Dhaka , Saturday, 14 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় মুক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে র‌্যালি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)’র কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে আওয়ামী সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান। রামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে খালেদা জিয়ার বিদ্রোহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল পাইকগাছায় অবৈধ জাল জব্দ; পোনা নদীতে অবমুক্ত ১০ কেজির বদলে ৮ কেজি: রূপগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ বেগমগঞ্জের গোপালপুর ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত  রাজাপুরে চাঁদাবাজির মামলার দুই আসামি গ্রেফতার আতঙ্কের সাম্রাজ্য ফারাজ করিম, মানবিকতার মুখোশে অভিযোগের পাহাড় চট্টগ্রামে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় থেকে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ ০৫ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-৭,চট্টগ্রাম শ্রীপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার রামু গর্জনিয়ায় তাঁতীদলের আয়োজনে দোয়া ও মাহফিল ইফতার সম্পন্ন ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দুর্গাপুর উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান বলে দেশীয় শাড়ি-থ্রি-পিস বিক্রি হিলি বাজারে ভোক্তা অধিকার অভিযানে জরিমানা ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ লালমনিরহাট: বায়ুদূষণ রোধে মাঠে নামলো ভ্রাম্যমাণ আদালত লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়াড়ি চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার: ডিবির অভিযানে মোবাইল ও সিম জব্দ পাইকগাছায় ওয়াশ ফর আপ-২ প্রকল্পের কর্মশালা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় গ্রাম সমিতির নবনির্মিত অফিস ভবন উদ্বোধন রংপুরের পীরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: নারায়ণগঞ্জে র‍্যাবের যৌথ অভিযানে প্রধান আসামি গ্রেফতার কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র অভিযান: ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ি ও মাদক উদ্ধার গুলির ভয় দেখিয়ে গারো পরিবারের বাড়ি ঘর ভাঙার অভিযোগ আর্থিক সহায়তা পেল ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পবিত্র রমজানে বাংলাদেশজুড়ে ১০ হাজার অসহায় পরিবারের পাশে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন সাভার আশুলিয়ায় দারুল ইহসান ট্রাস্টের ভু-সম্পত্তি ও মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র সংঘাত, সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো নোয়াখালীতে বিয়ের ফাঁদে ফেলে স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে গণধর্ষণ নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থান হলে সালিশ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করবে না: এমপি ফখরুল ইসলাম “আল আমিন শিশু একাডেমির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত” ইবিতে শিক্ষার্থীদের সম্মানে শহীদ আনাস হল ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল পাইকগাছায় খুচরা তেল বিক্রেতাদের ওপর প্রশাসনের মনিটরিং মধুপুর থানার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া   মাহফিল অনুষ্ঠিত বিশ্ব নারী দিবসে বিএইচআরএফ’র ‘স্বনির্ভর নারী’ কর্মসূচির আওতায় সেলাই মেশিন বিতরণ

শিক্ষিত বেকার যুবক কলা চাষে ঝুকছে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:13:24 pm, Friday, 12 August 2022
  • 237 বার পড়া হয়েছে

শিক্ষিত বেকার যুবক কলা চাষে ঝুকছে

জুরাইস ইসলাম মেহেরপুর।।

মেহেরপুরের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পর্যাপ্ত পরিমান কলার চাষ হচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে জেলায় কলা চাষ হয়েছে এক হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে। বর্তমানে রং কলা মেহেরপুরে জয়েন্ট গভর্নর, মেহের সাগর, বাইশছড়ি, দুধসর, সবরি, চাপা, চিনিচাঁপা সহ বিভিন্ন ধরনের কলার চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষ, ব্যবসা ও পরিবহনের সাথে জড়িত রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জেলার চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে কলার চাষ করে। একবার চারা রোপন করে ২৪ মাসে ৩ বার ফলন পাওয়া যায় কলা চাষে। কম খরচে বেশি লাভ, উর্বর মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কলা চাষ কাজে শিক্ষিত যুবকরাও বেকার চলা ফেরা না করে কলার চাষ আবদ শুরু করেন।
সদর উপজেলার বিধধারপুর গ্রামের কলাচাষি আব্দুল আল মামুন বলেন আমি চাকরী আশায় না থেকে- আমি এক একর জমিতে সবরি কলা ও রংকলা,চাপাকলা চাষ করেছি। জমি থেকেই ব্যবসায়ীরা ৪০০থেকে ৫০০ টাকা দামে কাঁদি হিসেবে কিনে নেয়। প্রতি কাদিতে গড়ে ১০ ছড়ি কলা থাকে। আনুমানিক ১২০-১৩৫ টি কলাও থাকে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মেহেরপুরের এ কলার চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে জেলা থেকে প্রতিদিন ছোট বড় মিলিয়ে কমপক্ষে ৩০ ট্রাক কলা বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগই কুষ্টিয়া, খুলনা ও ঢাকায় যায়। একই কথা জানালেন কলা চাষী ইউসুফ আলীসহ অনেকেই।
কলার দাম ও চাহিদা কেমন জানতে চাইলে মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের কলা ব্যবসায়ী হাসিবুর জানান- তিনি ৮-১০ বছর ধরে কলার চাষ করেছেন। এখনো কলা চাষের সাথে জড়িত হলেও ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়মিত কলা পাঠিয়ে থাকেন দেশের বিভিন্ন জেলায় । আমরা কাঁদি হিসেবে কলা কিনে পাঠিয়ে দেই। সবরি কলা ১২০ টি কলার এক কাঁদির দাম ৩৫০ টাকার বেশি। সবরি কলা প্রতি হালি বাগানে কেনা পড়ে ১৮ টাকার মত। এবং বাইশছড়ি কলার কাঁদিতে গড়ে ২৪০ টি কলা পাওয়া যায়। এ কলার দাম ৫০০-৬০০ টাকা এবং এক হালি কলা ২০ থেকে২২ টাকা দাম পড়ে।
গাংনী উপজেলার হেমায়তপুর গ্রামে উজ্জল মিয়া বলেন আমি লেখা পড়া পাশাপাশি পাচঁসাত বছর কলার চাষ আবাদ করি আমার এখন দুই বিঘা জমিতে কলার চাষ করি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আমার বছরে এক থেকে দেড় দুই লাখ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাব। এই আবাদে সবথেকে সুবিধা হলো একটি গাছে কলার কাঁদি আসলে মা গাছের সাথে একটি চারা রেখে বাকি গুলো কেটে ফেলি এই ভাবে তিন বার অল্প খরচে লাভ বান হওয়া যায়।
কলা চাষীদের তথ্যমতে, এক বিঘা জমিতে কলার চাষ করতে প্রথম বছরে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২০হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিবিঘা জমিতে প্রতি বছর প্রায় ৪ শত কাঁদি কলা পাওয়া যায়। যা ক্ষেত থেকে পাইকারী বিক্রি করলে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। প্রথম অবস্থায় খরচ বেশি হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার সার-বিষ ও পানি সেচ বাবদ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে খরচ যথেষ্ঠ। এতে বাকি ২ বার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এক লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকার কলা বিক্রি করা যায়।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামসুল আলম বলেন -কলা এখন বারোমাসের ফসল। কলা চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সারা দিন মাঠে থাকছেন। চাষিদের কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। সারা দেশে মেহেরপুরের কলার চাহিদা থাকায় কৃষি বিভাগ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কলাতে কার্বাইড ও বিষ স্প্রে না করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় মুক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

শিক্ষিত বেকার যুবক কলা চাষে ঝুকছে

আপডেট সময় : 05:13:24 pm, Friday, 12 August 2022

জুরাইস ইসলাম মেহেরপুর।।

মেহেরপুরের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পর্যাপ্ত পরিমান কলার চাষ হচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে জেলায় কলা চাষ হয়েছে এক হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে। বর্তমানে রং কলা মেহেরপুরে জয়েন্ট গভর্নর, মেহের সাগর, বাইশছড়ি, দুধসর, সবরি, চাপা, চিনিচাঁপা সহ বিভিন্ন ধরনের কলার চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষ, ব্যবসা ও পরিবহনের সাথে জড়িত রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জেলার চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে কলার চাষ করে। একবার চারা রোপন করে ২৪ মাসে ৩ বার ফলন পাওয়া যায় কলা চাষে। কম খরচে বেশি লাভ, উর্বর মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কলা চাষ কাজে শিক্ষিত যুবকরাও বেকার চলা ফেরা না করে কলার চাষ আবদ শুরু করেন।
সদর উপজেলার বিধধারপুর গ্রামের কলাচাষি আব্দুল আল মামুন বলেন আমি চাকরী আশায় না থেকে- আমি এক একর জমিতে সবরি কলা ও রংকলা,চাপাকলা চাষ করেছি। জমি থেকেই ব্যবসায়ীরা ৪০০থেকে ৫০০ টাকা দামে কাঁদি হিসেবে কিনে নেয়। প্রতি কাদিতে গড়ে ১০ ছড়ি কলা থাকে। আনুমানিক ১২০-১৩৫ টি কলাও থাকে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মেহেরপুরের এ কলার চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে জেলা থেকে প্রতিদিন ছোট বড় মিলিয়ে কমপক্ষে ৩০ ট্রাক কলা বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগই কুষ্টিয়া, খুলনা ও ঢাকায় যায়। একই কথা জানালেন কলা চাষী ইউসুফ আলীসহ অনেকেই।
কলার দাম ও চাহিদা কেমন জানতে চাইলে মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের কলা ব্যবসায়ী হাসিবুর জানান- তিনি ৮-১০ বছর ধরে কলার চাষ করেছেন। এখনো কলা চাষের সাথে জড়িত হলেও ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়মিত কলা পাঠিয়ে থাকেন দেশের বিভিন্ন জেলায় । আমরা কাঁদি হিসেবে কলা কিনে পাঠিয়ে দেই। সবরি কলা ১২০ টি কলার এক কাঁদির দাম ৩৫০ টাকার বেশি। সবরি কলা প্রতি হালি বাগানে কেনা পড়ে ১৮ টাকার মত। এবং বাইশছড়ি কলার কাঁদিতে গড়ে ২৪০ টি কলা পাওয়া যায়। এ কলার দাম ৫০০-৬০০ টাকা এবং এক হালি কলা ২০ থেকে২২ টাকা দাম পড়ে।
গাংনী উপজেলার হেমায়তপুর গ্রামে উজ্জল মিয়া বলেন আমি লেখা পড়া পাশাপাশি পাচঁসাত বছর কলার চাষ আবাদ করি আমার এখন দুই বিঘা জমিতে কলার চাষ করি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আমার বছরে এক থেকে দেড় দুই লাখ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাব। এই আবাদে সবথেকে সুবিধা হলো একটি গাছে কলার কাঁদি আসলে মা গাছের সাথে একটি চারা রেখে বাকি গুলো কেটে ফেলি এই ভাবে তিন বার অল্প খরচে লাভ বান হওয়া যায়।
কলা চাষীদের তথ্যমতে, এক বিঘা জমিতে কলার চাষ করতে প্রথম বছরে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২০হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিবিঘা জমিতে প্রতি বছর প্রায় ৪ শত কাঁদি কলা পাওয়া যায়। যা ক্ষেত থেকে পাইকারী বিক্রি করলে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। প্রথম অবস্থায় খরচ বেশি হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার সার-বিষ ও পানি সেচ বাবদ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে খরচ যথেষ্ঠ। এতে বাকি ২ বার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এক লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকার কলা বিক্রি করা যায়।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামসুল আলম বলেন -কলা এখন বারোমাসের ফসল। কলা চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সারা দিন মাঠে থাকছেন। চাষিদের কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। সারা দেশে মেহেরপুরের কলার চাহিদা থাকায় কৃষি বিভাগ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কলাতে কার্বাইড ও বিষ স্প্রে না করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে।