Dhaka , Sunday, 16 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে  সংস্কার উচ্চ শিক্ষায় ভূমিকা রাখবে : রুহুল কবির রিজভী সরাইলে জাতীয় মৎস্য দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অজু করতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, জুতায় মিলল মরদেহ রামগঞ্জে জাতীয় মৎস্যপক্ষ- ২০২৬ এর উদ্বোধন ও সফল চাষীদের সম্মাননা প্রদান নারায়ণগঞ্জে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অভিনেত্রী রিধির আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় প্রেমিক গ্রেফতার ভারত পাকিস্তান শ্রীলংকাকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের রেকর্ড আল-আকসা প্রাঙ্গণে দেড় শতাধিক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ আজকের মুদ্রার রেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬ এ্যাব চট্টগ্রামের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন রামুতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য কাজল রূপগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুর আনসার ব্যাটালিয়নের সুবর্ণ জয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে জিএম কাদেরের অভিনন্দন পদত্যাগ করলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নূরুল করিম মধুপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, র‌্যালি ও আলোচনা সভা মধুপুরে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা নেত্রকোণায় ৫ গুণীজন পেলেন সম্মাননা পদক ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫ বিজিবির বড় ধরনের অভিযান: ঘাসের বস্তায় লুকিয়ে পাচারকালে ২১ লাখ টাকার ৭ হাজার ইয়াবা জব্দ সিদ্ধিরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ পাইকগাছায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ পালিত রূপগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ রূপগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার ডবলমুরিংয়ে ১৫ আগস্টের আলোচনা সভা: সিইউজে সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ জন আটক বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানি: প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা আছে, এ বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই: বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ এয়াকুব “প্রবাসী পল্লী” নিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান’র সাথে চট্টগ্রাম প্রবাসী ক্লাবের মতবিনিময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ধর্মপাশায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ভাসমান পেয়ারার হাট ও ভাসমান সবজি ক্ষেত পরিদর্শন: নদী রক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতায় ‘নদীবন্ধু সমাজ’-এর অনন্য উদ্যোগ

হিলিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে খুশির জোয়ার এদিকে ধানের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায়।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:42:54 am, Monday, 27 May 2024
  • 110 বার পড়া হয়েছে

হিলিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে খুশির জোয়ার এদিকে ধানের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায়।।

কৌশিক চৌধুরী

হিলি প্রতিনিধি।।

  

দিগন্ত জোড়া মাঠে দক্ষিণা বাতাসে ক্ষেতে দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াই উৎসব। খাদ্য শস্যর ভান্ডার হিসেবে পরিচিত দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুর। হিলিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। এদিকে বিপাকে পড়েছে বর্গা চাষীরা।
  
হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, দিগন্ত জোড়া মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সোনালি রঙের পাকা ধান।  দিনরাত নিরলস ভাবে শ্রম দিয় এসব ধান কাটছে শ্রমিকরা আর বিভিন্ন পরিচর্যা ও সিদ্ধ শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। বাজারে চাহিদা মোতাবেক দাম না থাকায় বিপাকে পড়েছে বর্গা চাষীরা।
  
কৃষক মিজানুর রহমানেরা সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৩৩ শতকে -এক বিঘা- কাটা-মাড়াই মিলে শ্রমিকরা নিচ্ছেন বিঘাপ্রতি ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৫’শ টাকা। বাজারে ধানের চাহিদা ও ভালো দাম না থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠানো নিয়েই শঙ্কিত  চাষীরা। এদিকে হাকিমপুর উপজেলার সরকারী খাদ্য গোডাউন  সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু হওয়ায় ধানের দাম বেশি হবে বলে আশা কৃষকদের।
  
হাকিমপুর উপজেলার মোল্লা বাজার এলাকার কৃষক শুভ হোসেন বলেন- আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এবার আমি ছয় বিঘা জমিতে চিকন জাতের ইরি ধান চাষ করেছি। ইতিমধ্যে কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। বিঘা  প্রতি ২২-২৩ মণ ধান ঘরে তুলতে পারবো। তবে বাজারে ধানের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় ধানের দামও কমে গেছে। প্রথম এর দিকে ১২’শ টাকা মন দাম থাকলেও বর্তমানে ধানের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১১’শ টাকা মন দাম বিক্রি হচ্ছে।
  
আলিহাট ইউনিয়নের বর্গা চাষী আমজাদ হোসেন বলেন- এবার অন্যর ৬-৭ বিঘা জমি বর্গা চাষ করেছি। প্রতি বিঘাতে জমির মালিককে অগ্রিম ১০ থেকে ১০ হাজার ৫শ টাকা দিতে হয়। এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে এতে আমি খুব খুশি। কিন্তু বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়েছে তাই ইরি ধান চাষে খরচা বেশি হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম নাই। বর্তমান যে ধানের দাম তাতে হয় তো কাটা মাড়াই করে সমান সমান হবে মাঝখানে শুধু ইরির কড়টা পাওয়া যাবে।
  
তিনি আরো বলেন, এক বিঘা জমি তৈরি থেকে ধান কাটা মাড়াই পর্যন্ত সব মিলে প্রায় ১৩-১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। আবার জমি মালিক  দশ হাজার টাকা। আর এক বিঘা জমিতে ধান পাওয়া যাচ্ছে ২২-২৩ মন। বাজারে ধানের দাম না থাকলে আমরা বর্গা চাষীরা জমির মালিককে কি দিবো আমরা কি পাবো বাজারের যায়জিনিসের দামটা কিছুটা কমলে ভালো হতো।
  
ধান কাটা মাড়াই শ্রমিক হান্নান বলেন- আমরা ১৬ জনের একটি দল দেশের বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ধান কাটা-মাড়াই কাজ করি। এবার হিলিকে আসছি এখানে প্রতি বিঘা -৩৩ শতক- ধান কাটা মাড়াইসহ ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫’শ টাকা নিচ্ছি। আমরা দিনে প্রায় ৭ থেকে ৮ বিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াই করে থাকি। এখন আবহাওয়া ভালো আছে তাই এ দামে ধান কাটছি। ঝড় বাতাস ও বৃষ্টি হলে ধান কাটার দাম বৃদ্ধি পাবে।
  
হাকিমপুর উপজেলার কৃষি অফিসার আরজেনা বেগম বলেন- চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৬১৫ হেক্টর জমি। সেখানে আবাদ হয়েছে ৭৬১৬ হেক্টর জমিতে। এবার হাকিমপুর উপজেলায় বোরো ধানের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার জন কৃষককে। এপর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৩৫-৪০% ধান কর্তন করা হয়েছে বলে জানান তিনি
  
তিনি আরও বলেন- বিভিন্ন চিকোন জাতের ধান বিঘাপ্রতি ২৪-২৫ মণ হচ্ছে। এছাড়াও উন্নত জাতের বীজ থেকে প্রতি শতকে ১ মণ হারে কৃষকরা ধান পাবেন বলে আশা করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

হিলিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে খুশির জোয়ার এদিকে ধানের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায়।।

আপডেট সময় : 07:42:54 am, Monday, 27 May 2024

কৌশিক চৌধুরী

হিলি প্রতিনিধি।।

  

দিগন্ত জোড়া মাঠে দক্ষিণা বাতাসে ক্ষেতে দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াই উৎসব। খাদ্য শস্যর ভান্ডার হিসেবে পরিচিত দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুর। হিলিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। এদিকে বিপাকে পড়েছে বর্গা চাষীরা।
  
হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, দিগন্ত জোড়া মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সোনালি রঙের পাকা ধান।  দিনরাত নিরলস ভাবে শ্রম দিয় এসব ধান কাটছে শ্রমিকরা আর বিভিন্ন পরিচর্যা ও সিদ্ধ শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। বাজারে চাহিদা মোতাবেক দাম না থাকায় বিপাকে পড়েছে বর্গা চাষীরা।
  
কৃষক মিজানুর রহমানেরা সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৩৩ শতকে -এক বিঘা- কাটা-মাড়াই মিলে শ্রমিকরা নিচ্ছেন বিঘাপ্রতি ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৫’শ টাকা। বাজারে ধানের চাহিদা ও ভালো দাম না থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠানো নিয়েই শঙ্কিত  চাষীরা। এদিকে হাকিমপুর উপজেলার সরকারী খাদ্য গোডাউন  সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু হওয়ায় ধানের দাম বেশি হবে বলে আশা কৃষকদের।
  
হাকিমপুর উপজেলার মোল্লা বাজার এলাকার কৃষক শুভ হোসেন বলেন- আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এবার আমি ছয় বিঘা জমিতে চিকন জাতের ইরি ধান চাষ করেছি। ইতিমধ্যে কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। বিঘা  প্রতি ২২-২৩ মণ ধান ঘরে তুলতে পারবো। তবে বাজারে ধানের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় ধানের দামও কমে গেছে। প্রথম এর দিকে ১২’শ টাকা মন দাম থাকলেও বর্তমানে ধানের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১১’শ টাকা মন দাম বিক্রি হচ্ছে।
  
আলিহাট ইউনিয়নের বর্গা চাষী আমজাদ হোসেন বলেন- এবার অন্যর ৬-৭ বিঘা জমি বর্গা চাষ করেছি। প্রতি বিঘাতে জমির মালিককে অগ্রিম ১০ থেকে ১০ হাজার ৫শ টাকা দিতে হয়। এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে এতে আমি খুব খুশি। কিন্তু বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়েছে তাই ইরি ধান চাষে খরচা বেশি হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম নাই। বর্তমান যে ধানের দাম তাতে হয় তো কাটা মাড়াই করে সমান সমান হবে মাঝখানে শুধু ইরির কড়টা পাওয়া যাবে।
  
তিনি আরো বলেন, এক বিঘা জমি তৈরি থেকে ধান কাটা মাড়াই পর্যন্ত সব মিলে প্রায় ১৩-১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। আবার জমি মালিক  দশ হাজার টাকা। আর এক বিঘা জমিতে ধান পাওয়া যাচ্ছে ২২-২৩ মন। বাজারে ধানের দাম না থাকলে আমরা বর্গা চাষীরা জমির মালিককে কি দিবো আমরা কি পাবো বাজারের যায়জিনিসের দামটা কিছুটা কমলে ভালো হতো।
  
ধান কাটা মাড়াই শ্রমিক হান্নান বলেন- আমরা ১৬ জনের একটি দল দেশের বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ধান কাটা-মাড়াই কাজ করি। এবার হিলিকে আসছি এখানে প্রতি বিঘা -৩৩ শতক- ধান কাটা মাড়াইসহ ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫’শ টাকা নিচ্ছি। আমরা দিনে প্রায় ৭ থেকে ৮ বিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াই করে থাকি। এখন আবহাওয়া ভালো আছে তাই এ দামে ধান কাটছি। ঝড় বাতাস ও বৃষ্টি হলে ধান কাটার দাম বৃদ্ধি পাবে।
  
হাকিমপুর উপজেলার কৃষি অফিসার আরজেনা বেগম বলেন- চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৬১৫ হেক্টর জমি। সেখানে আবাদ হয়েছে ৭৬১৬ হেক্টর জমিতে। এবার হাকিমপুর উপজেলায় বোরো ধানের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার জন কৃষককে। এপর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৩৫-৪০% ধান কর্তন করা হয়েছে বলে জানান তিনি
  
তিনি আরও বলেন- বিভিন্ন চিকোন জাতের ধান বিঘাপ্রতি ২৪-২৫ মণ হচ্ছে। এছাড়াও উন্নত জাতের বীজ থেকে প্রতি শতকে ১ মণ হারে কৃষকরা ধান পাবেন বলে আশা করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।