
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ‘নতুন চা-বাগান’-এ চা-শ্রমিকদের নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর, উপহার সামগ্রী প্রদান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার ( ১০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, চা-শ্রমিকরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি।
বক্তব্যে জেলা প্রশাসক চা-শ্রমিকদের ‘চা-বাগানের প্রাণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উৎস খুব বেশি নয়। প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি চা রপ্তানির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যেখানে চা-শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “এই কারণেই সরকার আপনাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সেই বিবেচনা থেকেই চা-শ্রমিকদের জন্য ঘরের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে ৮টি নবনির্মিত ঘরের চাবি শ্রমিক পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিক পরিবারের মধ্যে উপহার সামগ্রী দেওয়া হয় এবং ৩০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ১০০ জন চা-শ্রমিকের মধ্যে পোশাক বিতরণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা একটি নতুন, নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, তবে এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, “আপনাদের পূর্বপুরুষরা যেমন এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তেমনি আপনারাও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দক্ষ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য এখনও অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে। এ কারণেই সরকার আপনাদের জন্য ঘর প্রদান করেছে।”
চা-শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আপনারা নিজেদের উন্নয়নে মনোযোগ দেবেন, সুস্থ থাকবেন এবং আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন।”
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণ। তাই প্রতিটি মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো জরুরি। “আমরা চাই না, দেশের কোনো মানুষ অসুস্থ বা অক্ষম হয়ে পড়ে থাকুক। আমাদের মানবসম্পদকে আরও শক্তিশালী করতে হবে,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, সরকার চা-শ্রমিকদের সুস্থ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচি ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। এছাড়া নতুন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে, যা জীবনমান উন্নয়ন ও সন্তানের শিক্ষায় ব্যয় করা যাবে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই দেশের সন্তানরা সুস্থ, শিক্ষিত ও যোগ্য হয়ে উঠুক। তাদের যেন কোনো ধরনের রোগ-ব্যাধি বা শিক্ষার ঘাটতি না থাকে—এই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।”
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি একটি কৃষ্ণচূড়া ও একটি রাধাচূড়া গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া চা-শ্রমিকদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, “বিশ্বে যখনই কোনো বড় সংকট দেখা দেয়, তখন বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।” তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রতিষ্ঠান যত উন্নত হবে, চা রপ্তানি যত বাড়বে, দেশের উন্নয়ন তত ত্বরান্বিত হবে। আর দেশের উন্নয়ন হলে সরকারও আপনাদের জন্য আরও উন্নত ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবে।”
চা-শ্রমিকদের যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজন সরাসরি জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন আর কেউ কারো থেকে দূরে নয়। আপনারা সহজেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দীন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজিব আচার্য্য এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

























