মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
লক্ষ্মীপুরে সৃষ্ট বন্যায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্রমশ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।
জেলার পাঁচটি উপজেলায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বেশির ভাগ ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে আছে। পানিবন্দি হয়ে পরেছে জেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষ।
গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের পানি নামতে না পারায় বাড়ির উঠান, মাঠ-ঘাট, পুকুর, জলাশয়, ফসলি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।চরাঞ্চলে সব নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বর্তমানে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই রান্না বান্না করতে না পেরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। খাদ্য সংকট চরম আকার ধারন করেছে প্রশাসনের তরফ থেকে যে সাহায্য করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তা ছাড়া গ্রামের লোকজন খাদ্য সাহায্য পায়নি বললেই চলে। এ দিকে গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন বন্যা দুর্গতরা। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পোল্ট্রি খামারি ও মাছচাষিরা।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও জোয়ারে মেঘনা নদীসহ জেলার সব কটি খালের পানি বাড়ছে বলে জানিয়েছে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে প্রায ৫০ হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তলিয়ে গেছে আমন ধানের খেতসহ শত শত হেক্টর জমির শাকসবজি। প্রায় ৬ লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
রামগতি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, গত চার দিনে লক্ষ্মীপুরে ৩১২ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। নদীতে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত ছিল। এখন তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দু–এক দিনের মধ্যে আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ শনিবার সকালে কমলনগর,রামগতি,রায়পুর ও রামগঞ্জে সরেজমিনে গিয়েদেখা গেছে, ঘরবাড়ি এখনো ডুবে আছে। অনেক টিনের ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিশেষত চরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সংকট বেশি। অনেকে কোমরপানি ভেঙে, অনেকে নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় দূর থেকে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি সংগ্রহ করছেন। সবজি খেত- বীজতলাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন জানান- বন্যায় আমন ধানের বীজ তলা ১৪৮৬ হেক্টর, আমন ধান ধান ২৬১৮ হেক্টর, আউশ ধান ২৯৬৩ হেক্টর ও শরৎকালীন ৪৪৩ হেক্টরের সবজি আক্রান্ত হয়েছে। পানি আরও বেড়ে ২ দিন থাকলে এসব নষ্ট হয়ে যাবে। কৃষকদের জন্য বীজ সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান বলেন, মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এত পানি আগে কখনো দেখা যায়নি। এতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান বলেন- জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষদের নিয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন খালের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। খাল-নালা পরিষ্কারের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বন্যার্তদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোয় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার বিতরন করা হচ্ছে।

























