Dhaka , Friday, 27 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জয়নুল আবদীন ফারুকের স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন: সেনবাগে শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত পরিবেশ দোকানে ঢুকল তেলবাহী লরি:নোয়াখালীতে বাবার মৃত্যুর ছয়দিন পর ছেলের মৃত্যু হরিপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান: মালিকবিহীন ৩৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার মোংলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত শরীয়তপুরে সেরা ওসি নির্বাচিত জাজিরা থানার মো. সালেহ্ আহাম্মদ হিলি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ৭ ঘণ্টা পর বিজিবির হাতে আটক যুবককে ফেরত দিল বিএসএফ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল মুক্ত করে ফুটপাত উচ্ছেদের পর ফের দখল চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম’র বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযান; বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস ও মাদক জব্দ কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৮ ডাকাত আটক ৪ জেলে উদ্ধার পাঁচবিবির ১নং রেলগেট সড়ক সংস্কার: দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে স্বস্তি ফিরেছে শরীয়তপুরে দেবরের আত্মহত্যার ২৪ ঘন্টা পর ভাবীর আত্মহত্যা পাইকগাছায় শিবসা ব্রিজ যেন মরণফাঁদ; প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পথচারী পাইকগাছায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে প্রশাসন মধুপুরে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মধুপুরে গাছ নিধনের পর বনে আগুন ॥ ৭৫ একর ভূমি জবরদখলের পায়তারা ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে রাজনগরে যুবক খুন ছুরিকাঘাতে নিহত, অভিযুক্ত একই গ্রামের তরুণ ফতুল্লায় মোতালেব মনোয়ারা কম্পোজিটে শ্রমিক অসন্তোষ, ৪ মার্চ বকেয়া পরিশোধের চুক্তি চরভদ্রাসনে আইন- শৃঙ্খলা উন্নয়নে উঠান বৈঠক: “মাদকের ছয়লাভ- লাইসেন্সবিহীন দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল: অভিযোগ এলাকাবাসীর। লক্ষ্মীপুরে ভাবির মৃত্যুর খবর শুনে দেবরের মৃত্যু শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিতে হবে: শ্রমমন্ত্রী ভুট্টা ক্ষেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার: এলাকায় শোকের ছায়া লালমনিরহাটে অটোরিকশা চালকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি: ডিবি পুলিশের জালে দুই অপরাধী দেশের ক্রীড়াঙ্গণের সামগ্রিক উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক। খালের দখল-দূষণ প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী জুনিয়র বৃত্তি ও সমমানের বৃত্তি ও এবতেদায়ি ৫ম বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফল প্রকাশঃ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের একীভূত অন্তর্ভুক্তির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের সাথে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সভা/ ধর্ম সংক্রান্ত সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি-ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের নির্দেশনা ডিএসসিসি প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিএনসিসি প্রশাসক

কক্সবাজার জেলায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:29:17 am, Tuesday, 8 August 2023
  • 246 বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার জেলায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী।।

তৌহিদ বেলাল।।

 

কক্সবাজার জেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি, জোয়ারের পানি ও প্রবল পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার সদর উপজেলা, ঈদগাঁও, চকরিয়া, পেকুয়া, রামু ও মহেশখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল ব্যাপক প্লাবিত হয়েছে। এতে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ফলে এলাকাসমুহের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে, অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান, সোমবার রাত ৯ টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার প্রধান নদী বাঁকখালি, মাতামুহুরি ও ঈদগাঁওর ফুলেশ্বরীসহ ছোট বড় প্রায় সব নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। গত ৩ দিনের অবিরাম বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরি, বাকঁখালি ও ফুলেশ্বরী নদীর পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট এ বন্যায় পাঁচ লক্ষাধিক লোকের ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এর ফলে এলাকাসমুহের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে ও ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে এপর্যন্ত দুই শিশুসহ ৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদের মধ্যে চকরিয়া উপজেলার বরইতলি এলাকায় দেয়াল চাপা পড়ে তিনজন, মাতামুহুরি নদীতে ডুবে এক যুবক রয়েছে।

অন্যদিকে সোমবার বিকেলে উখিয়া উপজেলার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মা-মেয়ে মারা গেছেন। এরা হলেন, ওই ক্যাম্পের আনোয়ারের স্ত্রী জান্নাত আরা ও তাদের দুই বছরের মেয়ে মাহিমা আক্তার।

সোমবার সন্ধ্যায় মাতামুহুরী নদীর পানি চিরিংগা পয়েন্টে বিপদসীমার প্রায় ৪ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

অপরদিকে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে মাতামুহুরী নদীর লক্ষ্যারচর হাজিপাড়া পয়েন্টে লাকড়ি ধরতে নদীতে ঝাঁপ দেয় শাহ আলম। এসময় লাকড়ি ধরে কূলে ফেরার সময় পানির তীব্র স্রোতে তিনি তলিয়ে যান। শাহ আলম ওই এলাকার জাকের হোসাইনের পুত্র। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন।

এছাড়া চকরিয়া উপজেলার বরইতলি ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পূর্ব ভিলিজারপাড়ায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো- আনোয়ার হোসেনের দুই শিশু মোহাম্মদ সাবিত (৫) ও তাবাচ্ছুম (১)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান।

চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালি, বরইতলি, কৈয়ারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল, কোনাখালি, চিরিংগা, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, বদরখালী, হারবাং, ঢেমুশিয়া, বিএমচরসহ ১৮ টি ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভা এলাকার শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বদরখালি, পশ্চিম বড় ভেওলা ও ঢেমুশিয়া এলাকায় স্লুইসগেট বন্ধ করে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতায় শতকরা ৮০ ভাগ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে চকরিয়ার হারবাং, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, কৈয়ারবিল ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব এলাকায় সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাহাড়ের ঢালে অবৈধভাবে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. জামিল মোরশেদ জানান, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানির তোড়ে কোনাখালীর কন্যারকুম এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বানের পানি দেদারছে লোকালয়ে প্রবেশ করছে ।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনেক ইউনিয়নে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার-১ আসনের এমপি ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘পানিবন্দী মানুষগুলো যাতে খাবারের সঙ্কটে না পড়েন সেজন্য জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীকে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, ভারি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে ওইসব এলাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিম্নাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানের জন্য বলা হচ্ছে। সেখানে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন ডিসি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জয়নুল আবদীন ফারুকের স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন: সেনবাগে শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত পরিবেশ

কক্সবাজার জেলায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী।।

আপডেট সময় : 10:29:17 am, Tuesday, 8 August 2023

তৌহিদ বেলাল।।

 

কক্সবাজার জেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি, জোয়ারের পানি ও প্রবল পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার সদর উপজেলা, ঈদগাঁও, চকরিয়া, পেকুয়া, রামু ও মহেশখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল ব্যাপক প্লাবিত হয়েছে। এতে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ফলে এলাকাসমুহের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে, অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান, সোমবার রাত ৯ টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার প্রধান নদী বাঁকখালি, মাতামুহুরি ও ঈদগাঁওর ফুলেশ্বরীসহ ছোট বড় প্রায় সব নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। গত ৩ দিনের অবিরাম বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরি, বাকঁখালি ও ফুলেশ্বরী নদীর পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট এ বন্যায় পাঁচ লক্ষাধিক লোকের ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এর ফলে এলাকাসমুহের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে ও ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে এপর্যন্ত দুই শিশুসহ ৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদের মধ্যে চকরিয়া উপজেলার বরইতলি এলাকায় দেয়াল চাপা পড়ে তিনজন, মাতামুহুরি নদীতে ডুবে এক যুবক রয়েছে।

অন্যদিকে সোমবার বিকেলে উখিয়া উপজেলার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মা-মেয়ে মারা গেছেন। এরা হলেন, ওই ক্যাম্পের আনোয়ারের স্ত্রী জান্নাত আরা ও তাদের দুই বছরের মেয়ে মাহিমা আক্তার।

সোমবার সন্ধ্যায় মাতামুহুরী নদীর পানি চিরিংগা পয়েন্টে বিপদসীমার প্রায় ৪ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

অপরদিকে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে মাতামুহুরী নদীর লক্ষ্যারচর হাজিপাড়া পয়েন্টে লাকড়ি ধরতে নদীতে ঝাঁপ দেয় শাহ আলম। এসময় লাকড়ি ধরে কূলে ফেরার সময় পানির তীব্র স্রোতে তিনি তলিয়ে যান। শাহ আলম ওই এলাকার জাকের হোসাইনের পুত্র। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন।

এছাড়া চকরিয়া উপজেলার বরইতলি ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পূর্ব ভিলিজারপাড়ায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো- আনোয়ার হোসেনের দুই শিশু মোহাম্মদ সাবিত (৫) ও তাবাচ্ছুম (১)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান।

চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালি, বরইতলি, কৈয়ারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল, কোনাখালি, চিরিংগা, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, বদরখালী, হারবাং, ঢেমুশিয়া, বিএমচরসহ ১৮ টি ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভা এলাকার শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বদরখালি, পশ্চিম বড় ভেওলা ও ঢেমুশিয়া এলাকায় স্লুইসগেট বন্ধ করে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতায় শতকরা ৮০ ভাগ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে চকরিয়ার হারবাং, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, কৈয়ারবিল ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব এলাকায় সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাহাড়ের ঢালে অবৈধভাবে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. জামিল মোরশেদ জানান, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানির তোড়ে কোনাখালীর কন্যারকুম এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বানের পানি দেদারছে লোকালয়ে প্রবেশ করছে ।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনেক ইউনিয়নে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার-১ আসনের এমপি ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘পানিবন্দী মানুষগুলো যাতে খাবারের সঙ্কটে না পড়েন সেজন্য জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীকে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, ভারি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে ওইসব এলাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিম্নাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানের জন্য বলা হচ্ছে। সেখানে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন ডিসি।