
নয়ন হোসেন, হরিপুর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্থাপিত বৈদ্যুতিক খুঁটি নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কয়েকটি পরিবার। উপজেলার গ্রাহকরা এলাকায় কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাইন বসানো হয়েছে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি, ভীতি ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকএলাকার মৃত কবিরুল ইসলামের নিজ জমিতে একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে।
বর্তমানে তার ছেলে শামীম হোসেন পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। জমির মাঝখানে ও বাড়ির আশপাশে খুঁটি থাকায় স্বাভাবিকভাবে জমি ব্যবহার করা যাচ্ছে না, একই সঙ্গে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শামীম হোসেন বলেন,
“আমাদের নিজ জমির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন দেওয়া হয়েছে, অন্য মালিকের জমির ভেতর লাইন দেওয়া হয়েছে। এতে জমি চাষাবাদ করা যাচ্ছে না, বাড়ির আশেপাশে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি হলে আরও ভয় লাগে। আমরা বারবার জানালেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান পাইনি।”
তিনি আরও জানান, শুধু তাদের পরিবার নয়, আশপাশের আরও দুই-তিনটি পরিবারের জমিতেও একইভাবে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। তারাও এ নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের কাছে খুঁটি অপসারণের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হরিপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার বলেন,
“পল্লী বিদ্যুৎ সরকারের আওতাধীন একটি সেবা প্রতিষ্ঠান। কারও জমিতে খুঁটি থাকলে এবং তা জনদুর্ভোগের কারণ হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজেদের জমির ন্যায্য ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ অথবা বিকল্প নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হোক। এতে একদিকে যেমন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সরকারের উন্নয়নমূলক সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত মানবিক ও স্থায়ী সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছেন।

























