Dhaka , Sunday, 16 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মধুপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, র‌্যালি ও আলোচনা সভা মধুপুরে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা নেত্রকোণায় ৫ গুণীজন পেলেন সম্মাননা পদক ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫ বিজিবির বড় ধরনের অভিযান: ঘাসের বস্তায় লুকিয়ে পাচারকালে ২১ লাখ টাকার ৭ হাজার ইয়াবা জব্দ সিদ্ধিরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ পাইকগাছায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ পালিত রূপগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ রূপগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার ডবলমুরিংয়ে ১৫ আগস্টের আলোচনা সভা: সিইউজে সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ জন আটক বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানি: প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা আছে, এ বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই: বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ এয়াকুব “প্রবাসী পল্লী” নিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান’র সাথে চট্টগ্রাম প্রবাসী ক্লাবের মতবিনিময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ধর্মপাশায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ভাসমান পেয়ারার হাট ও ভাসমান সবজি ক্ষেত পরিদর্শন: নদী রক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতায় ‘নদীবন্ধু সমাজ’-এর অনন্য উদ্যোগ চা শ্রমিকদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে বিশেষ তদন্ত টিম গঠনের কথা জানালেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী পাইকগাছায় বনবিবির উদ্যোগে বৃক্ষরোপন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রামে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রশাসন ও পুলিশ শ্রীপুরে কবি কাদের নেওয়াজের আঙিনায় সবুজ আন্দোলনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঈদগাঁওয়ে বন্যা পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ও হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ বেলাবোতে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শুরু রামগঞ্জে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির দোয়া ও মিলাদ ঈদগাঁওয়ে বন্যা পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ও হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ মিথ্যা ভান করার চেয়ে সত্যকে বেছে নেওয়া জরুরি: প্রভা মেসির পোস্টে রোনালদোর কমেন্ট, ভাঙল ইনস্টাগ্রামের সর্বকালের রেকর্ড ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মোদির ৬ বড় ঘোষণা চলতি মাসে আরও ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার হাসিনাকে যে বার্তা দিলেন সোহেল তাজ গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইতালিতে স্বপ্নের সংসারে নৃশংস পরিণতি, স্ত্রী-কন্যাসহ বাবুলের দাফন সম্পন্ন ভরা মৌসুমেও ইলিশ নেই বিষখালীতে, দুশ্চিন্তায় জেলেপল্লি

পাবনায় ৪ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে আম ও লিচুর বাম্পার ফলন।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:01:42 am, Sunday, 19 May 2024
  • 116 বার পড়া হয়েছে

পাবনায় ৪ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে আম ও লিচুর বাম্পার ফলন।।

পাবনা প্রতিনিধি।।
এবার আবহাওয়া বেশ অনুকূলে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে পাবনায় এবার আম-লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। যা বিক্রি করে অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকা আয় হতে পারে। এতে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে-প্রতিবছর জেলায় গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। এ বছর আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে শুধু ঈশ্বরদীতে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১শ হেক্টর। 
তবে যে কারণেই হোক- গত বছর এমনিতেই লিচুতে বেশি মুকুল ছিল না। তার ওপর বৈরী আবহাওয়া বিশেষ করে তীব্র দাবদাহে মকুল গাছ থেকে ঝরে পড়ে।
জানা গেছে- নব্বইয়ের দশক থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে সীমিত আকারে লিচুর চাষ শুরু হয়। এখন তা পুরো জেলায় বিস্তৃত হয়েছে। এক কথায় এখন লিচুতে বিপ্লব ঘটেছে পাবনায়। এটি এখন জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। 
কাজেই এ এলাকায় অনেক কৃষকের স্বপ্নের আরেক নাম লিচু। পাবনার সফল কৃষকদের অন্যতম কৃষিতে তিনবার রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা জানান- এখন ঈশ্বরদী- আটঘরিয়া-চাটমোহর- পাবনা সদরসহ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে। গত এক দশকে পদ্মার চরাঞ্চলে শত শত বিঘা লিচু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে।
তবে ঈশ্বরদীতে প্রকৃতপক্ষে আরও বেশি জমিতে লিচু আবাদ হয়ে থাকে বলে জানান চাষিরা। তারা জানান, প্রতিবছর পাবনা থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়ে থাকে। এ বছর ভালো ফলন হলে কমপক্ষে ৮শ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হতে পারে।
কৃষি বিভাগ এবং প্রতিষ্ঠিত লিচু চাষিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ঈশ্বরদী ছাড়াও সদরে এবার ৬৫০০ হেক্টর, চাটমোহরে ২৫০০ হেক্টর এবং আটঘরিয়া ও সুজানগরসহ কয়েকটি উপজেলায় কমবেশি লিচু চাষ হয়েছে। 
ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, দাশুরিয়া ও লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নসহ এ উপজেলায় অন্তত ২৫ হাজার লিচু চাষি রয়েছেন। এসব এলাকার এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে অন্তত দুটি লিচু গাছ নেই।
জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছি। এতে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হতে পারে।
ঈশ্বরদীর লিচু চাষি কেতাব মন্ডল ওরফে লিচু কেতাব জানান-গত বছর গাছ থেকে লিচু পাড়ার একদিন পরই দেখা যায় গাছের অধিকাংশ লিচু কালো হয়ে ঝরে পড়ে। সব মিলে কৃষকরা ভালো ফলন পাননি। তবে এবার গাছে গাছে প্রচুর মুকুল ধরেছে।
লিচু চাষিরা জানান-গাছ ভেদে লিচুর সংখ্যা পাওয়া যায়। পুরাতন গাছে ভালো ফলন হলে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার লিচু ধরে। এ বছর প্রতি হাজার লিচু গড়ে ১ হাজার ২শ টাকা ধরে গাছ থেকে বিক্রি হয়েছে।
এদিকে পাবনা সদর-ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া-সুজানগর-চাটমোহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হচ্ছে। এবার সদরের দাপুনিয়া-হেমায়েতপুর-মধুপুর-মালঞ্চি-ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া-কালিকাপুর-মাধপুর-সাহাপুর-লক্ষীকুন্ডা-সলিমপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আমের চাষ হয়েছে। 
এ বছর যেসব আম চাষ হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-আম্রপালি- লেংড়া, বারি-৪- বারি-১৪- বারি-১১- বারি-৮- গৌরমতি- থাইগ্রিন- গোপালভোগ- চোষা- হাঁড়িভাঙ্গা- হিমসাগর- ফজলি -ব্যানানা ম্যাঙ্গো-ব্রুনাইকিং-কিং অব চাকা পাত- মিয়াচাকি- বৈশাখী- সিন্ধু ইত্যাদি।
কৃষক শাহজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা জানান- তিনি এ বছর ২ হেক্টর জমিতে আম চাষ করেছেন। দেশি-বিদেশি কমপক্ষে ২০ জাতের আম রয়েছে তার বাগানে। এ বছর প্রচুর মুকুল ধরেছে। ফলনের সঙ্গে দামও ভালো পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
পাবনা সদর উপজেলার মধুপুরের খ্যাতিমান কৃষক মো. মকবুল হোসেন জানান- এবার তার ১৫ বিঘা জমিতে আম চাষ হয়েছে। তার বাগানে লেংড়া- গোপালভোগ- গৌরমতি- বারি-৪- আম্রপালি- ফজলি- হিমসাগরসহ ২০ থেকে ২২ জাতের আম রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর পাবনায় ২ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ করে ৪৫ হাজার টন আম উৎপাদন হয়। এবার অনেক বেশি মুকুল আসায় আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। আম চাষিরা জানান, এবার ফলন ৫০ হাজার টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে- এবার পাবনার আম থেকে প্রায় ৭শ কোটি টাকা আয় হবে।
  
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার আমের মুকুল বেশি ধরেছে। আবহাওয়াও ভালো। এতে গতবারের চেয়ে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। 
  
তিনি বলেন- কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে রাজশাহীর সঙ্গে মিল রেখে আম নামানোর দিন ধার্য করা হবে। তবে সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আম পাড়া শুরু হয়ে জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকার কথা। লিচু স্বল্প মেয়াদি ফল এবং এটি মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, র‌্যালি ও আলোচনা সভা

পাবনায় ৪ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে আম ও লিচুর বাম্পার ফলন।।

আপডেট সময় : 10:01:42 am, Sunday, 19 May 2024
পাবনা প্রতিনিধি।।
এবার আবহাওয়া বেশ অনুকূলে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে পাবনায় এবার আম-লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। যা বিক্রি করে অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকা আয় হতে পারে। এতে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে-প্রতিবছর জেলায় গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। এ বছর আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে শুধু ঈশ্বরদীতে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১শ হেক্টর। 
তবে যে কারণেই হোক- গত বছর এমনিতেই লিচুতে বেশি মুকুল ছিল না। তার ওপর বৈরী আবহাওয়া বিশেষ করে তীব্র দাবদাহে মকুল গাছ থেকে ঝরে পড়ে।
জানা গেছে- নব্বইয়ের দশক থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে সীমিত আকারে লিচুর চাষ শুরু হয়। এখন তা পুরো জেলায় বিস্তৃত হয়েছে। এক কথায় এখন লিচুতে বিপ্লব ঘটেছে পাবনায়। এটি এখন জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। 
কাজেই এ এলাকায় অনেক কৃষকের স্বপ্নের আরেক নাম লিচু। পাবনার সফল কৃষকদের অন্যতম কৃষিতে তিনবার রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা জানান- এখন ঈশ্বরদী- আটঘরিয়া-চাটমোহর- পাবনা সদরসহ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে। গত এক দশকে পদ্মার চরাঞ্চলে শত শত বিঘা লিচু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে।
তবে ঈশ্বরদীতে প্রকৃতপক্ষে আরও বেশি জমিতে লিচু আবাদ হয়ে থাকে বলে জানান চাষিরা। তারা জানান, প্রতিবছর পাবনা থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়ে থাকে। এ বছর ভালো ফলন হলে কমপক্ষে ৮শ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হতে পারে।
কৃষি বিভাগ এবং প্রতিষ্ঠিত লিচু চাষিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ঈশ্বরদী ছাড়াও সদরে এবার ৬৫০০ হেক্টর, চাটমোহরে ২৫০০ হেক্টর এবং আটঘরিয়া ও সুজানগরসহ কয়েকটি উপজেলায় কমবেশি লিচু চাষ হয়েছে। 
ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, দাশুরিয়া ও লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নসহ এ উপজেলায় অন্তত ২৫ হাজার লিচু চাষি রয়েছেন। এসব এলাকার এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে অন্তত দুটি লিচু গাছ নেই।
জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছি। এতে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হতে পারে।
ঈশ্বরদীর লিচু চাষি কেতাব মন্ডল ওরফে লিচু কেতাব জানান-গত বছর গাছ থেকে লিচু পাড়ার একদিন পরই দেখা যায় গাছের অধিকাংশ লিচু কালো হয়ে ঝরে পড়ে। সব মিলে কৃষকরা ভালো ফলন পাননি। তবে এবার গাছে গাছে প্রচুর মুকুল ধরেছে।
লিচু চাষিরা জানান-গাছ ভেদে লিচুর সংখ্যা পাওয়া যায়। পুরাতন গাছে ভালো ফলন হলে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার লিচু ধরে। এ বছর প্রতি হাজার লিচু গড়ে ১ হাজার ২শ টাকা ধরে গাছ থেকে বিক্রি হয়েছে।
এদিকে পাবনা সদর-ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া-সুজানগর-চাটমোহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হচ্ছে। এবার সদরের দাপুনিয়া-হেমায়েতপুর-মধুপুর-মালঞ্চি-ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া-কালিকাপুর-মাধপুর-সাহাপুর-লক্ষীকুন্ডা-সলিমপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আমের চাষ হয়েছে। 
এ বছর যেসব আম চাষ হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-আম্রপালি- লেংড়া, বারি-৪- বারি-১৪- বারি-১১- বারি-৮- গৌরমতি- থাইগ্রিন- গোপালভোগ- চোষা- হাঁড়িভাঙ্গা- হিমসাগর- ফজলি -ব্যানানা ম্যাঙ্গো-ব্রুনাইকিং-কিং অব চাকা পাত- মিয়াচাকি- বৈশাখী- সিন্ধু ইত্যাদি।
কৃষক শাহজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা জানান- তিনি এ বছর ২ হেক্টর জমিতে আম চাষ করেছেন। দেশি-বিদেশি কমপক্ষে ২০ জাতের আম রয়েছে তার বাগানে। এ বছর প্রচুর মুকুল ধরেছে। ফলনের সঙ্গে দামও ভালো পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
পাবনা সদর উপজেলার মধুপুরের খ্যাতিমান কৃষক মো. মকবুল হোসেন জানান- এবার তার ১৫ বিঘা জমিতে আম চাষ হয়েছে। তার বাগানে লেংড়া- গোপালভোগ- গৌরমতি- বারি-৪- আম্রপালি- ফজলি- হিমসাগরসহ ২০ থেকে ২২ জাতের আম রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর পাবনায় ২ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ করে ৪৫ হাজার টন আম উৎপাদন হয়। এবার অনেক বেশি মুকুল আসায় আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। আম চাষিরা জানান, এবার ফলন ৫০ হাজার টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে- এবার পাবনার আম থেকে প্রায় ৭শ কোটি টাকা আয় হবে।
  
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার আমের মুকুল বেশি ধরেছে। আবহাওয়াও ভালো। এতে গতবারের চেয়ে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। 
  
তিনি বলেন- কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে রাজশাহীর সঙ্গে মিল রেখে আম নামানোর দিন ধার্য করা হবে। তবে সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আম পাড়া শুরু হয়ে জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকার কথা। লিচু স্বল্প মেয়াদি ফল এবং এটি মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকে।