
মাকসুদুল হোসেন তুষার,
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে কাউসার নামে এক ইউপি সদস্য ডিআইজি’র ভাতিজা পরিচয়ে দৈনিক মানবকন্ঠের সংবাদিক রাশেদুল ইসলামকে পুলিশ নিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গুম করার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাশেদুল ইসলাম নিজের ও তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।
সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি দৈনিক মানবকন্ঠে পত্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সময় আওয়ামীলীগ নেতাদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি, মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। এ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছিল। গত ২৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে এসকল বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রশিদের ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে রাশেদুল ইসলামকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় তিনি গালাগালাজ করতে নিষেধ করলে কাউসার ক্ষিপ্ত হয়ে রাশেদুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজনকে পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গুম করবে বলে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। বর্তমানে রাশেদুল ইসলাম ও তার পরিবারের চরম আতঙ্কে দিন পার করছে।
ভোলাব এলাকার স্থানীয়রা জানান, ইউপি সদস্য কাউসারের বাবা আব্দুর রশিদ ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। সেই সুবাদে কাউসার আওয়ামীলীগের সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর খুব কাছের লোক ছিলেন। গোলাম দস্তগীরের সক্ষ্যতা কাজে লাগিয়ে কাউসার বনে যান ইউপি সদস্য। কাউসার ও তার বাবা আব্দুর রশিদ ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক গ্রামে ছিল আতঙ্কের নাম। তারা বাবা ছেলে মিলে অবৈধভাবে কৃষকের জমিতে বালু, অবৈধ ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ থেকে একাধিক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের চারিতালুক এলাকায় তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। গত ৫ ই আগষ্টের পর কাউসার মিয়া দল পাল্টে বনে যায় বিএনপি নেতা। বিএনপিতে যোগ দিয়ে ইউপি সদস্য কাউসার আবারো বেপরোয়া হয়ে যেতে থাকে।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জের কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কাউসার মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তবে আমি তাকে কোন হুমকি ধামকি বা গুম করার কথা বলিনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

























