Dhaka , Tuesday, 5 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
হত্যা মাদকসহ ডজন মামলার পলাতক আসামি রূপগঞ্জে গ্রেফতারের পর পুলিশের উপর হামলা করে সন্ত্রাসী শামীমকে ছিনতাই, অভিযানে গ্রেফতার-১৩ রূপগঞ্জে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার হত্যা মাদকসহ ডজন মামলার পলাতক আসামি রূপগঞ্জে গ্রেফতারের পর পুলিশের উপর হামলা করে সন্ত্রাসী শামীমকে ছিনতাই, অভিযানে গ্রেফতার-১৩ দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমানের সরকার অত্যন্ত আন্তরিক: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের নবঘোষিত জেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬টি কমিটি করে দিলেন মেয়র রূপগঞ্জে সড়ক নির্মাণ কাজের অনিয়ম, কাদাযুক্ত মাটি ও পুরনো পিচসহ নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ রূপগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার, আটক-২ রূপগঞ্জে তারাবো পৌরসভায় মাদক, চুরি ও ছিনতাই নির্মূলে সচেতনতামূলক সভা মধুপুরের আউশনারা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় শিকির বিল খাল খনন কাজের উদ্বোধন পাইকগাছায় প্রস্তাবিত ফায়ার স্টেশন নির্মাণস্থল পরিদর্শন জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে চসিক মেয়র লালমনিরহাট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে নতুন আঙ্গিকে শ্রেণীকক্ষ ও প্লে স্টেশনের উদ্বোধন কালভার্ট নির্মাণে বিকল্প সড়ক নেই দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ মধুপুরে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত নগরীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা,১৪ জন গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: নাছিরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ১০ নেতার পদত্যাগ রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই যেন রোগী, গত দুই দশকে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল অবস্থা ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৬ কি.মি. খাল খনন কর্মসূচী উদ্বোধন সম্পন্ন। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন সাজ্জাদ হোসেন শাওন   টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন আজিজুল হক আজিজ নীরবতা নয়, প্রতিবাদ-পাইকগাছায় ইভটিজিং বিরোধী সচেতনতা সভা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত… স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত খুললো চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা :- আবু সুফিয়ান এমপি শ্রীপুরের আমতৈল গ্রামের সহিংসতা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে মাগুরা এক আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খানঃ শান্তি বজায় রাখার আহ্বান নোয়াখালীতে মায়ের সামনে ড্রামট্রাকের নিচে প্রাণ গেল শিশুর রাজাপুরে ইয়াবাসহ বিএনপি সভাপতির ছেলে আটক

শিক্ষিত বেকার যুবক কলা চাষে ঝুকছে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:13:24 pm, Friday, 12 August 2022
  • 245 বার পড়া হয়েছে

শিক্ষিত বেকার যুবক কলা চাষে ঝুকছে

জুরাইস ইসলাম মেহেরপুর।।

মেহেরপুরের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পর্যাপ্ত পরিমান কলার চাষ হচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে জেলায় কলা চাষ হয়েছে এক হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে। বর্তমানে রং কলা মেহেরপুরে জয়েন্ট গভর্নর, মেহের সাগর, বাইশছড়ি, দুধসর, সবরি, চাপা, চিনিচাঁপা সহ বিভিন্ন ধরনের কলার চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষ, ব্যবসা ও পরিবহনের সাথে জড়িত রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জেলার চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে কলার চাষ করে। একবার চারা রোপন করে ২৪ মাসে ৩ বার ফলন পাওয়া যায় কলা চাষে। কম খরচে বেশি লাভ, উর্বর মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কলা চাষ কাজে শিক্ষিত যুবকরাও বেকার চলা ফেরা না করে কলার চাষ আবদ শুরু করেন।
সদর উপজেলার বিধধারপুর গ্রামের কলাচাষি আব্দুল আল মামুন বলেন আমি চাকরী আশায় না থেকে- আমি এক একর জমিতে সবরি কলা ও রংকলা,চাপাকলা চাষ করেছি। জমি থেকেই ব্যবসায়ীরা ৪০০থেকে ৫০০ টাকা দামে কাঁদি হিসেবে কিনে নেয়। প্রতি কাদিতে গড়ে ১০ ছড়ি কলা থাকে। আনুমানিক ১২০-১৩৫ টি কলাও থাকে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মেহেরপুরের এ কলার চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে জেলা থেকে প্রতিদিন ছোট বড় মিলিয়ে কমপক্ষে ৩০ ট্রাক কলা বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগই কুষ্টিয়া, খুলনা ও ঢাকায় যায়। একই কথা জানালেন কলা চাষী ইউসুফ আলীসহ অনেকেই।
কলার দাম ও চাহিদা কেমন জানতে চাইলে মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের কলা ব্যবসায়ী হাসিবুর জানান- তিনি ৮-১০ বছর ধরে কলার চাষ করেছেন। এখনো কলা চাষের সাথে জড়িত হলেও ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়মিত কলা পাঠিয়ে থাকেন দেশের বিভিন্ন জেলায় । আমরা কাঁদি হিসেবে কলা কিনে পাঠিয়ে দেই। সবরি কলা ১২০ টি কলার এক কাঁদির দাম ৩৫০ টাকার বেশি। সবরি কলা প্রতি হালি বাগানে কেনা পড়ে ১৮ টাকার মত। এবং বাইশছড়ি কলার কাঁদিতে গড়ে ২৪০ টি কলা পাওয়া যায়। এ কলার দাম ৫০০-৬০০ টাকা এবং এক হালি কলা ২০ থেকে২২ টাকা দাম পড়ে।
গাংনী উপজেলার হেমায়তপুর গ্রামে উজ্জল মিয়া বলেন আমি লেখা পড়া পাশাপাশি পাচঁসাত বছর কলার চাষ আবাদ করি আমার এখন দুই বিঘা জমিতে কলার চাষ করি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আমার বছরে এক থেকে দেড় দুই লাখ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাব। এই আবাদে সবথেকে সুবিধা হলো একটি গাছে কলার কাঁদি আসলে মা গাছের সাথে একটি চারা রেখে বাকি গুলো কেটে ফেলি এই ভাবে তিন বার অল্প খরচে লাভ বান হওয়া যায়।
কলা চাষীদের তথ্যমতে, এক বিঘা জমিতে কলার চাষ করতে প্রথম বছরে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২০হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিবিঘা জমিতে প্রতি বছর প্রায় ৪ শত কাঁদি কলা পাওয়া যায়। যা ক্ষেত থেকে পাইকারী বিক্রি করলে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। প্রথম অবস্থায় খরচ বেশি হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার সার-বিষ ও পানি সেচ বাবদ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে খরচ যথেষ্ঠ। এতে বাকি ২ বার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এক লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকার কলা বিক্রি করা যায়।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামসুল আলম বলেন -কলা এখন বারোমাসের ফসল। কলা চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সারা দিন মাঠে থাকছেন। চাষিদের কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। সারা দেশে মেহেরপুরের কলার চাহিদা থাকায় কৃষি বিভাগ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কলাতে কার্বাইড ও বিষ স্প্রে না করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মাদকসহ ডজন মামলার পলাতক আসামি রূপগঞ্জে গ্রেফতারের পর পুলিশের উপর হামলা করে সন্ত্রাসী শামীমকে ছিনতাই, অভিযানে গ্রেফতার-১৩

শিক্ষিত বেকার যুবক কলা চাষে ঝুকছে

আপডেট সময় : 05:13:24 pm, Friday, 12 August 2022

জুরাইস ইসলাম মেহেরপুর।।

মেহেরপুরের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পর্যাপ্ত পরিমান কলার চাষ হচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে জেলায় কলা চাষ হয়েছে এক হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে। বর্তমানে রং কলা মেহেরপুরে জয়েন্ট গভর্নর, মেহের সাগর, বাইশছড়ি, দুধসর, সবরি, চাপা, চিনিচাঁপা সহ বিভিন্ন ধরনের কলার চাষ হচ্ছে। এই কলা চাষ, ব্যবসা ও পরিবহনের সাথে জড়িত রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জেলার চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে কলার চাষ করে। একবার চারা রোপন করে ২৪ মাসে ৩ বার ফলন পাওয়া যায় কলা চাষে। কম খরচে বেশি লাভ, উর্বর মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কলা চাষ কাজে শিক্ষিত যুবকরাও বেকার চলা ফেরা না করে কলার চাষ আবদ শুরু করেন।
সদর উপজেলার বিধধারপুর গ্রামের কলাচাষি আব্দুল আল মামুন বলেন আমি চাকরী আশায় না থেকে- আমি এক একর জমিতে সবরি কলা ও রংকলা,চাপাকলা চাষ করেছি। জমি থেকেই ব্যবসায়ীরা ৪০০থেকে ৫০০ টাকা দামে কাঁদি হিসেবে কিনে নেয়। প্রতি কাদিতে গড়ে ১০ ছড়ি কলা থাকে। আনুমানিক ১২০-১৩৫ টি কলাও থাকে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মেহেরপুরের এ কলার চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে জেলা থেকে প্রতিদিন ছোট বড় মিলিয়ে কমপক্ষে ৩০ ট্রাক কলা বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগই কুষ্টিয়া, খুলনা ও ঢাকায় যায়। একই কথা জানালেন কলা চাষী ইউসুফ আলীসহ অনেকেই।
কলার দাম ও চাহিদা কেমন জানতে চাইলে মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের কলা ব্যবসায়ী হাসিবুর জানান- তিনি ৮-১০ বছর ধরে কলার চাষ করেছেন। এখনো কলা চাষের সাথে জড়িত হলেও ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়মিত কলা পাঠিয়ে থাকেন দেশের বিভিন্ন জেলায় । আমরা কাঁদি হিসেবে কলা কিনে পাঠিয়ে দেই। সবরি কলা ১২০ টি কলার এক কাঁদির দাম ৩৫০ টাকার বেশি। সবরি কলা প্রতি হালি বাগানে কেনা পড়ে ১৮ টাকার মত। এবং বাইশছড়ি কলার কাঁদিতে গড়ে ২৪০ টি কলা পাওয়া যায়। এ কলার দাম ৫০০-৬০০ টাকা এবং এক হালি কলা ২০ থেকে২২ টাকা দাম পড়ে।
গাংনী উপজেলার হেমায়তপুর গ্রামে উজ্জল মিয়া বলেন আমি লেখা পড়া পাশাপাশি পাচঁসাত বছর কলার চাষ আবাদ করি আমার এখন দুই বিঘা জমিতে কলার চাষ করি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আমার বছরে এক থেকে দেড় দুই লাখ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাব। এই আবাদে সবথেকে সুবিধা হলো একটি গাছে কলার কাঁদি আসলে মা গাছের সাথে একটি চারা রেখে বাকি গুলো কেটে ফেলি এই ভাবে তিন বার অল্প খরচে লাভ বান হওয়া যায়।
কলা চাষীদের তথ্যমতে, এক বিঘা জমিতে কলার চাষ করতে প্রথম বছরে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২০হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিবিঘা জমিতে প্রতি বছর প্রায় ৪ শত কাঁদি কলা পাওয়া যায়। যা ক্ষেত থেকে পাইকারী বিক্রি করলে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। প্রথম অবস্থায় খরচ বেশি হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার সার-বিষ ও পানি সেচ বাবদ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে খরচ যথেষ্ঠ। এতে বাকি ২ বার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এক লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকার কলা বিক্রি করা যায়।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামসুল আলম বলেন -কলা এখন বারোমাসের ফসল। কলা চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সারা দিন মাঠে থাকছেন। চাষিদের কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। সারা দেশে মেহেরপুরের কলার চাহিদা থাকায় কৃষি বিভাগ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কলাতে কার্বাইড ও বিষ স্প্রে না করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে।