Dhaka , Wednesday, 1 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সাভার রেডিও কলোনীর মেসার্স সাহারা ফিলিং স্টেশনে অনিয়মের অভিযোগ পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন চবিতে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই শিক্ষক পেশাগত মানোন্নয়ন ও বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানে একসাথে কাজ করবে দুই প্রেস ক্লাব পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সবার অংশগ্রহণের আহ্বান মেয়রের। রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি ॥ ৪০ লক্ষাধিক টাকার মাল লুট রূপগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ঝালকাঠি গাবখান নদীতে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর কিশোর আলিফের মরদেহ উদ্ধার হঠাৎ করেই বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব পাবনায়  হাসপাতালে ভর্তি ২৭ রোগীর বেশিরভাগই শিশু পেঁপে গাছে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু কুড়িগ্রাম সীমান্তে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র হানা: ২৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়িসহ বস্ত্র উদ্ধার গণভোট বাতিল ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি’: ইবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিন্দা “বাবার হাত ধরেই চন্দনাইশ উপজেলার মুসতাকিমের আইন পেশায় সাফলতা অর্জন” অপরাধে জিরো টলারেন্স ; রুপগঞ্জ থানার আস্থার প্রতীক ওসি সবজেল হোসেন আলোকিত রমজান, রঙিন ঈদ-২০২৬: তিন জেলায় প্রায় এক শতাধিক পরিবারের পাশে এনবিএ ডেপুটি স্পিকারের সহকারী একান্ত সচিব হলেন মীর্জা সালমান আরশাদ নজরুল নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ পাইকগাছায় রেড ক্রিসেন্টের রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনে ইউএনও ফের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ডাক চবি কলেজের শিক্ষার্থীদের, ৩ দফা দাবিতে উপাচার্য কে স্মারকলিপি     রূপগঞ্জে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আমরা যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে না তারাই তবে কিভাবে মন্ত্রণালয়কে মুক্ত করবো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রাজাপুরে নানা অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন নোয়াখালীতে নিখোঁজের দুদিন পর ডোবায় ইটভাটা শ্রমিকের লাশ নোয়াখালীতে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার গোসল করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক বাপ্পী ফতুল্লায় বক্তাবলী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী স্বৈরাচারের দোসর ইউপি সদস্য ইমরানের হুমকি ও অপপ্রচার, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পরিষদের কার্যক্রম কালীগঞ্জে রেললাইনে প্রাণ গেল বৃদ্ধের: ট্রেনের নিচে পড়ে নিথর দেহ উদ্ধার

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন- কারাগারে ইবি শিক্ষক।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:12:31 pm, Thursday, 29 August 2024
  • 96 বার পড়া হয়েছে

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন- কারাগারে ইবি শিক্ষক।।

সাইফ ইব্রাহিম

ইবি প্রতিনিধি।।

   

   
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের -ইবি- ফিন্যান্স  এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার সরকারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ত্রী জয়া শাহার করা মামলার শুনানিতে তার জামিন না মঞ্জুর করে  নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী আলেক শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলেক শেখ বলেন- উনি -সঞ্জয় সরকার- আজকে জামিন চেয়েছিলেন। উনার নামে উনার স্ত্রী -জয়া সাহা- নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছিলেন। আজ সেই মামলায় জামিন নিতে আসলে তাকে জজ সাহেব জামিন না দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে সঞ্জয় কুমারের আইনজীবী শাহজাহান কবীর বলেন, আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আশা করি তিনি জামিন পাবেন। আমরা আগামী রবিবার আবারো জামিনের জন্য চেষ্টা করবো।

মামলার আসামী সঞ্জয় সরকার পাবনা জেলার চড়াডাঙ্গা উপজেলার সুশান্ত কুমার সরকারের ছেলে। অন্যদিকে তার স্ত্রী জয়া সাহা নাটোর জেলার উপরবাজার উপজেলার রতন কুমার সাহার বড় মেয়ে। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি এল.এল.এম শেষ বর্ষের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আট বছর পূর্বে ২০১৫ সালে ড. সঞ্জয় সরকারের সাথে জয়া সাহার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় জয়ার বাবা মেয়ের কল্যাণের কথা ভেবে উপহার হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ সহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় ফার্ণিচার প্রদান করে। আট বছরের সংসারকালে প্রায় সময় যৌতুকের জন্য সঞ্জয় তার স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করতেন। সর্বশেষ প্লাট কেনার জন্য সঞ্জয় তার স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ ১০ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য নির্যাতন করে। কিন্তু তার স্ত্রী এতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের জুন মাসে স্ত্রীকে জোরপূর্বক শ্বশুরবাড়ি রেখে আসে সঞ্জয়। তারপর থেকে উভয়ই একবছর আলাদা থাকছেন। তাদের সংসারে সাড়ে চার বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি শ্বশুর বাড়ির লোকজন সঞ্জয়কে সংসার করার অনুরোধ করলেও যৌতুকের টাকা না দিলে তাতে অসম্মতি জানান সঞ্জয়। এ ঘটনার পর গত মার্চে তার বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) এবং ৩০ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী জয়া শাহা। মামলায় সঞ্জয় ছাড়াও আরও তিন জনকে আসামী করা হয়েছে। তারা হলেন- সঞ্জয়ের বাবা সুশান্ত কুমার সরকার, মা উষা রানী সরকার ও ভাই দুর্জয় কুমার সরকার।

এর আগে গত ৪জুন এসব ঘটনার বিচারের দাবিতে ইবির প্রেস কর্ণারে সংবাদ সম্মেলন করেন বাদী জয়া শাহা। জয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন সঞ্জয়। সেন্ডেল, বেল্ট, ঝাঁটা, হাতা, খুন্তি, বেলনা থেকে শুরু করে হাতের কাছে যখন যা পেতেন তা দিয়েই শারীরিক নির্যাতন করতেন। অনেক সময় মারতে মারতে অসুস্থ হয়ে পড়লে গাড়ী ভাড়া করে তাকে বাপের বাড়িতে রেখে আসতো সঞ্জয়। এছাড়া তাকে বিভিন্ন সময় মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হতো। তাকে ছাড়াও তার সাড়ে চার বছরের সন্তানকেও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি।

এসব অভিযোগ ছাড়াও সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বিভাগের এক ছাত্রীকে মানসিক নিপীড়ন ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এতে ওই ছাত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। পরে ছাত্রীর বাবার অভিযোগে গঠিত তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললে সঞ্জয় ভুক্তভোগী ছাত্রীর কোনো কোর্সে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবে না বলে প্রশাসন সিন্ধান্ত প্রদান করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাভার রেডিও কলোনীর মেসার্স সাহারা ফিলিং স্টেশনে অনিয়মের অভিযোগ

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন- কারাগারে ইবি শিক্ষক।।

আপডেট সময় : 12:12:31 pm, Thursday, 29 August 2024

সাইফ ইব্রাহিম

ইবি প্রতিনিধি।।

   

   
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের -ইবি- ফিন্যান্স  এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার সরকারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ত্রী জয়া শাহার করা মামলার শুনানিতে তার জামিন না মঞ্জুর করে  নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী আলেক শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলেক শেখ বলেন- উনি -সঞ্জয় সরকার- আজকে জামিন চেয়েছিলেন। উনার নামে উনার স্ত্রী -জয়া সাহা- নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছিলেন। আজ সেই মামলায় জামিন নিতে আসলে তাকে জজ সাহেব জামিন না দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে সঞ্জয় কুমারের আইনজীবী শাহজাহান কবীর বলেন, আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আশা করি তিনি জামিন পাবেন। আমরা আগামী রবিবার আবারো জামিনের জন্য চেষ্টা করবো।

মামলার আসামী সঞ্জয় সরকার পাবনা জেলার চড়াডাঙ্গা উপজেলার সুশান্ত কুমার সরকারের ছেলে। অন্যদিকে তার স্ত্রী জয়া সাহা নাটোর জেলার উপরবাজার উপজেলার রতন কুমার সাহার বড় মেয়ে। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি এল.এল.এম শেষ বর্ষের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আট বছর পূর্বে ২০১৫ সালে ড. সঞ্জয় সরকারের সাথে জয়া সাহার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় জয়ার বাবা মেয়ের কল্যাণের কথা ভেবে উপহার হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ সহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় ফার্ণিচার প্রদান করে। আট বছরের সংসারকালে প্রায় সময় যৌতুকের জন্য সঞ্জয় তার স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করতেন। সর্বশেষ প্লাট কেনার জন্য সঞ্জয় তার স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ ১০ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য নির্যাতন করে। কিন্তু তার স্ত্রী এতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের জুন মাসে স্ত্রীকে জোরপূর্বক শ্বশুরবাড়ি রেখে আসে সঞ্জয়। তারপর থেকে উভয়ই একবছর আলাদা থাকছেন। তাদের সংসারে সাড়ে চার বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি শ্বশুর বাড়ির লোকজন সঞ্জয়কে সংসার করার অনুরোধ করলেও যৌতুকের টাকা না দিলে তাতে অসম্মতি জানান সঞ্জয়। এ ঘটনার পর গত মার্চে তার বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) এবং ৩০ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী জয়া শাহা। মামলায় সঞ্জয় ছাড়াও আরও তিন জনকে আসামী করা হয়েছে। তারা হলেন- সঞ্জয়ের বাবা সুশান্ত কুমার সরকার, মা উষা রানী সরকার ও ভাই দুর্জয় কুমার সরকার।

এর আগে গত ৪জুন এসব ঘটনার বিচারের দাবিতে ইবির প্রেস কর্ণারে সংবাদ সম্মেলন করেন বাদী জয়া শাহা। জয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন সঞ্জয়। সেন্ডেল, বেল্ট, ঝাঁটা, হাতা, খুন্তি, বেলনা থেকে শুরু করে হাতের কাছে যখন যা পেতেন তা দিয়েই শারীরিক নির্যাতন করতেন। অনেক সময় মারতে মারতে অসুস্থ হয়ে পড়লে গাড়ী ভাড়া করে তাকে বাপের বাড়িতে রেখে আসতো সঞ্জয়। এছাড়া তাকে বিভিন্ন সময় মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হতো। তাকে ছাড়াও তার সাড়ে চার বছরের সন্তানকেও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি।

এসব অভিযোগ ছাড়াও সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বিভাগের এক ছাত্রীকে মানসিক নিপীড়ন ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এতে ওই ছাত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। পরে ছাত্রীর বাবার অভিযোগে গঠিত তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললে সঞ্জয় ভুক্তভোগী ছাত্রীর কোনো কোর্সে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবে না বলে প্রশাসন সিন্ধান্ত প্রদান করেন।