Dhaka , Thursday, 20 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রায়পুরে জিপিএ প্রাপ্ত ৭০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা লাউফুলা হাটের জায়গা থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ সড়ক দুর্ঘটনায় প্যারালাইজড মন্টু মোল্লার পাশে এডুব্রিজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ জানুয়ারিতে ঢাবির সমাবর্তন, প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ উপাচার্যের শেষ হলো বহুল প্রতীক্ষিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন মুরগি চুরির অপবাদে প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১ কাউখালীতে টহল শেষে ফেরার পথে নৌ পুলিশের ওপর হামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার বিয়ের প্রলোভনে লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে নৌকায় নিয়ে ধর্ষণ “চলো যাই যুদ্ধে,, মাদকের বিরুদ্ধে” রামগঞ্জে র‍্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ এলাকায় টেক্সি-মাইক্রো স্ট্যান্ড স্থাপনের প্রতিবাদে স্মারকলিপি গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছড়িয়ে দিতে লালমনিরহাটে বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ইউএসটিসিতে আপসাইক্লিং ও সার্কুলার ইকোনমি নিয়ে TriRE-এর হাতে-কলমে কর্মশালা বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৫৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী কাউখালীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন পুঁজি ছাড়াই লাভজনক এনসিটি যাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ফতুল্লায় উচ্ছেদ অভিযানে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন: গর্জনিয়ায় রামুর ওসি ফজলুল হক মার্কস অলরাউন্ডার প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় রূপগঞ্জের সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী হাদিকা হানিফ হিমি ঢাকা বিভাগে দ্বিতীয় কালিয়াকৈরের ঐতিহ্যবাহী বড়ইবাড়ী এ কে ইউ ইনস্টিটিউশন এন্ড কলেজের সভাপতি হলেন ভিপি ইব্রাহিম নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে চউকের অভিযান অব্যাহত, সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের ভবনসহ ৭টিতে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা পাইকগাছায় অবৈধ জাল জব্দ; আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট সরাইল থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ গ্রেপ্তার-১০ দোহাজারীতে কোদালের কোপে স্ত্রীর মৃত্যু, ঘাতক স্বামী আটক পাইকগাছায় জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত আমরা একটি সুস্থ ও অপরাধমুক্ত সমাজ উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ – জেলা পুলিশ সুপার মোবারক হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চট্টগ্রামে তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ সাতকানিয়া সার্কেল অফিসার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী নীলফামারীতে হামলার শিকার চবির চারুকলা শিক্ষার্থী, মাথায় চার সেলাই সাইনবোর্ডে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, যানজট নিরসনে অভিযান তীব্র সমালোচনার মুখে রাহাত ফতেহ আলী খান, নেপথ্যে যে কারণ

লক্ষ্মীপুরে এখনো ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী আবারো প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পরে গ্রাম।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 09:42:43 am, Sunday, 15 September 2024
  • 152 বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরে এখনো ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী আবারো প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পরে গ্রাম।।

মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
   
   
গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে লক্ষ্মীপুরে আবারো গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির আগে কিছু এলাকার পানি কমলেও তা এখন আবার পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে লক্ষ্মীপুর বাসী দীর্ঘ মেয়াদী বন্যার কবলে পড়ছে।এখনো প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে আছে। 
  বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির পর প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ঘরে ফিরলেও এখনো প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বানভাসি এসব মানুষের অভিযোগ- তারা পর্যাপ্ত ত্রাণও পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত মৎস্য- কৃষি- গবাদিপশুসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি।
লক্ষ্মীপুর পৌর আইডিয়াল কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ছকিনা বেগম- শাহেদ আলীসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন- ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার-পরিজন নিয়ে রয়েছি। বন্যার প্রথম দিকে দিনে তিনবার খাবার পেতাম। 
দুবেলা ভাত ও খিচুড়ি এবং এক বেলা শুকনো খাবার। এখন আর আগের মতো খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে দিন কাটছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কীভাবে সামনের দিন যাবে। সব অন্ধকার দেখছি।
এমন অভিযোগ মিলেছে বাঙ্গাখা উচ্চবিদ্যালয়- রশিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ রামগঞ্জ ও রায়পুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বানভাসিদের কাছ থেকে। তাদের দাবি, ত্রাণের জন্য তাদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না।
সদর উপজেলার হোগল ডহুরী গ্রামের শাহেদ মিয়া ও কুলছুম বেগম বলেন- রাস্তার পাশে যারা রয়েছে। তারা বেশ কয়েকবার ত্রাণ পেয়েছে। আর যারা কিছু দূরে পানিতে ভাসছে, তাদের পাশে ত্রাণ নিয়ে কেউ যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত একবারও ত্রাণ বা কোনো সহায়তা পাইনি। অর্ধাহারে ও অনাহারে খুবই কষ্টের মধ্যে ছেলেমেয়ে নিয়ে দিন কাটছে। কবে এসব দুর্ভোগ কমবে। বন্যার পানিতে ২৫ দিন ধরে বন্দী রয়েছি। এখন পর্যন্ত হাঁটুর ওপরে পানি। ৩০ বছরেও এমন কষ্টের মধ্যে পড়েননি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সদর উপজেলায় তিন সপ্তাহ ধরে চলছে বন্যা। এর আগে ভারী বৃষ্টিপাতে আরও ৫ দিনের বেশি সময় ধরে ছিল ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। আবার জেলার কমলনগর এবং রামগতি উপজেলার পূর্বাংশে এক মাস আগ থেকেই জলাবদ্ধতা শুরু হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় উজানের ঢলের পানি। জেলার রায়পুর এবং রামগঞ্জের অধিকাংশ  এলাকাই বন্যাকবলিত। এতে দেখা যায়, জেলার কোথাও এক মাসের বেশি সময় ধরে লোকজন পানিবন্দী হয়ে সীমাহীন কষ্টে বসবাস করছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবমতে- ৮ লাখের বেশি লোক পানিবন্দী ছিল। এখনো পানিবন্দী প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ মিয়া বলেন- ১৯৮ আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়। এখনো ২৫ হাজারের মতো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তবে তাদের খাবারের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৯ টন চাল ও নগদ ৫৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছেছে। হয়তোবা যেভাবে সবাই আশা করছে- সেভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর খোঁজখবর নিচ্ছি। 
এ দিকে রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সে সব কেন্দ্রে সরকারি ভাবে কোন ত্রাণই আসেনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়পুরে জিপিএ প্রাপ্ত ৭০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

লক্ষ্মীপুরে এখনো ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী আবারো প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পরে গ্রাম।।

আপডেট সময় : 09:42:43 am, Sunday, 15 September 2024
মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
   
   
গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে লক্ষ্মীপুরে আবারো গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির আগে কিছু এলাকার পানি কমলেও তা এখন আবার পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে লক্ষ্মীপুর বাসী দীর্ঘ মেয়াদী বন্যার কবলে পড়ছে।এখনো প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে আছে। 
  বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির পর প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ঘরে ফিরলেও এখনো প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বানভাসি এসব মানুষের অভিযোগ- তারা পর্যাপ্ত ত্রাণও পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত মৎস্য- কৃষি- গবাদিপশুসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি।
লক্ষ্মীপুর পৌর আইডিয়াল কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ছকিনা বেগম- শাহেদ আলীসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন- ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার-পরিজন নিয়ে রয়েছি। বন্যার প্রথম দিকে দিনে তিনবার খাবার পেতাম। 
দুবেলা ভাত ও খিচুড়ি এবং এক বেলা শুকনো খাবার। এখন আর আগের মতো খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে দিন কাটছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কীভাবে সামনের দিন যাবে। সব অন্ধকার দেখছি।
এমন অভিযোগ মিলেছে বাঙ্গাখা উচ্চবিদ্যালয়- রশিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ রামগঞ্জ ও রায়পুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বানভাসিদের কাছ থেকে। তাদের দাবি, ত্রাণের জন্য তাদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না।
সদর উপজেলার হোগল ডহুরী গ্রামের শাহেদ মিয়া ও কুলছুম বেগম বলেন- রাস্তার পাশে যারা রয়েছে। তারা বেশ কয়েকবার ত্রাণ পেয়েছে। আর যারা কিছু দূরে পানিতে ভাসছে, তাদের পাশে ত্রাণ নিয়ে কেউ যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত একবারও ত্রাণ বা কোনো সহায়তা পাইনি। অর্ধাহারে ও অনাহারে খুবই কষ্টের মধ্যে ছেলেমেয়ে নিয়ে দিন কাটছে। কবে এসব দুর্ভোগ কমবে। বন্যার পানিতে ২৫ দিন ধরে বন্দী রয়েছি। এখন পর্যন্ত হাঁটুর ওপরে পানি। ৩০ বছরেও এমন কষ্টের মধ্যে পড়েননি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সদর উপজেলায় তিন সপ্তাহ ধরে চলছে বন্যা। এর আগে ভারী বৃষ্টিপাতে আরও ৫ দিনের বেশি সময় ধরে ছিল ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। আবার জেলার কমলনগর এবং রামগতি উপজেলার পূর্বাংশে এক মাস আগ থেকেই জলাবদ্ধতা শুরু হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় উজানের ঢলের পানি। জেলার রায়পুর এবং রামগঞ্জের অধিকাংশ  এলাকাই বন্যাকবলিত। এতে দেখা যায়, জেলার কোথাও এক মাসের বেশি সময় ধরে লোকজন পানিবন্দী হয়ে সীমাহীন কষ্টে বসবাস করছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবমতে- ৮ লাখের বেশি লোক পানিবন্দী ছিল। এখনো পানিবন্দী প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ মিয়া বলেন- ১৯৮ আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়। এখনো ২৫ হাজারের মতো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তবে তাদের খাবারের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৯ টন চাল ও নগদ ৫৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছেছে। হয়তোবা যেভাবে সবাই আশা করছে- সেভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর খোঁজখবর নিচ্ছি। 
এ দিকে রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সে সব কেন্দ্রে সরকারি ভাবে কোন ত্রাণই আসেনি।