স্টাফ রিপোর্টার, মেহেরপুর
মেহেরপুরে সবজিতে স্বস্তি ফিরলেও মাহে রমাদান শুরুর পর থেকে কিছু সবজির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরে মেহেরপুর বড় বাজার তহবাজার, গাংনী, বামুন্দী, ভাটপাড়া, মাইলমারী, হিজলবাড়ীয়া, হিন্দা, ধানখোলা, গাঁড়াডোব, বাঁশবাড়ীয়া, আযান, কাজীপুর, বেতবাড়ীয়া ও বারাদীসহ গ্রামাঞ্চলের সকল ধরনের হাট বাজারগুলোতে আলু, বেগুন, শিম, টমেটো, গাজর, শসা ও পেঁয়াজসহ সকল ধরনের সবজির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও মাহে রমাদান শুরু হতে না হতেই কিছু পণ্যের মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
বুধবার -৫ মার্চ- রমাদানের ৪র্থ দিনে সরেজমিনে জেলার ঐতিহাসিক ভাটপাড়া নীলকুঠি এলাকার ভাটপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে সবজির মূল্য আলু ২৫-৩০ টাকা প্রতি কেজি, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন কাঁচা ৮০-১০০ টাকা, কাচা মরিচ ৬০-৭০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩০০ টাকা, বেগুন ৫০-৭০ টাকা, উচ্ছে ৯০-১০০ টাকা, শসা ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তাছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, গাজর ২০ টাকা, টমেটো ৫-১০ টাকা, ওলকপি ৪০ টাকা, পাতাকপি ১০ টাকা, পুঁইশাক ২০-২৫ টাকা, কলা ৩০ টাকা, আদা ১৩০ টাকা, পুঁইশাকের মুচড়ি ৫০-৬০ টাকা, লাল শাকের আঁটি ১০ টাকা, পালং শাকের আঁটি ১০ টাকা, ধনিয়া পাতার আঁটি ছোট ১০ টাকা, পেঁয়াজের কলি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকা ও লেবু প্রতি পিস ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে তরমুজ প্রথম দিকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা প্রতি পিস আকারভেদে ২৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে বাজার মূল্য ও কৃষকের প্রাপ্য মূল্যে বিশাল ফারাক রয়েছে বলে দাবী কৃষকদের।
তিনারা জানান, কম মূল্যে তাদের কাছ থেকে বেগুন, উচ্ছে, শসা ও লেবুসহ অন্যান্য সবজি কিনে রমাদানকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা তা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছেন। রমাদান শুরুর পর থেকেই কয়েক ধরনের সবজিতে ১০-৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারে খেজুরের মূল্য গতবারের তুলনায় এবছরে কম বললেও বিক্রিতে রয়েছে অনেক পার্থক্য। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন নামের খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে ২০০-১০০০ এমন কি ১৩০০ টাকা কেজি দরে। বাজারে কমলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০-৩৮০ টাকা, আপেল ৩৫০ টাকা, বেদানা ৩৮০ টাকা, আঙুর ৩৫০-৫০০ টাকা এবং পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে।
মাছের বাজারে ছোটবড় সকল ধরনের মাছের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি মাছ ১৬০-৭৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ছোট সাইজের ২০০-৪০০ টাকা কেজি দরে। তবে মাছের বাজারে তুলনামূলকভাবে ক্রেতা সংখ্যা খুবই কম পরিলক্ষিত হয়েছে।
এদিকে রমাদানের প্রথম দিন থেকেই কয়েকটি সবজির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনারা জানান, উৎপাদিত সবজি হালচাষ দিয়ে কৃষক নষ্ট করে ফেলছে। নামমাত্র মুল্যে ব্যবসায়ীরা তা কিনে বাজারে এনে দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলে লোকসান গুনছেন আর ফায়দা লুটছেন ব্যবসায়ীরা। এহেন অবস্থায় তিনারা বাজার তদারকি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

























