
মো. ইমরান হোসেন,
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে স্বল্পতম সময়ে রেকর্ডসংখ্যক ৩,১২৫ জন নবীন সৈনিক ও ৮৬ জন উপজেলা আনসার প্রশিক্ষককে স্বল্পতম সময়ে গতিশীল ব্যবস্হাপনায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আবারও তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
সোমবার ( ১২ জানুয়ারি) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১তম মৌলিক প্রশিক্ষণ, নবনিযুক্ত থানা/উপজেলা আনসার–ভিডিপি প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকাগণ এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ২৬তম ও ২৭তম ব্যাচ (পুরুষ) রিক্রুট সিপাহীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষক সহায়তায় ব্যাপক এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতিও সশ্রদ্ধচিত্তে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সাহসিকতা, আত্মনিবেদন ও পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান—বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর সকল সদস্যকে AVMIS সফটওয়্যারের আওতায় আনা হয়েছে এবং তৃণমূল সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে আনসার ও ভিডিপি বাহিনী সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তিনি সকল সদস্যকে যেকোনো ধরনের অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ববহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেন।
দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আনসার ও ভিডিপি কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়; এটি জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী। সুতরাং সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বই হবে তাদের একমাত্র পরিচয়।
নবীন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সৈনিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে; তবে সততা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বকে ধারণ করলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই অগ্রযাত্রা রোধ করতে পারবে না। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, নবীন সদস্যরা মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সেবাধর্মী মনোভাব নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করবেন এবং জনকল্যাণ, জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবেন।
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই সমাপনী কুচকাওয়াজ শুধু একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপ্তি নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মানবিক ও নিরপেক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি বাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগই প্রমাণ করে—আনসার–ভিডিপি আজও নতুন বাংলাদেশের পথে একটি নির্ভরযোগ্য ও অবিচল শক্তি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
























