শক্তিশালী করতে চায়:- প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল তিস্তা সেতু দিয়ে পাচারকালে দুই কোটি টাকার ডলারসহ কুড়িগ্রামের যুবক গ্রেপ্তার বিদেশ ফেরত ক্ষতিগ্রস্ত নারী অভিবাসী কর্মীদের মাঝে- আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ওকাপের ছাগল বিতরণ। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে :- ডা. শাহাদাত হোসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজার পর কোতোয়ালীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, যুবলীগ নেতাসহ ১৯ জন গ্রেফতার, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হালিশহরে শীর্ষ ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ পাখির আস্তানা গুড়িয়ে দিল র‍্যাব ৭ চট্টগ্রাম মীরসরাই থানা পুলিশের অভিযানে ৮২ কেজি গাঁজাসহ ১ জন গ্রেফতার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলা বিশেষ শাখার কর্মকর্তাদের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পাটগ্রামের ইউএনও’র উদ্যোগে থাকার ঘরটি তৈরি হচ্ছে ভিখারিনী ছালেহার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:22:25 pm, Saturday, 26 April 2025
  • 133 বার পড়া হয়েছে

পাটগ্রামের ইউএনও’র উদ্যোগে থাকার ঘরটি তৈরি হচ্ছে ভিখারিনী ছালেহার

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে পাটগ্রামের বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা মোছা. ছালেহা খাতুন ওরফে ছালেহা বেওয়া। বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৬শ টাকা আর ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে জীবনযাপন করেন তিনি। ১০ এপ্রিল -বৃহস্পতিবার- ভোরে হওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে মাথা গোজার ঠাঁই শেষ সম্বল টিনের চালের ঘরটি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঘরটি পুনরায় নির্মাণ করার মতো সামর্থ্য না থাকায় রোদের তাপ ও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ও রাত্রিযাপনের জন্য সেই ভাঙা ঘরটিতেই কোনোরকমে বসবাস করছিলেন এই দুঃখিনী নারী।

অবশেষে পাটগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা -ইউএনও- মো: জিল্লুর রহমানের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন থেকে তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় যারপরনাই খুশী একাকী এই নারী।

ছালেহা জানান, তাদের বাড়ি ছিল হাতীবান্ধা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায়। নদী ভাঙনের ফলে তাদের পরিবার চলে আসে পাটগ্রাম পৌরসভার রসুলগঞ্জ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সেখানে রেল লাইনের পাশে রেলের পরিত্যক্ত জমিতে তারা ঘর করে বসবাস শুরু করেন। তখন তিনি কোলের শিশু ছিলেন তাই তেমন কিছুই মনে নেই তার। পরে তার বিয়ে হয় হাতীবান্ধার বড়খাতা এলাকার বাসিন্দা  ও রেলওয়ে কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের সাথে।  ১২ থেকে ১৩ বছর আগে মারা যান তার স্বামী। দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় প্রথম স্ত্রীর সন্তান ও আত্মীয়স্বজন তাকে তার প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন। ফলে তাকে আবার অস্থায়ী এই জায়গায় ফিরে আসতে হয় তাকে। বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৬শ টাকা আর ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে বেঁচে আছেন ছালেহা। ছেলে সন্তান নেই তাই তার এই দশা বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

সরকারি ও বেসরকারি কোনো সাহায্য না পাওয়ায় তিনি নিজেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান। পরে বৃহস্পতিবার -১৭ এপ্রিল- সেই অফিস থেকে একজন কর্মকর্তা এসে তার অবস্থা দেখে যান। এর কয়েকদিন পর ইউএনও’র উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

এমনকি শুক্রবার -২৪ এপ্রিল- ইউএনও নিজে তার ঘর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে ও তার সাথে দেখা করতে যান। সে সময় তিনি তার দুঃখ দুর্দশার করা শোনেন। কয়েকদিনের মধ্যে ঘরটি তাকে হস্তান্তর করবেন ইউএনও।

ছালেহা বেগম বলেন, “ইউএনও স্যার আমার এখানে এসে আমার সাথে কথা বলেন। আমি তাকে একটি জানালার কথা বলেছি। তিনি আমার এখানে আসায় আমি অনেক খুশী। সৃষ্টিকর্তা তার মঙ্গল করুন।“

পাটগ্রামের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা -পিআইও- মো. আতাউর রহমান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর ইউএনও স্যার বিষয়টিকে অনেক গুরুত্বের সাথে ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়েছেন। ফলে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন দিক থেকে সমন্বয় করে আমরা ছালেহা বেগমের ঘরের কাজটি শুরু করি। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাই। পরে ইউএনও স্যারও সেখানে গিয়ে বৃদ্ধা ছালেহার সাথে দেখা করেন। তার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

পাটগ্রামের ইউএনও মো: জিল্লুর রহমান বলেন, “আমি নিজে ছালেহা বেগমের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। তিনি এখন খুশী কিনা তা জানতে চেয়েছি। তিনি জানালার কথা বলেছেন। যত দ্রুততার সাথে সম্ভব তার ঘরের কাজ শেষ করে তার হাতে সেটি হস্তান্তর করা যায় আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।

এদিকে ইউএনও’র উদ্যোগে বৃদ্ধা ছালেহার থাকার ঘরের চলমান নির্মাণের কাজের প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী। তারা  ইউএনও’র এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।   

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াল মাদ্রিদে আগুন, ‘গ্রুপিং’ সমস্যা প্রকাশ্যে

পাটগ্রামের ইউএনও’র উদ্যোগে থাকার ঘরটি তৈরি হচ্ছে ভিখারিনী ছালেহার

আপডেট সময় : 04:22:25 pm, Saturday, 26 April 2025

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে পাটগ্রামের বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা মোছা. ছালেহা খাতুন ওরফে ছালেহা বেওয়া। বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৬শ টাকা আর ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে জীবনযাপন করেন তিনি। ১০ এপ্রিল -বৃহস্পতিবার- ভোরে হওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে মাথা গোজার ঠাঁই শেষ সম্বল টিনের চালের ঘরটি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঘরটি পুনরায় নির্মাণ করার মতো সামর্থ্য না থাকায় রোদের তাপ ও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ও রাত্রিযাপনের জন্য সেই ভাঙা ঘরটিতেই কোনোরকমে বসবাস করছিলেন এই দুঃখিনী নারী।

অবশেষে পাটগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা -ইউএনও- মো: জিল্লুর রহমানের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন থেকে তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় যারপরনাই খুশী একাকী এই নারী।

ছালেহা জানান, তাদের বাড়ি ছিল হাতীবান্ধা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায়। নদী ভাঙনের ফলে তাদের পরিবার চলে আসে পাটগ্রাম পৌরসভার রসুলগঞ্জ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সেখানে রেল লাইনের পাশে রেলের পরিত্যক্ত জমিতে তারা ঘর করে বসবাস শুরু করেন। তখন তিনি কোলের শিশু ছিলেন তাই তেমন কিছুই মনে নেই তার। পরে তার বিয়ে হয় হাতীবান্ধার বড়খাতা এলাকার বাসিন্দা  ও রেলওয়ে কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের সাথে।  ১২ থেকে ১৩ বছর আগে মারা যান তার স্বামী। দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় প্রথম স্ত্রীর সন্তান ও আত্মীয়স্বজন তাকে তার প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন। ফলে তাকে আবার অস্থায়ী এই জায়গায় ফিরে আসতে হয় তাকে। বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৬শ টাকা আর ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে বেঁচে আছেন ছালেহা। ছেলে সন্তান নেই তাই তার এই দশা বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

সরকারি ও বেসরকারি কোনো সাহায্য না পাওয়ায় তিনি নিজেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান। পরে বৃহস্পতিবার -১৭ এপ্রিল- সেই অফিস থেকে একজন কর্মকর্তা এসে তার অবস্থা দেখে যান। এর কয়েকদিন পর ইউএনও’র উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

এমনকি শুক্রবার -২৪ এপ্রিল- ইউএনও নিজে তার ঘর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে ও তার সাথে দেখা করতে যান। সে সময় তিনি তার দুঃখ দুর্দশার করা শোনেন। কয়েকদিনের মধ্যে ঘরটি তাকে হস্তান্তর করবেন ইউএনও।

ছালেহা বেগম বলেন, “ইউএনও স্যার আমার এখানে এসে আমার সাথে কথা বলেন। আমি তাকে একটি জানালার কথা বলেছি। তিনি আমার এখানে আসায় আমি অনেক খুশী। সৃষ্টিকর্তা তার মঙ্গল করুন।“

পাটগ্রামের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা -পিআইও- মো. আতাউর রহমান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর ইউএনও স্যার বিষয়টিকে অনেক গুরুত্বের সাথে ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়েছেন। ফলে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন দিক থেকে সমন্বয় করে আমরা ছালেহা বেগমের ঘরের কাজটি শুরু করি। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাই। পরে ইউএনও স্যারও সেখানে গিয়ে বৃদ্ধা ছালেহার সাথে দেখা করেন। তার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

পাটগ্রামের ইউএনও মো: জিল্লুর রহমান বলেন, “আমি নিজে ছালেহা বেগমের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। তিনি এখন খুশী কিনা তা জানতে চেয়েছি। তিনি জানালার কথা বলেছেন। যত দ্রুততার সাথে সম্ভব তার ঘরের কাজ শেষ করে তার হাতে সেটি হস্তান্তর করা যায় আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।

এদিকে ইউএনও’র উদ্যোগে বৃদ্ধা ছালেহার থাকার ঘরের চলমান নির্মাণের কাজের প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী। তারা  ইউএনও’র এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।