
আন্তর্জাতিক ।।
৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রে নবনিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত সিয়ে ফেংকে সংবর্ধনা জানিয়েছে চীন-মার্কিন ব্যবসায়ী পরিষদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত সিয়ে ফেং।
সিয়ে ফেং বলেন, চীনের প্রধান নীতি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও পরিষ্কার এবং সুনিশ্চিত একটি পথে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) বিংশতম জাতীয় কংগ্রেসে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি এবং দুই অধিবেশনে তা বাস্তবায়নের উপায় ঠিক করা হয়।
তিনি বলেন, চীনের কেন্দ্রীয় কর্তব্য হল চীনা বৈশিষ্ট্যের আধুনিকায়নের মাধ্যমে চীনা জাতির মহান পুনরুদ্ধার এগিয়ে নেয়া। কমরেড সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে সিপিসির নতুন নেতৃত্ব চীনের সকল জাতির মানুষদের নিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রচেষ্টা চালাবে। চীন নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চায় এবং মানুষের সুন্দর জীবনযাপনের চাহিদা পূরণ করবে। চীনা জাতি আগ্রাসন এবং আধিপত্য পছন্দ করে না। অন্য দেশকে চ্যালেঞ্জ বা তার বদলে বিশ্বকে শাসন করতে চায় না চীন।
সিয়ে ফেং আরও বলেন, চীনের অর্থনীতি শক্তিশালীভাবে পুনরুদ্ধার হচ্ছে এবং তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের জিডিপি ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ বেড়েছে এবং পণ্য বাণিজ্যের রপ্তানি ও আমদানি ৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, গত লেবার দিবসের ছুটিতে চীনে মোট ২৭ কোটি মানুষ ভ্রমণ করেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের লোকসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশের সমান। চীনের আছে বিশাল বাজার, সম্পূর্ণ শিল্প ব্যবস্থা, উচ্চ মানের মানব সম্পদ এবং ভাল ব্যবসায়িক পরিবেশ। এয়ারবাস চীনের থিয়ান চিন শহরে দ্বিতীয় সমাবেশ কারখানা প্রতিষ্ঠা করবে। টেসলা শাংহাই শহরে নতুন শক্তি স্টোরেজ সুপার কারখানা খুলবে। তারা চীনা অর্থনীতির উপর আস্থা রাখছে।
তিনি বলেন, চীন উন্মুক্তকরণে অবিচল রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম পণ্য বাণিজ্য ও বিদেশী পুঁজির সবচেয়ে বেশি প্রবাহের দেশ এবং নির্মাণ শিল্পের কেন্দ্র হচ্ছে চীন। বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রধান রপ্তানি বাজার হল চীন এবং চীন বিশ্বের ১৪০টি দেশ ও অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
তিনি বলেন, চীনের দরজা কখনও বন্ধ হবে না। চীনের ১৪০কোটি মানুষ আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ১৫ বছরে চীনের মাঝারি আয়ের মানুষের সংখ্যা হবে ৮০ কোটি, তা মানব ইতিহাসে একটি অলৌকিক ঘটনা এবং বিশ্বের জন্য অভূতপূর্ব সুযোগ বয়ে আনবে।
সিয়ে ফেং বলেন, চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে চলবে এবং চীনের ভূমিকা অপরিবর্তনীয়। চীন স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক নীতিতে অবিচল রয়েছে এবং মানব জাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং রাশিয়া সফর এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। ‘রাজনৈতিক পদ্ধতিতে ইউক্রেন সংকট সমাধানে চীনের অবস্থান’ শীর্ষক দলিল প্রকাশ করেছে চীন। চীন সরকারের ইউরেশিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত ইউক্রেনসহ ৫টি দেশ সফর করেছেন। চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছে। প্রথম চীন-মধ্য এশিয়া শীর্ষসম্মেলন সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে।
চীনের বিশ্ব উন্নয়ন প্রস্তাব, বিশ্ব নিরাপত্তা প্রস্তাব, ও বিশ্ব সভ্যতা প্রস্তাব ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং মানব জাতির শান্তি ও উন্নয়নে চীনা বুদ্ধি ও পরিকল্পনা প্রদান করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।