
বিজয় চৌধুরী, ঢাকা:
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো বন্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, হর্ন বাজানো আমাদের দীর্ঘদিনের একটি বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাস পরিবর্তনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের সচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
শনিবার রাজধানীতে পরিবেশ অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হর্নবিরোধী মোটর শোভাযাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-এর গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিধিমালায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশকেও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে শব্দদূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। তিনি বলেন, ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকাকে ইতোমধ্যে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এসব এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।
শব্দদূষণের প্রধান দুটি উৎস হিসেবে হর্ন বাজানো ও আতশবাজি ফোটানোর বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এসব ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বিশেষ করে নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসবে আতশবাজি যেন নির্দিষ্ট স্থানে সীমিত পরিসরে ফোটানো হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
মানুষের আচরণগত পরিবর্তনে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে হর্ন না বাজানোর বার্তা প্রচারের আহ্বান জানান। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বধিরতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে—তবেই টেকসই পরিবর্তন সম্ভব হবে।
‘আর নয় শব্দ দূষণ, জয় হোক সুস্থ জীবন’—এই স্লোগান সামনে রেখে বর্ণিল মোটর শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপদেষ্টা। শোভাযাত্রাটি সকালে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও বিজয় স্মরণী ঘুরে আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে গিয়ে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে গত ৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টানা ১০ দিন ধরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে ‘গ্রীন ভয়েস’-এর তরুণ স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
























