Dhaka , Friday, 18 October 2024
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পিরোজপুরে মা ইলিশ সংরক্ষন অভিযানে প্রসাশনের যৌথ মহড়া।। দুর্গাপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র ইদ্রিস আলীর পাশে বিএনপি নেতা মঞ্জু।। রূপগঞ্জে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোরগ্যাংয়ের চার সদস্য গ্রেফতার।। ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতার চাঁদা নেওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন।। বিল্ডিং কোড না মেনে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন নোয়াখালীতে বন্দোবস্তের পাঁচগুণ জায়গা অবৈধভাবে দখল।। লক্ষ্মীপুরে ফাতেমা হত্যার ঘটনায় স্বামী রাজু’র ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন।। রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়িতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন।। রূপগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সকল সম্প্রদায়ের লোকজন নিরাপদে ছিলেন- মীর হেলাল।। জলঢাকায় অধ্যক্ষের কক্ষের তালা ভেঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরি।। রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়িতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন।। চবি উপাচার্যের সাথে ঢাবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ।। রূপগঞ্জে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক।। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সকল সম্প্রদায়ের লোকজন নিরাপদে ছিলেন- মীর হেলাল।। পীরগাছায় অটোরিক্সার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত।। ঝালকাঠিতে ১৩০পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক।। দুর্গাপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ইদ্রিস আলীর পাশে লেঙ্গুরা ট্যুরিজম।। দুর্গাপুরে শহীদ উমর ফারুক ব্লাড ডোনার সোসাইটির আলোচনা সভা।। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার।। অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধুরীর বিদায় বাংলাদেশ হারালো এক সাহসী নেতৃত্ব।। ছাত্র আন্দোলনে নিহত লক্ষ্মীপুরের আফনান এইচএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ ৪.১৭।। আমুর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক।। মোংলায় রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মবার্ষিকী পালিত।। রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার।। আমুর ঘনিষ্ঠ মোস্তাকের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে দখলকৃত নদী উন্মুক্ত ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন।। রাজাপুরে কালবেলা’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।। ঠাকুরগাঁওয়ে বুড়ির বাঁধ এলাকায় শুরু হয়েছে মাছ ধরা উৎসব।। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রম বহাল রাখার দাবিতে আটঘরিয়ায় মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান।। লক্ষ্মীপুরে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রী নিহত।। চবির ডাইনিং পর্যবেক্ষণ করলেন কর্তৃপক্ষ।।

নোয়াখালীতে এখনো পানিবন্দি ১২লাখ মানুষ গলার কাঁটা খাল দখল-বাঁধ।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:26:48 am, Tuesday, 15 October 2024
  • 6 বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীতে এখনো পানিবন্দি ১২লাখ মানুষ গলার কাঁটা খাল দখল-বাঁধ।।

নোয়াখালী প্রতিনিধি।।

  

   
নোয়াখালীর বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা গত ৫০-৬০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। সরকারি হিসেব বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নোয়াখালীতে। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪হাজার ১৯১কোটি টাকা।  বন্যা পরবর্তীতে দীর্ঘ হয়েছে জেলার জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি।  আর এর জন্য খাল দখল- খালের ওপর বহুতল ভবন- অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র কালভার্ট- বাঁধ নির্মাণকে দাবি করে দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরজমিনে জলাবদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক থেকে পানি নেমে গেলেও এখনও পানি রয়েছে প্রতিটি বাড়ির উঠোনে। কোথাও হাঁটু পরিমাণ- কোথাও এর চেয়ে বেশি পানি রয়েছে।

জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ফেনী থেকে নেমে আসা  পানি উজানের প্রবেশ করায় নোয়াখালীর আটটি উপজেলা প্লাবিত হয়। এরই মধ্যে টানা ভারি বৃষ্টিতে প্রতিটি বাড়ির উঠোন ও সড়ক ৮-৯ ফুট পানির নিচে প্লাবিত হয়। নিজেরদের বসত ঘর ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বহুতল ভবনের বাসা ও পাশ্ববর্তী আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেন বন্যা কবলিত মানুষজন। এখনও অনেকে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে রয়েছেন। বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছিলো জেলার সদর- কবিরহাট- সুবর্ণচর- কোম্পানীগঞ্জ- সেনবাগ- বেগমগঞ্জ- সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলা। কিন্তু বন্যার দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পানি বন্দি হয়ে আছে চৌমুহনী পৌরসভার বেশির ভাগ ওয়ার্ড। বিভিন্ন সড়ক থেকে পানি নেমে গেলেও এখনও বেশির ভাগ বাড়ির উঠোনো হাঁটু পরিমান পানি রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ জানান, প্রায় ২মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যান। কয়েকদিন আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে যাওয়ার কারনে আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে তাদের চলে আসতে হয়। এরপর থেকে চৌমুহনী বাজারের ছোট একটি বাসায় তারা ভাড়া নিয়েছেন। এখনও পরিবারের সবাই ওই বাসায় আছে। কবে নাগাদ পানি নামবে- আর কবে বাড়ি আসতে পারবেন তা নিশ্চিত নয় তিনি।
 
স্থানীয়রা বলছেন- শুধু চৌমুহনী পৌরসভা নয় একই চিত্র জেলার সদর উপজেলার নেয়াজপুর- চরমটুয়া- কাদির হানিফ ইউনিয়ন, কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর- সুন্দলপুর ইউনিয়ন- সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া- কেশারপাড়- ডমুরুয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামের। এছাড়াও বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার সবকয়টি ইউনিয়নে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। আর এই জলাবদ্ধতা দীর্ঘ হওয়ায় বেড়েছে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ।

ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি বলেন- গত ১৬ বছর প্রভাবশালী মহল তাদের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে জেলার অধিকাংশ বড় খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। দোকান ঘর করে ভাড়া দিয়েছে অনেক স্থানে। সংযোগ খালগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। পরিকল্পিত ভাবে এ খালগুলোর মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে কালভার্ট- বাড়ির দরজার করা জন্য দেওয়া হয়েছে বাঁধ। খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় বন্ধ হয়েছে পানির গতিপথ। যার ফলে দীর্ঘ দুই মাসেও বন্যা কবলিত এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে যেতে পারছে না। এছাড়াও সবগুলো খালে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে ভেসালজাল। যার কারনে বেশি গতিতে নামতে পারছেনা পানি।  

স্থানীয়রা বলছেন-নোয়াখালীর ভাটি এলাকা লক্ষীপুর জেলা। নোয়াখালীর পানি লক্ষীপুর হয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে।  তাই-নোয়াখালীর জলাবদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে লক্ষীপুর জেলার খালের উপর সকল বাঁধ- অবৈধ স্থাপনা- ভেসাল জালসহ পানি নামার জন্য প্রতিবন্ধকতাগুলো সরানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নোয়াখালী ও লক্ষীপুর প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করা দরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়-নোয়াখালী খালের সদর উপজেলার বিভিন্ন অংশ- শহরের ওপর ছাগলমারা খাল, চাটখিলের খিলপাড়া- রামনারায়ণপুর- বদলকোট- নোয়খলা, সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া-কেশারপাড়- সোনাইমুড়ী উপজেলার বগাদিয়া উত্তর পোল থেকে কালিকাপুর পর্যন্ত- কলেজ গেইট থেকে নান্দিয়া পাড়া পর্যন্ত, বজরা থেকে চাঁদুপুর পর্যন্ত খাল দখল হয়ে আছে। বেগমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্থাপনা রয়েছে। চৌমুহনী বাজারে খালের সিংহভাগ অংশ ব্যবসায়িরা ময়লা আর্বজনা ফেলে ভরাট করেছে। এছাড়া কবিরহাট উপজেলার রিকশা ওয়ালার দোকান এলাকায় খালের মাঝখানে দেওয়া হয়েছে একাধিক বাঁধ। দখল করা হয়েছে ওয়াপদা খালের বেশির ভাগ অংশ। আর এ খাল দখল ও বাঁধই হয়েছে জেলার মানুষের গলারকাটা।  

চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী সোহান বলেন- বাজারের প্রধান সড়ক ছাড়া বাকি সবকয়টি এলাকা অনেক নিচু। বন্যার পর কয়েক বার পানি নেমেছিলো- আবার বৃষ্টিতে পানি জমতে থাকে। একদিন বৃষ্টি হলে ৩-৪দিন পানি জমে থাকে। চৌমুহনী বাজারের বড় খালগুলোতে ময়লা ফেলে ভরাট করা হয়েছে। আশপাশের সবগুলো ছোট খাল দখল করে বাড়ি-ঘর- দোকান-পাট ও বাড়ির সামনে বাঁধ দিয়ে সড়ক তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে প্রতিটি জায়গায় পানি আটকে আছে। এ বাঁধগুলো না থাকলে হইতো পানি সরসরি বড় খালে চলো আসতো। বড় খাল সংস্কার করার পাশাপাশি ছোট খালগুলোর দখলকৃত স্থান গুলো উদ্ধার করা না হলে এ পানি সহজে নামবে না।

জেলা শহর মাইজদীর আরিফুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, শহরে জলাবদ্ধতার কারণ অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। তাঁর মতে শহরে যেভাবে ড্রেন করার কথা ছিলো সেটি সেভাবে না করে ড্রেনের জায়গায় কোনভাবে নালা করা হয়েছে। ফলে এ টুকু জায়গা দিয়ে পানি নামছে না, তারোপর ড্রেনে ময়লা ফেলে পানির গতিপথ বন্ধ করা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই শহরে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। আজ প্রায় ৩মাসের বেশি সময় ধরে শহরে জলাবদ্ধতা লেগেই আছে। কবে এটি থেকে মানুষ মুক্তি পাবে এটি কারও জানা নেই।  

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের রাজস্ব বিভাগের কাগজে-কলমে অনেক খালের হিসাব থাকলেও বাস্তবে তা নেই। কয়েক বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাবশালীরা খালগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছেন, নিজেরাও দখলে নিয়েছেন অনেকাংশ। অথচ; একসময় জেলার বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনী থেকে এসব খাল হয়ে পণ্যবাহী নৌকা জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং পাশের লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চাঁদপুরে যেতো। বর্তমানে নৌকাতো দূরের কথা এসব খাল দিয়ে পানি নামতে পারছে না।

জেলা প্রশাসকের সবশেষ তথ্যমতে (গত বুধবারের আপডেট), জেলায় বন্যা এখনও পানি বন্দি ১১লাখ ৯৫হাজার মানুষ। খোলা রয়েছে ২৮টি আশ্রয় কেন্দ্র, যেখানে এখনও রয়েছেন প্রায় ৭শতাধিক মানুষ।

জেলা প্রশাসক খন্দতার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, বন্যা পরবর্তী সময় বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক স্থান থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় খালের ওপর থাকা কিছু স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পানি প্রবাহ সচল করতে খাল পরিষ্কারের কাজও করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খাল দখল করে যেসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে সেগুলো ভেঙে দেওয়া’সহ খাল পুনঃসংস্কারের ব্যবস্থা পরিকল্পনায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত চার সড়কের উদ্বোধন।।

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্লাবিত,২ শত পরিবার পানিবন্দী।।

পিরোজপুরে মা ইলিশ সংরক্ষন অভিযানে প্রসাশনের যৌথ মহড়া।।

নোয়াখালীতে এখনো পানিবন্দি ১২লাখ মানুষ গলার কাঁটা খাল দখল-বাঁধ।।

আপডেট সময় : 05:26:48 am, Tuesday, 15 October 2024

নোয়াখালী প্রতিনিধি।।

  

   
নোয়াখালীর বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা গত ৫০-৬০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। সরকারি হিসেব বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নোয়াখালীতে। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪হাজার ১৯১কোটি টাকা।  বন্যা পরবর্তীতে দীর্ঘ হয়েছে জেলার জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি।  আর এর জন্য খাল দখল- খালের ওপর বহুতল ভবন- অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র কালভার্ট- বাঁধ নির্মাণকে দাবি করে দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরজমিনে জলাবদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক থেকে পানি নেমে গেলেও এখনও পানি রয়েছে প্রতিটি বাড়ির উঠোনে। কোথাও হাঁটু পরিমাণ- কোথাও এর চেয়ে বেশি পানি রয়েছে।

জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ফেনী থেকে নেমে আসা  পানি উজানের প্রবেশ করায় নোয়াখালীর আটটি উপজেলা প্লাবিত হয়। এরই মধ্যে টানা ভারি বৃষ্টিতে প্রতিটি বাড়ির উঠোন ও সড়ক ৮-৯ ফুট পানির নিচে প্লাবিত হয়। নিজেরদের বসত ঘর ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বহুতল ভবনের বাসা ও পাশ্ববর্তী আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেন বন্যা কবলিত মানুষজন। এখনও অনেকে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে রয়েছেন। বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছিলো জেলার সদর- কবিরহাট- সুবর্ণচর- কোম্পানীগঞ্জ- সেনবাগ- বেগমগঞ্জ- সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলা। কিন্তু বন্যার দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পানি বন্দি হয়ে আছে চৌমুহনী পৌরসভার বেশির ভাগ ওয়ার্ড। বিভিন্ন সড়ক থেকে পানি নেমে গেলেও এখনও বেশির ভাগ বাড়ির উঠোনো হাঁটু পরিমান পানি রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ জানান, প্রায় ২মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যান। কয়েকদিন আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে যাওয়ার কারনে আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে তাদের চলে আসতে হয়। এরপর থেকে চৌমুহনী বাজারের ছোট একটি বাসায় তারা ভাড়া নিয়েছেন। এখনও পরিবারের সবাই ওই বাসায় আছে। কবে নাগাদ পানি নামবে- আর কবে বাড়ি আসতে পারবেন তা নিশ্চিত নয় তিনি।
 
স্থানীয়রা বলছেন- শুধু চৌমুহনী পৌরসভা নয় একই চিত্র জেলার সদর উপজেলার নেয়াজপুর- চরমটুয়া- কাদির হানিফ ইউনিয়ন, কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর- সুন্দলপুর ইউনিয়ন- সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া- কেশারপাড়- ডমুরুয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামের। এছাড়াও বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার সবকয়টি ইউনিয়নে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। আর এই জলাবদ্ধতা দীর্ঘ হওয়ায় বেড়েছে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ।

ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি বলেন- গত ১৬ বছর প্রভাবশালী মহল তাদের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে জেলার অধিকাংশ বড় খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। দোকান ঘর করে ভাড়া দিয়েছে অনেক স্থানে। সংযোগ খালগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। পরিকল্পিত ভাবে এ খালগুলোর মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে কালভার্ট- বাড়ির দরজার করা জন্য দেওয়া হয়েছে বাঁধ। খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় বন্ধ হয়েছে পানির গতিপথ। যার ফলে দীর্ঘ দুই মাসেও বন্যা কবলিত এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে যেতে পারছে না। এছাড়াও সবগুলো খালে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে ভেসালজাল। যার কারনে বেশি গতিতে নামতে পারছেনা পানি।  

স্থানীয়রা বলছেন-নোয়াখালীর ভাটি এলাকা লক্ষীপুর জেলা। নোয়াখালীর পানি লক্ষীপুর হয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে।  তাই-নোয়াখালীর জলাবদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে লক্ষীপুর জেলার খালের উপর সকল বাঁধ- অবৈধ স্থাপনা- ভেসাল জালসহ পানি নামার জন্য প্রতিবন্ধকতাগুলো সরানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নোয়াখালী ও লক্ষীপুর প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করা দরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়-নোয়াখালী খালের সদর উপজেলার বিভিন্ন অংশ- শহরের ওপর ছাগলমারা খাল, চাটখিলের খিলপাড়া- রামনারায়ণপুর- বদলকোট- নোয়খলা, সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া-কেশারপাড়- সোনাইমুড়ী উপজেলার বগাদিয়া উত্তর পোল থেকে কালিকাপুর পর্যন্ত- কলেজ গেইট থেকে নান্দিয়া পাড়া পর্যন্ত, বজরা থেকে চাঁদুপুর পর্যন্ত খাল দখল হয়ে আছে। বেগমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্থাপনা রয়েছে। চৌমুহনী বাজারে খালের সিংহভাগ অংশ ব্যবসায়িরা ময়লা আর্বজনা ফেলে ভরাট করেছে। এছাড়া কবিরহাট উপজেলার রিকশা ওয়ালার দোকান এলাকায় খালের মাঝখানে দেওয়া হয়েছে একাধিক বাঁধ। দখল করা হয়েছে ওয়াপদা খালের বেশির ভাগ অংশ। আর এ খাল দখল ও বাঁধই হয়েছে জেলার মানুষের গলারকাটা।  

চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী সোহান বলেন- বাজারের প্রধান সড়ক ছাড়া বাকি সবকয়টি এলাকা অনেক নিচু। বন্যার পর কয়েক বার পানি নেমেছিলো- আবার বৃষ্টিতে পানি জমতে থাকে। একদিন বৃষ্টি হলে ৩-৪দিন পানি জমে থাকে। চৌমুহনী বাজারের বড় খালগুলোতে ময়লা ফেলে ভরাট করা হয়েছে। আশপাশের সবগুলো ছোট খাল দখল করে বাড়ি-ঘর- দোকান-পাট ও বাড়ির সামনে বাঁধ দিয়ে সড়ক তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে প্রতিটি জায়গায় পানি আটকে আছে। এ বাঁধগুলো না থাকলে হইতো পানি সরসরি বড় খালে চলো আসতো। বড় খাল সংস্কার করার পাশাপাশি ছোট খালগুলোর দখলকৃত স্থান গুলো উদ্ধার করা না হলে এ পানি সহজে নামবে না।

জেলা শহর মাইজদীর আরিফুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, শহরে জলাবদ্ধতার কারণ অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। তাঁর মতে শহরে যেভাবে ড্রেন করার কথা ছিলো সেটি সেভাবে না করে ড্রেনের জায়গায় কোনভাবে নালা করা হয়েছে। ফলে এ টুকু জায়গা দিয়ে পানি নামছে না, তারোপর ড্রেনে ময়লা ফেলে পানির গতিপথ বন্ধ করা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই শহরে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। আজ প্রায় ৩মাসের বেশি সময় ধরে শহরে জলাবদ্ধতা লেগেই আছে। কবে এটি থেকে মানুষ মুক্তি পাবে এটি কারও জানা নেই।  

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের রাজস্ব বিভাগের কাগজে-কলমে অনেক খালের হিসাব থাকলেও বাস্তবে তা নেই। কয়েক বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাবশালীরা খালগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছেন, নিজেরাও দখলে নিয়েছেন অনেকাংশ। অথচ; একসময় জেলার বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনী থেকে এসব খাল হয়ে পণ্যবাহী নৌকা জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং পাশের লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চাঁদপুরে যেতো। বর্তমানে নৌকাতো দূরের কথা এসব খাল দিয়ে পানি নামতে পারছে না।

জেলা প্রশাসকের সবশেষ তথ্যমতে (গত বুধবারের আপডেট), জেলায় বন্যা এখনও পানি বন্দি ১১লাখ ৯৫হাজার মানুষ। খোলা রয়েছে ২৮টি আশ্রয় কেন্দ্র, যেখানে এখনও রয়েছেন প্রায় ৭শতাধিক মানুষ।

জেলা প্রশাসক খন্দতার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, বন্যা পরবর্তী সময় বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক স্থান থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় খালের ওপর থাকা কিছু স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পানি প্রবাহ সচল করতে খাল পরিষ্কারের কাজও করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খাল দখল করে যেসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে সেগুলো ভেঙে দেওয়া’সহ খাল পুনঃসংস্কারের ব্যবস্থা পরিকল্পনায় রয়েছে।