Dhaka , Wednesday, 20 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জাজিরায় মাদক ও চুরির বিরুদ্ধে মানববন্ধন, খলিল-লাকি দম্পতির বিচারের দাবি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম ক্ষেত্র হল জনবান্ধব ভূমিসেবা: বিভাগীয় কমিশনার সিলেট টেস্টে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ : শন টেইট ওয়ানডে ফরম্যাট দিয়ে জাতীয় দলে ফিরতে চান সাব্বির অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত হাবিপ্রবির ৪ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্ট-হোটেলে অভিযান, জরিমানা ৮০ হাজার দেশের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন দূতাবা‌সের সহায়তায় কুয়েত থে‌কে নারী কর্মী‌র দে‌শে প্রত‌্যাবর্তন ‌“শিক্ষার্থীদের মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে” :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রামগঞ্জে ভূমিসেবা মেলার উদ্ভোধন নিরাপদ কর্মস্থল ও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিতে ড্যাব চট্টগ্রাম এর মানববন্ধন: শ্রীপুরে ৩ দিন ব্যাপী কৃষি ও প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত হয় তথ্য অধিকার আইন সাংবাদিকদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার:- উপপ্রধান তথ্য অফিসার রামুতে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন মধুপুরে ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে আগুনে পুড়ে বসতঘর ছাই পাইকগাছায় তিনদিনব্যাপী ভূমিমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন রূপগঞ্জে সালিশ বৈঠকে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত- এনসিপি নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী কাউখালীতে ভূমি সেবা মেলা ২০২৬ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত ‘রাগ করলা’ নিয়ে মাতামাতি, রুচির দুর্ভিক্ষ বললেন নিলয় ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ‘মাথার দাম’ নির্ধারণ করল ইরান দুই সপ্তাহ ধরে দই ভাত খেলে শরীরে যা ঘটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান, কুড়িগ্রাম চিলমারীতে ১২ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক। পাইকগাছায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও দুঃস্থদের মাঝে সহায়তা প্রদান পাইকগাছায় গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ফায়ার ফাইটাররা দেশের মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক: নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ মাদক ও কিশোরগ্যাং প্রতিরোধ সভায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী! ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। জিলহজের প্রথম ১০ দিন যে ১০ আমলে গুরুত্ব দেবেন কও বিসমিল্লাহ,কও সুবাহানআল্লাহ, রাগ করলা-?

গাজীপুর সাভার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অস্থিরতা কেন।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:17:49 am, Wednesday, 4 September 2024
  • 240 বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর সাভার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অস্থিরতা কেন।।

মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ 
সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার।।
গাজীপুর- আশুলিয়া ও সাভারে তৈরি পোশাক কারখানায় অস্থিরতার নেপথ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ঝুট ব্যবসা বলে জানা গেছে। তারা কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছেন। এই অভিযোগ খোদ পোশাক শ্রমিক নেতাদের। তবে মালিকরা বলছেন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে তৃতীয় পক্ষ এখানে সক্রিয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সোমবার -৩ সেপ্টেম্বর- রাত থেকেই সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবারও কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক নেতারা।
শ্রমিক নেতারা মঙ্গলবার শিল্প উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে তারা পোশাক শ্রমিকদের শান্ত থেকে কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে শিল্প মালিকরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শিল্পের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন, কিছু পোশাক কারখানায় অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা আছে। সেটা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিলে। কিছু কারখানায় বেতন বকেয়া- হাজিরা- বোনাস- টিফিন ভাতা ও শ্রমিক ছাঁটাই নিয়ে অন্তোষ ছিলো। এটা নিয়ে কয়েকদিন ধরে কিছুটা শ্রমিক অসন্তোষ ছিলো। কিন্তু সোমবার যে ৫০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যায় তা নিরাপত্তার কারণে। বহিরাগতরা বিভিন্ন পোশাক কারখানায় হামলা চালালে ওই কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।
তিনি বলেন- সরকার পরিবর্তনের পরও ঝুট ব্যবসার আধিপত্য ধরে রাখতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা বহিরাগতদের দিয়ে পোশাক কারখানায় হামলা চালায়। পোশাক কারাখানার ওয়েসটেজ এই ঝুট ব্যবসায় আছে কোটি কোটি টাকা। আর এই ব্যবসা রাজনৈতিক প্রভাবশালীরাই নিয়ন্ত্রণ করেন।
কয়েকদিন আগে থেকে পোশাক কারখানা এলাকায় অস্থিরতা শুরু হলেও ১ সেপ্টেম্বর প্রথম ১০টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, ওইদিন কয়েকটি কারখানায় হামলা হয়। ২ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। হামলার কারণে ৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবারও ১০টির মতো কারখানা বন্ধ ছিলো। তারা নিরাপত্তার কারণে কারখানা খোলেনি।
এই পরিস্থিতির শুরু হয় বিভিন্ন সময় ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে। তারা চাকরিচ্যুতদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়া এবং পোশাক কারখানায় কমপক্ষে ৫০ ভাগ পুরুষ নিয়োগের দাবিতে কয়েকদিন আগে আন্দোলন শুরু করেন। বাংলাদেশে পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের প্রায় ৮০ ভাগ নারী। ‘বেকার আন্দোলন’ নামের ওই সংগঠনের নেতা শহীন আহমদে বলেন- তবে পোশাক কারখানায় যারা হামলা করেছে তারা আমাদের কেউ নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিলাম। যারা হামলা করেছে তারা বহিরাগত। তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের সভাপতি সরোয়ার হোসেন বলেন- কারা ক্ষমতায় আসলো আর কারা ক্ষমতা ছাড়লো সেটা আমাদের বিষয় নয়। আমরা শ্রমিকরা শিল্প উৎপাদন ঠিক রাখতে চাই। আমাদের শ্রমিকদের কিছু দাবি-দাওয়া আছে সেগুলো আমরা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আদায় করতে চাই। কিন্তু এখন যারা পোশাক কারখানায় হামলা করেছে তারা কোনো শ্রমিক নয়। কোনো একটি গোষ্ঠী এই খাতকে অস্থিতিশীল করতে এই হামলা চালিয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচিও দেইনি। কোনো কোনো পোশাক কারখানায় অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি ছিলো। তারই সুযোগ নিয়েছে হামলাকারীরা।
গাজীপুর- আশুলিয়া ও সাভারে দেড় হাজারের বেশি পোশাক কারখানা আছে। একটি কারখানার শ্রমিকরা বাইরে এলেই এক-দেড় হাজার শ্রমিকের বিক্ষোভে পরিণত হয়। মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন- কোনো কারখানার শ্রমিকরা বাইরে আসেনি। তারপরও হামলা কারা করলো সেটা তদন্ত হওয়া দরকার।
তিনি আরও বলেন- শিল্প উপদেষ্টা আমাদের বলেছেন শ্রমিকদের যে যৌক্তিক দাবি আছে তা ধীরে ধীরে পূরণ করা হবে। তাদের সময় দিতে হবে। আর এর সাথে ২০২৩ সালে ২০ হাজার শ্রমিককে আসামি করে যে ৪৩টি মামলা হয়েছে তা প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছি।
আশুলিয়া এলাকায় মঙ্গলবারও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা কিছুক্ষণের জন্য সড়ক অবরোধ করেন।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ সারোয়ার আলম জানান- মঙ্গলবার তিন-চারটি কাখানায় কিছুটা ঝামেলা ছিলো। আগের দিন বন্ধ করে দেয়া ওই কারাখানাগুলো মঙ্গলবারও না খোলায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। রাস্তার পাশের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কও অবেরোধ করেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। 
তিনি বলেন- সোমবার রাত থেকেই পুলিশ ও সেনা সদস্যরা যৌথ অভিযান শুরু করে। এখনো কারখানার নিরাপত্তায় টহল অব্যাহত আছে।
এদিকে মঙ্গলবার গাজীপুরে চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বেশ কয়েকটি স্থানে পোশাক শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস, ছয়দানা- হাজির পুকুর- মালেকের বাড়ি, সাইনবোর্ড এলাকায় বিক্ষোভ করেন। শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে শ্রমিকদের ইট-পাটকেলে শিল্প পুলিশের এএসপি মোশরাফ হোসেনসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত এসপি ইমরান হোসেন বলেন, সকাল থেকেই গাজীপুরের বেশ কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন পোশাক কারখানার চাকরিচ্যুত শ্রমিকেরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচলে বাধা দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন- পোশাক কারখানায় সমস্যা কিছু না কিছু সবসময়ই থাকে। আমরা সেটা অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করি। কিন্তু এবার যা ঘটেছে তা অপ্রত্যাশিত। আমরা মনে করি এর সঙ্গে শ্রমিকরা জড়িত নয়। তৃতীয় কোনো পক্ষ যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ করতে চায় তারা এটা করেছে। তাদের চিহ্নিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি।
তিনি জানান- সরকার ব্যবস্থা নেয়ার পর মঙ্গলবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মঙ্গলবার অল্প কিছু কারখানায় সমস্যা হয়েছে। বিভিন্ন সময় চাকরিচ্যুতরা এই সমস্যা করছে। আসলে হায়ার এন্ড ফায়ার একটা স্বাভাবিক ঘটনা। বেতন নিয়ে কোনো সমস্যা নাই।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাজিরায় মাদক ও চুরির বিরুদ্ধে মানববন্ধন, খলিল-লাকি দম্পতির বিচারের দাবি

গাজীপুর সাভার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অস্থিরতা কেন।।

আপডেট সময় : 05:17:49 am, Wednesday, 4 September 2024
মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ 
সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার।।
গাজীপুর- আশুলিয়া ও সাভারে তৈরি পোশাক কারখানায় অস্থিরতার নেপথ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ঝুট ব্যবসা বলে জানা গেছে। তারা কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছেন। এই অভিযোগ খোদ পোশাক শ্রমিক নেতাদের। তবে মালিকরা বলছেন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে তৃতীয় পক্ষ এখানে সক্রিয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সোমবার -৩ সেপ্টেম্বর- রাত থেকেই সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবারও কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক নেতারা।
শ্রমিক নেতারা মঙ্গলবার শিল্প উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে তারা পোশাক শ্রমিকদের শান্ত থেকে কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে শিল্প মালিকরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শিল্পের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন, কিছু পোশাক কারখানায় অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা আছে। সেটা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিলে। কিছু কারখানায় বেতন বকেয়া- হাজিরা- বোনাস- টিফিন ভাতা ও শ্রমিক ছাঁটাই নিয়ে অন্তোষ ছিলো। এটা নিয়ে কয়েকদিন ধরে কিছুটা শ্রমিক অসন্তোষ ছিলো। কিন্তু সোমবার যে ৫০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যায় তা নিরাপত্তার কারণে। বহিরাগতরা বিভিন্ন পোশাক কারখানায় হামলা চালালে ওই কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।
তিনি বলেন- সরকার পরিবর্তনের পরও ঝুট ব্যবসার আধিপত্য ধরে রাখতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা বহিরাগতদের দিয়ে পোশাক কারখানায় হামলা চালায়। পোশাক কারাখানার ওয়েসটেজ এই ঝুট ব্যবসায় আছে কোটি কোটি টাকা। আর এই ব্যবসা রাজনৈতিক প্রভাবশালীরাই নিয়ন্ত্রণ করেন।
কয়েকদিন আগে থেকে পোশাক কারখানা এলাকায় অস্থিরতা শুরু হলেও ১ সেপ্টেম্বর প্রথম ১০টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, ওইদিন কয়েকটি কারখানায় হামলা হয়। ২ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। হামলার কারণে ৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবারও ১০টির মতো কারখানা বন্ধ ছিলো। তারা নিরাপত্তার কারণে কারখানা খোলেনি।
এই পরিস্থিতির শুরু হয় বিভিন্ন সময় ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে। তারা চাকরিচ্যুতদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়া এবং পোশাক কারখানায় কমপক্ষে ৫০ ভাগ পুরুষ নিয়োগের দাবিতে কয়েকদিন আগে আন্দোলন শুরু করেন। বাংলাদেশে পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের প্রায় ৮০ ভাগ নারী। ‘বেকার আন্দোলন’ নামের ওই সংগঠনের নেতা শহীন আহমদে বলেন- তবে পোশাক কারখানায় যারা হামলা করেছে তারা আমাদের কেউ নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিলাম। যারা হামলা করেছে তারা বহিরাগত। তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের সভাপতি সরোয়ার হোসেন বলেন- কারা ক্ষমতায় আসলো আর কারা ক্ষমতা ছাড়লো সেটা আমাদের বিষয় নয়। আমরা শ্রমিকরা শিল্প উৎপাদন ঠিক রাখতে চাই। আমাদের শ্রমিকদের কিছু দাবি-দাওয়া আছে সেগুলো আমরা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আদায় করতে চাই। কিন্তু এখন যারা পোশাক কারখানায় হামলা করেছে তারা কোনো শ্রমিক নয়। কোনো একটি গোষ্ঠী এই খাতকে অস্থিতিশীল করতে এই হামলা চালিয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচিও দেইনি। কোনো কোনো পোশাক কারখানায় অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি ছিলো। তারই সুযোগ নিয়েছে হামলাকারীরা।
গাজীপুর- আশুলিয়া ও সাভারে দেড় হাজারের বেশি পোশাক কারখানা আছে। একটি কারখানার শ্রমিকরা বাইরে এলেই এক-দেড় হাজার শ্রমিকের বিক্ষোভে পরিণত হয়। মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন- কোনো কারখানার শ্রমিকরা বাইরে আসেনি। তারপরও হামলা কারা করলো সেটা তদন্ত হওয়া দরকার।
তিনি আরও বলেন- শিল্প উপদেষ্টা আমাদের বলেছেন শ্রমিকদের যে যৌক্তিক দাবি আছে তা ধীরে ধীরে পূরণ করা হবে। তাদের সময় দিতে হবে। আর এর সাথে ২০২৩ সালে ২০ হাজার শ্রমিককে আসামি করে যে ৪৩টি মামলা হয়েছে তা প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছি।
আশুলিয়া এলাকায় মঙ্গলবারও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা কিছুক্ষণের জন্য সড়ক অবরোধ করেন।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ সারোয়ার আলম জানান- মঙ্গলবার তিন-চারটি কাখানায় কিছুটা ঝামেলা ছিলো। আগের দিন বন্ধ করে দেয়া ওই কারাখানাগুলো মঙ্গলবারও না খোলায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। রাস্তার পাশের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কও অবেরোধ করেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। 
তিনি বলেন- সোমবার রাত থেকেই পুলিশ ও সেনা সদস্যরা যৌথ অভিযান শুরু করে। এখনো কারখানার নিরাপত্তায় টহল অব্যাহত আছে।
এদিকে মঙ্গলবার গাজীপুরে চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বেশ কয়েকটি স্থানে পোশাক শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস, ছয়দানা- হাজির পুকুর- মালেকের বাড়ি, সাইনবোর্ড এলাকায় বিক্ষোভ করেন। শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে শ্রমিকদের ইট-পাটকেলে শিল্প পুলিশের এএসপি মোশরাফ হোসেনসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত এসপি ইমরান হোসেন বলেন, সকাল থেকেই গাজীপুরের বেশ কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন পোশাক কারখানার চাকরিচ্যুত শ্রমিকেরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচলে বাধা দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন- পোশাক কারখানায় সমস্যা কিছু না কিছু সবসময়ই থাকে। আমরা সেটা অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করি। কিন্তু এবার যা ঘটেছে তা অপ্রত্যাশিত। আমরা মনে করি এর সঙ্গে শ্রমিকরা জড়িত নয়। তৃতীয় কোনো পক্ষ যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ করতে চায় তারা এটা করেছে। তাদের চিহ্নিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি।
তিনি জানান- সরকার ব্যবস্থা নেয়ার পর মঙ্গলবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মঙ্গলবার অল্প কিছু কারখানায় সমস্যা হয়েছে। বিভিন্ন সময় চাকরিচ্যুতরা এই সমস্যা করছে। আসলে হায়ার এন্ড ফায়ার একটা স্বাভাবিক ঘটনা। বেতন নিয়ে কোনো সমস্যা নাই।