Dhaka , Saturday, 18 May 2024
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ককটেল বিস্ফোরনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।। সড়কের শৃংখলা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন ওয়ারী ট্রাফিক পুলিশ।। রূপগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা।। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সফিউল ইসলাম।। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দুর্গাপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।। আনোয়ার খাঁন মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার রামগঞ্জ শাখার শুভ উদ্বোধন।।  প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ইবিতে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল।। তিতাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।। যমুনায় সিবিএ নির্বাচন- রবিউল সভাপতি শাহজাহান সম্পাদক নির্বাচিত।। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব হলেন রামগঞ্জের কৃতি সন্তান আবদুর রহমান খাঁন।। মোরেলগঞ্জের পোলেরহাট বাজারে আগুনে ১১ টি দোকান পুড়ে ছাই-ক্ষতির পরিমান কোটি টাকা।। শরীয়তপুরে রাসেলস ভাইপার সাপ পিটিয়ে মারলো কৃষকরা।। ২২ বছর পর স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত স্বামী গ্রেপ্তার।। জাজিরায় মাতৃদুগ্ধ বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত।। ধামরাই সরকারি কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠিত।। মোরেলগঞ্জে তরুণ সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত।। পাবনায় ফ্যানের বাতাসে ধান উড়াতে গি‌য়ে কৃষকের মৃত্যু।। মাদারীপুরে ভোক্তা অধিকারে অভিযান- দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা।। মোটরসাইকেল মার্কার উৎসবমুখর উঠান বৈঠক।। নারায়ণগঞ্জ টিভি সাংবাদিক ফোরামের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা।। জাজিরা পৌর সড়কে বছর পেরোলেও আলোর মুখ দেখেনি আলোকসজ্জা প্রকল্প।। রামগঞ্জে আনারস প্রতীকের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।। পাবনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে -পাউবো- কর্মরত ৩৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী একযোগে বদলি আবেদনে সমালোচনার ঝড়।। মোংলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: হামিদ শেখ কে গার্ড অব অনার।। দেবহাটায় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্যাপন।। সখিপুর ইউনিয়ন স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা।। দেবহাটা বাল্যবিবাহ ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সভা।।  ঘুম থেকে উঠছে দেখতাম অস্ত্র আমাদের দিকে তাককরা- নাবিক রাজু।। দাউদকান্দিতে আইফোন না পেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে এক কিশোরের আত্মহত্যা।। আটঘরিয়ায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে মোটরসাইকেল-ঘোড়া।।

পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের করুন অবস্থা।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:01:47 am, Tuesday, 2 April 2024
  • 56 বার পড়া হয়েছে

পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের করুন অবস্থা।।

অরবিন্দ রায়

স্টাফ রির্পোটার।।

অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছে রঘুনাথপুর পাগলপাড়ার  মৃৎশিল্পীরা।

নতুন সরকার আসে সরকার পরিবর্তন হয় কিন্তু মৃৎশিল্পীদের ভাগ্যে কোন পরিবর্তন হয় না। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  ভোটের জন্য অবহেলিত মৃৎশিল্পীদের কদর বাড়ে। নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে মৃৎশিল্পীরা আগে মতই থেকে যায়।
সরেজমিন  গিয়ে দেখা যায় পাল পাড়ার মৃৎশিল্পীদের  করুন দূশ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশে মৃৎশিল্পীদের উন্নয়নে কোন ছোঁয়া লাগেনি।

তবুও মনের কষ্ট  মনে নিয়ে   বাংলা নববর্ষ কে রাঙাতে  ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে  মৃৎশিল্পীরা। প্রযুক্তি, রুচি, আধুনিকতা ও বাজার বিশ্বায়নের ফলে বাঙালির সংস্কৃতির অংশ মৃৎশিল্প এখন  বিলিন হওয়ার পথে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে পাওয়া এই পেশা অনেকেই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায়  চলে গেছেন ।
 
বিভিন্ন এলাকায় যারা এখনো এই পেশায় টিকে রয়েছেন সব মিলিয়ে ভালো নেই তারা। তবুও শখ, বংশগত ঐতিহ্য বা জীবিকার তাগিদে এই ক্ষুদ্র শিল্পকে ধরে রেখেছেন তারা।

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষকে রাঙাতে মাটির পণ্য প্রস্তত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন  মৃৎশিল্পীরা। তবে বৈশাখে রোজা আর সামনে ঈদ থাকায় মাটির জিনিসপত্র কতটুকু কাটবে তা নিয়েও মৃৎশিল্পীরা বেশ শংকায় রয়েছেন।

বাংলা নববর্ষে রঘুনাথপুর পাল পাড়া গিয়ে দেখা যায় , বিভিন্ন স্থানের  বিক্রির জন্য মৃৎশিল্পীরা তাদের নিজের হাতে নিপুণ কারুকাজে মাটি দিয়ে তৈরি করেছেন শিশুদের জন্য রকমারি পুতুল, ফুলদানি, রকমারি ফল, হাড়ি, কড়াই, ব্যাংক, বাসন, চায়ের কাপ  থালা, বাটি, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, টিয়া, ময়না, ময়ূর, মোরগ, খরগোশ, হাঁস, কলস, ঘটি, মুড়িভাজার ঝাঞ্জুর, চুলা ও ফুলের টবসহ বিভিন্ন মাটির জিনিসপত্র।

মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে শতাধিক পরিবার। তারা বিভিন্ন উৎসবে মাটির তৈরির জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

রঘুনাথপুর পাল পাড়া ভীম পাল, গোপাল পাল সহ বিভিন্ন মৃৎশিল্পীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পারিবারিকভাবেই তারা পৈত্রিক পেশা হিসেবে এই মাটির কাজ ধরে রেখেছে। পণ্যের রং ও নকশার কাজ নিজেরাই করে থাকে। খেলনা তৈরির জন্য মাঠ থেকে মাটি আনা, মাটি নরম করা, সাঁচ বসানো, চুলায় পোড়ানো, রোদে শুকানো, রং করাসহ প্রায় সব কাজই এখানকার নারীরা করেন।

বোয়ালী ৬ নং ওয়ার্ডে শিলাবৃষ্টিতে ব্যপক ক্ষতি গ্রস্হ হয়েছে। টিনের চাল গুলো ছিদ্র হয়ে গেছে। পাল পাড়া বসবাস করে ৩ থেকে ৪ শত ভোটার বসবাস করে। সরকারি অনুদান পড়েছে মাএ ১ জন।

বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান জানান, রঘুনাথপুর পালপাড়া মৃৎশিল্পীদের উন্নয়নে বিশেষ সহযোগিতার করার জন্য মাননীয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মহোদয়দের সাথে যোগাযোগ করে মৃৎশিল্পীদের জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্হা করছি। ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি গ্রস্হদের জন্য আমরা সরকারি অনুদান পেয়েছি। সরকারি অনুদান সুষ্ঠু ভাবে বিতরণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট ওর্ডাডের মেম্বার, মহিলা মেম্বার, আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করে দিয়েছি। পালপাড়া মৃৎশিল্পীরা কয়জন সরকারি অনুদান পেয়েছেন তা সংশ্লিষ্ট মেম্বার ও কমিটি ভালো বলতে পারবেন।

ইউপির সাবেক সদস্য আমজাদ হোসেন জানান,৬ নং ওয়ার্ডে ঝড়ে ক্ষতি গ্রস্হ হয়েছে   কমপক্ষে ২৫০ পরিবার।অনুদান পেয়েছেন  ৫ জন। এর মধ্যে পালপাড়া অনুদান পেয়েছেন ১ জন।

ইউপির  বর্তমান সদস্য বাহার উদ্দিন জানান, আমি শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি গ্রস্হদের সহযোগিতার জন্য ১০ জন ভাগে পেয়েছিলাম। পাল পাড়া দিয়েছি ১ জন কে।

বোয়ালী ইউপির ছাএলীগ ও যুবলীগের একাধিক বার দায়িত্ব প্রাপ্ত  সভাপতি এস এম আক্কেল আলী জানান, বোয়ালী আওয়ামীলীগের রাজনৈতিতে সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা ঘরে বসে আছে। সু সময়ের নেতা কর্মীরা এখন আওয়ামীগীগে ডুকে পড়েছে। তাই তো পাল পাড়ার দরিদ্র জনগন নিয়ে মাথা ঘামানো চিন্তা  কারো নাই।

নজরুল ইসলাম বাবুল, রঘুনাথপুর সঃ প্রাঃ বিঃ একাধিক বার সদস্য ছিলেন, একসময় রাজনীতির সক্রিয় ছিলেন। পাল পাড়া মৃৎশিল্পীরা সব সময় অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছে। কোন সরকারি অনুদান এলে চেয়ারম্যানের স্পেশাল লোক, মেম্বারের স্পেশাল লোক, মহিলা মেম্বারের সেস্পাল লোকেরা অনুদান পায়।  সরকারি অনুদান  প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্হরা পায় না। যে পর্যন্ত স্পেশাল লোকদের অনুদান দেয়া বন্ধ না হবে। ততদিন প্রকৃত ক্ষতি গ্রস্হরা সরকারি অনুদান পাবেন না।

আসছে বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে খেলনাসহ মাটির জিনিসপত্র তৈরি করেছেন এবং রঙের কাজও প্রায় শেষ করা হয়েছে। মেলায় বিক্রির জন্য পাইকাররা এসে এসব খেলনা কিনে নিয়ে যায়।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের একসময় বিপুল কদর থাকলেও বছরের অন্যান্য দিনে তারা বেশ দূর অবস্থায় থাকেন। শুধু মেলা এলেই কেবল কর্মমুখর হয়ে ওঠে চিরচেনা ঐতিহ্যময় প্রাচীন এই মৃৎ শিল্পীসমৃদ্ধ পাল পাড়া গ্রাম। পহেলা বৈশাখের আগে খানিকটা সময়ের জন্য হলেও মৃৎশিল্প তার হৃতগৌরব ফিরে পায় এবং মৃৎশিল্পীরাও ব্যস্ত হয়ে ওঠেন নানা সামগ্রী তৈরিতে। কিন্তু বছরের অন্যান্য দিন গুলো মানবেতর জীবন-যাপন করেন এই মৃৎশিল্পীরা।
এ সময়  বেশি মূল্যে এসব জিনিস কিনতে আগ্রহ দেখান না ক্রেতারা। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হয়। বাংলা নববর্ষ বরণে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের বিপুল কদর থাকলেও বছরের অন্যান্য দিনে তারা বেশ দূর অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করেন।

রঘুনাথপুর পাল পাড়ার ভীম  পাল, গোপাল পাল জানান,পারিবারিকভাবেই তারা পৈত্রিক পেশা হিসেবে এই মাটির কাজ ধরে রেখেছে। পণ্যের রং ও নকশার কাজ নিজেরাই করে থাকে। এখন আর আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা মাটির কাজ শিখতে চায় না। তারা অনেকেই অন্য পেশায় ঝুকছেন। আবার অনেকেই অন্য কোনো কাজ না জানার কারণে এই পেশায়  লেগে আছেন। বর্তমানে আমাদের অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। এরপরও কেউ আমাদের খোঁজ-খবর নেন না। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।

অনগ্রসর মৃৎশিল্পী  জনগোষ্ঠীদের সাহায্যের জন্য আজ পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেন নি । মৃৎশিল্পীরা হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে ধরে রেখেছে। তাদের মাধ্যমেই অতিত ঐতিহ্য আজও   টিকে রয়েছে। মৃৎশিল্পীদের উন্নয়নে সরকার ও সমাজের ধনী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান সুধী সমাজ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত চার সড়কের উদ্বোধন।।

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্লাবিত,২ শত পরিবার পানিবন্দী।।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ককটেল বিস্ফোরনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।।

পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের করুন অবস্থা।।

আপডেট সময় : 05:01:47 am, Tuesday, 2 April 2024

অরবিন্দ রায়

স্টাফ রির্পোটার।।

অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছে রঘুনাথপুর পাগলপাড়ার  মৃৎশিল্পীরা।

নতুন সরকার আসে সরকার পরিবর্তন হয় কিন্তু মৃৎশিল্পীদের ভাগ্যে কোন পরিবর্তন হয় না। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  ভোটের জন্য অবহেলিত মৃৎশিল্পীদের কদর বাড়ে। নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে মৃৎশিল্পীরা আগে মতই থেকে যায়।
সরেজমিন  গিয়ে দেখা যায় পাল পাড়ার মৃৎশিল্পীদের  করুন দূশ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশে মৃৎশিল্পীদের উন্নয়নে কোন ছোঁয়া লাগেনি।

তবুও মনের কষ্ট  মনে নিয়ে   বাংলা নববর্ষ কে রাঙাতে  ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে  মৃৎশিল্পীরা। প্রযুক্তি, রুচি, আধুনিকতা ও বাজার বিশ্বায়নের ফলে বাঙালির সংস্কৃতির অংশ মৃৎশিল্প এখন  বিলিন হওয়ার পথে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে পাওয়া এই পেশা অনেকেই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায়  চলে গেছেন ।
 
বিভিন্ন এলাকায় যারা এখনো এই পেশায় টিকে রয়েছেন সব মিলিয়ে ভালো নেই তারা। তবুও শখ, বংশগত ঐতিহ্য বা জীবিকার তাগিদে এই ক্ষুদ্র শিল্পকে ধরে রেখেছেন তারা।

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষকে রাঙাতে মাটির পণ্য প্রস্তত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন  মৃৎশিল্পীরা। তবে বৈশাখে রোজা আর সামনে ঈদ থাকায় মাটির জিনিসপত্র কতটুকু কাটবে তা নিয়েও মৃৎশিল্পীরা বেশ শংকায় রয়েছেন।

বাংলা নববর্ষে রঘুনাথপুর পাল পাড়া গিয়ে দেখা যায় , বিভিন্ন স্থানের  বিক্রির জন্য মৃৎশিল্পীরা তাদের নিজের হাতে নিপুণ কারুকাজে মাটি দিয়ে তৈরি করেছেন শিশুদের জন্য রকমারি পুতুল, ফুলদানি, রকমারি ফল, হাড়ি, কড়াই, ব্যাংক, বাসন, চায়ের কাপ  থালা, বাটি, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, টিয়া, ময়না, ময়ূর, মোরগ, খরগোশ, হাঁস, কলস, ঘটি, মুড়িভাজার ঝাঞ্জুর, চুলা ও ফুলের টবসহ বিভিন্ন মাটির জিনিসপত্র।

মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে শতাধিক পরিবার। তারা বিভিন্ন উৎসবে মাটির তৈরির জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

রঘুনাথপুর পাল পাড়া ভীম পাল, গোপাল পাল সহ বিভিন্ন মৃৎশিল্পীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পারিবারিকভাবেই তারা পৈত্রিক পেশা হিসেবে এই মাটির কাজ ধরে রেখেছে। পণ্যের রং ও নকশার কাজ নিজেরাই করে থাকে। খেলনা তৈরির জন্য মাঠ থেকে মাটি আনা, মাটি নরম করা, সাঁচ বসানো, চুলায় পোড়ানো, রোদে শুকানো, রং করাসহ প্রায় সব কাজই এখানকার নারীরা করেন।

বোয়ালী ৬ নং ওয়ার্ডে শিলাবৃষ্টিতে ব্যপক ক্ষতি গ্রস্হ হয়েছে। টিনের চাল গুলো ছিদ্র হয়ে গেছে। পাল পাড়া বসবাস করে ৩ থেকে ৪ শত ভোটার বসবাস করে। সরকারি অনুদান পড়েছে মাএ ১ জন।

বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান জানান, রঘুনাথপুর পালপাড়া মৃৎশিল্পীদের উন্নয়নে বিশেষ সহযোগিতার করার জন্য মাননীয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মহোদয়দের সাথে যোগাযোগ করে মৃৎশিল্পীদের জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্হা করছি। ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি গ্রস্হদের জন্য আমরা সরকারি অনুদান পেয়েছি। সরকারি অনুদান সুষ্ঠু ভাবে বিতরণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট ওর্ডাডের মেম্বার, মহিলা মেম্বার, আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করে দিয়েছি। পালপাড়া মৃৎশিল্পীরা কয়জন সরকারি অনুদান পেয়েছেন তা সংশ্লিষ্ট মেম্বার ও কমিটি ভালো বলতে পারবেন।

ইউপির সাবেক সদস্য আমজাদ হোসেন জানান,৬ নং ওয়ার্ডে ঝড়ে ক্ষতি গ্রস্হ হয়েছে   কমপক্ষে ২৫০ পরিবার।অনুদান পেয়েছেন  ৫ জন। এর মধ্যে পালপাড়া অনুদান পেয়েছেন ১ জন।

ইউপির  বর্তমান সদস্য বাহার উদ্দিন জানান, আমি শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি গ্রস্হদের সহযোগিতার জন্য ১০ জন ভাগে পেয়েছিলাম। পাল পাড়া দিয়েছি ১ জন কে।

বোয়ালী ইউপির ছাএলীগ ও যুবলীগের একাধিক বার দায়িত্ব প্রাপ্ত  সভাপতি এস এম আক্কেল আলী জানান, বোয়ালী আওয়ামীলীগের রাজনৈতিতে সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা ঘরে বসে আছে। সু সময়ের নেতা কর্মীরা এখন আওয়ামীগীগে ডুকে পড়েছে। তাই তো পাল পাড়ার দরিদ্র জনগন নিয়ে মাথা ঘামানো চিন্তা  কারো নাই।

নজরুল ইসলাম বাবুল, রঘুনাথপুর সঃ প্রাঃ বিঃ একাধিক বার সদস্য ছিলেন, একসময় রাজনীতির সক্রিয় ছিলেন। পাল পাড়া মৃৎশিল্পীরা সব সময় অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছে। কোন সরকারি অনুদান এলে চেয়ারম্যানের স্পেশাল লোক, মেম্বারের স্পেশাল লোক, মহিলা মেম্বারের সেস্পাল লোকেরা অনুদান পায়।  সরকারি অনুদান  প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্হরা পায় না। যে পর্যন্ত স্পেশাল লোকদের অনুদান দেয়া বন্ধ না হবে। ততদিন প্রকৃত ক্ষতি গ্রস্হরা সরকারি অনুদান পাবেন না।

আসছে বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে খেলনাসহ মাটির জিনিসপত্র তৈরি করেছেন এবং রঙের কাজও প্রায় শেষ করা হয়েছে। মেলায় বিক্রির জন্য পাইকাররা এসে এসব খেলনা কিনে নিয়ে যায়।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের একসময় বিপুল কদর থাকলেও বছরের অন্যান্য দিনে তারা বেশ দূর অবস্থায় থাকেন। শুধু মেলা এলেই কেবল কর্মমুখর হয়ে ওঠে চিরচেনা ঐতিহ্যময় প্রাচীন এই মৃৎ শিল্পীসমৃদ্ধ পাল পাড়া গ্রাম। পহেলা বৈশাখের আগে খানিকটা সময়ের জন্য হলেও মৃৎশিল্প তার হৃতগৌরব ফিরে পায় এবং মৃৎশিল্পীরাও ব্যস্ত হয়ে ওঠেন নানা সামগ্রী তৈরিতে। কিন্তু বছরের অন্যান্য দিন গুলো মানবেতর জীবন-যাপন করেন এই মৃৎশিল্পীরা।
এ সময়  বেশি মূল্যে এসব জিনিস কিনতে আগ্রহ দেখান না ক্রেতারা। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হয়। বাংলা নববর্ষ বরণে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের বিপুল কদর থাকলেও বছরের অন্যান্য দিনে তারা বেশ দূর অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করেন।

রঘুনাথপুর পাল পাড়ার ভীম  পাল, গোপাল পাল জানান,পারিবারিকভাবেই তারা পৈত্রিক পেশা হিসেবে এই মাটির কাজ ধরে রেখেছে। পণ্যের রং ও নকশার কাজ নিজেরাই করে থাকে। এখন আর আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা মাটির কাজ শিখতে চায় না। তারা অনেকেই অন্য পেশায় ঝুকছেন। আবার অনেকেই অন্য কোনো কাজ না জানার কারণে এই পেশায়  লেগে আছেন। বর্তমানে আমাদের অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। এরপরও কেউ আমাদের খোঁজ-খবর নেন না। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।

অনগ্রসর মৃৎশিল্পী  জনগোষ্ঠীদের সাহায্যের জন্য আজ পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেন নি । মৃৎশিল্পীরা হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে ধরে রেখেছে। তাদের মাধ্যমেই অতিত ঐতিহ্য আজও   টিকে রয়েছে। মৃৎশিল্পীদের উন্নয়নে সরকার ও সমাজের ধনী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান সুধী সমাজ।