Dhaka , Wednesday, 28 January 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রেলের ভূমি দখলে ‘পরিকল্পিত’ আগুন, পুড়ল কয়েকশ চারাগাছ দুর্গাপুরে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ মিছিল শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আহত শতাধিক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দায়িত্বশীল বস্তুনিষ্ঠ ও নৈতিক সংবাদ চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:- বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান রূপগঞ্জে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় বাধা কর্মচারীকে পিটিয়ে জখম মুক্তিযোদ্ধার জানাযা পড়ালেন জামায়াত প্রার্থী রাজাপুরে জামায়াতের কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল রাজাপুর–কাঁঠালিয়ায় ভালো নেতৃত্ব চান মানুষ: ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী ​হরিপুরে উপজেলা যুবদলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত রাজাপুরে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কসহ শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান রাজাপুরে নির্বাচনী প্রচারনা করায় জামায়াতের কর্মীকে পিটিয়ে আহতর অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে  নোয়াখালীতে দুই মাদক সেবীকে কারাদন্ড গার্মেন্টসের রাজধানী গাজীপুর, নারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার চালু করা হবে–তারেক রহমান বগুড়ায় গভীর রাতে সেনাবাহিনীর অভিযান: অস্ত্রসহ যুবক আটক সাতকানিয়ায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্রসহ দুই যুবক গ্রেফতার  পাইকগাছায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ‘ভোটের গাড়ি’র প্রচারণামূলক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পাইকগাছার আদর্শ শিশু বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পাইকগাছার সাবেক ছাত্রনেতা বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দৃষ্টিনন্দন ও বাহারি পাটজাত পণ্য ক্রেতাদের চাহিদা ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ দুই সশস্ত্র সন্ত্রাসী আটক অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি: রায়পুরে বিনিময় ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। মোংলায় নির্বাচন ঘিরে নৌবাহিনী টহল জোরদার, জনমনে স্বস্তি সিএমপি স্কুল এন্ড কলেজের আন্তঃহাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত ধানের শীষে’র প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলালে’র সমর্থনে এ্যাব চট্টগ্রামে’র নেতৃবৃন্দের প্রচার-প্রচারণা জিয়ার পরিবারের আস্থাভাজন ও আগামীর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং আজমিরীগন্জের রূপকার আহমেদ আলী মুকিব (আব্দুল্লাহ) রাজনীতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ভোটারদের হৃদয়ে ‘দুলু ভাই’: লালমনিরহাট-৩ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্তে ১৫ বিজিবির কড়াকড়ি: মোগলহাটে আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ নারায়ণগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দৃষ্টিনন্দন ও বাহারি পাটজাত পণ্য ক্রেতাদের চাহিদা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:47:24 pm, Wednesday, 28 January 2026
  • 3 বার পড়া হয়েছে

মোঃ আবু কাওছার মিঠু, রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

বাণিজ্য মেলায় কম দামে দৃষ্টিনন্দন পাটজাত পণ্যের বাহারি সমাহার ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। চাহিদাও প্রচুর। দৃষ্টিনন্দন বুনন শৈলীতে নগর জীবনে জায়গা করে নিচ্ছে পাট পণ্য। কার্পেট, ব্যাগ, শতরঞ্জি, পর্দা, গয়নার বাক্স, শোপিসের পাশাপাশি পাট দিয়ে তৈরি হচ্ছে পর্দা, ফুলদানি, চেয়ার, কুশন কাভারসহ ঘর সাজানোর নানা উপকরণও। আবহমান বাংলা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে তৈরি সোনালি আঁশ পাটের এসব পণ্য দর্শকের দৃষ্টি কাড়ছে।
ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাটের তৈরি এসব পণ্য। যেমন পছন্দ তেমন বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। পাটের তৈরি এসব পণ্যের চাহিদা বেশি। দামও কম। ক্রেতারাও ভালো মানের ও টেকসই পাটের তৈরি সামগ্রী ক্রয়ে ঝুঁকছেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসির) প্যাভিলিয়নে ২০টি স্টল রয়েছে। টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ উন্নয়নের লক্ষ্যে পাটের পণ্য ব্যবহারে ঝুঁকছে মানুষ। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পাট শিল্পের এসব স্টলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় জমে। তবে বিকাল থেকে জমজমাট হয়ে উঠে এসব স্টল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাণিজ্য মেলার পিছনের দিকের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসির) প্যাভিলিয়নে পাটজাত পণ্যের স্টলগুলোতে জুট পর্দা, লেডিস পার্স, ল্যাপটপ ব্যাগ, টিফিন ব্যাগ, টিস্যুবক্স, বাঁশের তৈরি টুথব্রাশ, শো-পিস, নার্সারি পট, অফিস ব্যাগ, রাইস ম্যাট, টেবিল কভার, টেবিল ম্যাট, ক্যাপ, ফ্লোর ম্যাট, লেডিস ব্যাগ, জুট অর্নামেন্ট, রুম ম্যাট, ফ্রুট বক্স, ট্রাভেল ব্যাগ, ওয়াল ম্যাট, অফিস ব্যাগ, রিং প্লান্টার, বেডশিট, স্কুল-কলেজ ব্যাগ, স্যান্ডেল, অফিস ফোল্ডার, কলমদানি, ভ্যানিটি ব্যাগ, লেডিস বটুয়া, ফেব্রিক্স, ঢোল ব্যাগ, টি ম্যাটসহ ৬০ থেকে ৭৫ ধরণের পাটের তৈরি পণ্য স্থান পেয়েছে।
১২০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা মূল্যের পাটের তৈরি পণ্যের চাহিদা বেশি। তবে বেশি দামের পণ্যের চাহিদা কম। নারকেলের ছোবা, পাখির বাসা, বাঁশের আসবাবপত্রসহ পাটের সুতা, ব্যাগ, হোগলা পাতার সংমিশ্রণে তৈরি করা পণ্যও স্টলে স্থান পেয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণে পাট পণ্য তৈরি করা হয়। তাতে পাটের তৈরি পণ্যেরও ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসির) প্যাভিলিয়নে জুট ব্র্যান্ড, ক্রিয়েটিভ জুট টেক্সটাইল প্রোডাক্টস, রূপালী কুটির শিল্প, বেকি সেন্টার, ফাইন ফেয়ার ক্রাফটস, ব্যাগ বাজার, হ্যান্ডি ক্রাফটস অ্যান্ড ফ্যাশন, রুরাল উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট, বেঙ্গল ব্রেইডেড রাগস লিমিটেড, হেরিটেজ ইকো প্রোডাক্টসহ ২০টি স্টল রয়েছে।
মেশিন আর হস্তচালিত তাঁতে এসব পণ্য তৈরি হয়। পাটজাত পণ্যকে দেশে জনপ্রিয় করতে সরকার দেশের কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করেছে বলেও স্টলের মালিকরা জানিয়েছেন। পাট থেকে বস্তা, শাড়ি, ফ্রেব্রিক, সোফা, হ্যান্ডব্যাগ, কার্পেট, পর্দা, জুতা, শো-পিসসহ শত শত রকমের পণ্য তৈরি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ, আমেরিকায়ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বেড়েছে।
ঢাকার নতুন বাজার থেকে আসা গৃহবধূ অনামিকা দাস বলেন, দৃষ্টিনন্দন পাটজাত পণ্যের বাহারি সমাহারে তিনি মুগ্ধ। হাতের তৈরি পাটের পণ্য দাম কম হওয়ায় কিনেছেন স্কুল ব্যাগ, লেডিস সাইড ব্যাগ।
গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থেকে আসা গৃহবধূ নাসিমা সুলতানা বলেন, পাটের তৈরি ঘরের শোভাবর্ধন পণ্য দেখতে সুন্দর, মসৃণ। দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের অংশ হিসেবে পাটের কিছু পণ্য ক্রয় করেছি।
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সিনথিয়া জাহান বলেন, পাট দিয়ে যে এতো বৈচিত্রপণ্য জিনিস তৈরি হয় সেটি তার জানা ছিল না। একটা সময় মনে করা হতো পাট দিয়ে শুধু চটের ব্যাগ তৈরি করা হয়। কিন্তু সে ধারণা এখন আর নেই। পাট দিয়েই তৈরি হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার সামগ্রী।
হ্যান্ডি ক্রাফটস অ্যান্ড ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক হৃদয় হোসেন বলেন, প্রচলিত বয়ন শিল্পে পাটের, সুতা, পাকানো সুতা, বস্তা, চট, কারপেট, ব্যাকিং, পর্দার কাপড়, কুসন কভার পাট থেকে পাটের মিশ্রণ করা হয়।
ময়মনসিংহ থেকে আসা রুরাল উইমেন এমপাওয়ারমেন্টের নারী উদ্যোক্তা আয়েশা হামিদা বলেন, এবারের মেলায় আমাদের তিনশোর কাছাকাছি পাটজাত পণ্যের সমাহার রয়েছে। গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ও রুচিশীল সব কিচেন পণ্য, টেবিল মেট, ব্যাগ সবই মিলছে এখানে। হাউজ ডেকোর আইটেমগুলো ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। ক্রেতা সাধারণের বেশ আগ্রহ রয়েছে পাটপণ্যে। আমরা বেশ সাড়া পাচ্ছি।
ব্যাগ বাজার স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি আকলিমা ইসলাম বলেন, পাট বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল। সোনালি আঁশের সমাদৃত বিশ্বব্যাপী। মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ু অনুকূলে থাকায় বাংলাদেশে উন্নতমানের পাট উৎপাদিত হচ্ছে। সেসব পাটেই পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।
জুট ব্র্যান্ড স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি জাহানারা খাতুন বলেন, বৈশ্বিক বাজারের দখলে কৌশলগত ত্রুটি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, অদক্ষ ও বেশি সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগে দিন দিন এ শিল্পে ভাটা পড়েছে। কিন্তু গৃহস্থালির কাজে পাটের তৈরি পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে।
রূপালী কুটির শিল্পের বিক্রয় প্রতিনিধি মাছুম আহম্মেদ বলেন, পাট ও তুলার মিশ্রণে তৈরি ব্যাগ রপ্তানি করা হচ্ছে। পাট দিয়ে শাড়ি, লুঙ্গি, খেলনা, বাহারি ব্যাগ, শো-পিস, ওয়াল ম্যাট, পাপোস, জুতা, স্যান্ডেল, শিকা, দড়ি, সুতলি, দরজা-জানালার পর্দার কাপড়, গহনা ও টিস্যুবক্সসহ -২৮৫ ধরণের পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। মেলায় পাটের তৈরি ৬০/৭৫ ধরণের পণ্য স্থান পেয়েছে।
জারিফ এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় প্রতিনিধি কাউসার হোসেন বলেন, পাট ও পাটপণ্য সামগ্রী বহুমুখীকরণে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছে জেডিপিসি। এখানে স্টল নেওয়া মূলত সে কারণেই। মেলায় বেশ সাড়া পাচ্ছি।
জেডিপিসির ম্যানেজার (অপারেশন) জাফর সাদেক বলেন, পলিথিনের ভয়াবহতায় আজ পরিবেশ বিপর্যস্ত। সরকার পলিথিন বন্ধে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। পাটপণ্য দেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হলে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে। এসব পণ্য ব্যবহারের পর তা ফেলে দিলে পচে যাবে। এটা পরিবেশবান্ধব।
পরিবেশবান্ধব বহুমুখী পাটপণ্য ছড়িয়ে দিতে এক হাজার ১০০ তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক এখানে মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য আনা হয়েছে। আমাদের ২৮৮টি পাটপণ্য মেলায় আনা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রেলের ভূমি দখলে ‘পরিকল্পিত’ আগুন, পুড়ল কয়েকশ চারাগাছ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দৃষ্টিনন্দন ও বাহারি পাটজাত পণ্য ক্রেতাদের চাহিদা

আপডেট সময় : 07:47:24 pm, Wednesday, 28 January 2026

মোঃ আবু কাওছার মিঠু, রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

বাণিজ্য মেলায় কম দামে দৃষ্টিনন্দন পাটজাত পণ্যের বাহারি সমাহার ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। চাহিদাও প্রচুর। দৃষ্টিনন্দন বুনন শৈলীতে নগর জীবনে জায়গা করে নিচ্ছে পাট পণ্য। কার্পেট, ব্যাগ, শতরঞ্জি, পর্দা, গয়নার বাক্স, শোপিসের পাশাপাশি পাট দিয়ে তৈরি হচ্ছে পর্দা, ফুলদানি, চেয়ার, কুশন কাভারসহ ঘর সাজানোর নানা উপকরণও। আবহমান বাংলা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে তৈরি সোনালি আঁশ পাটের এসব পণ্য দর্শকের দৃষ্টি কাড়ছে।
ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাটের তৈরি এসব পণ্য। যেমন পছন্দ তেমন বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। পাটের তৈরি এসব পণ্যের চাহিদা বেশি। দামও কম। ক্রেতারাও ভালো মানের ও টেকসই পাটের তৈরি সামগ্রী ক্রয়ে ঝুঁকছেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসির) প্যাভিলিয়নে ২০টি স্টল রয়েছে। টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ উন্নয়নের লক্ষ্যে পাটের পণ্য ব্যবহারে ঝুঁকছে মানুষ। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পাট শিল্পের এসব স্টলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় জমে। তবে বিকাল থেকে জমজমাট হয়ে উঠে এসব স্টল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাণিজ্য মেলার পিছনের দিকের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসির) প্যাভিলিয়নে পাটজাত পণ্যের স্টলগুলোতে জুট পর্দা, লেডিস পার্স, ল্যাপটপ ব্যাগ, টিফিন ব্যাগ, টিস্যুবক্স, বাঁশের তৈরি টুথব্রাশ, শো-পিস, নার্সারি পট, অফিস ব্যাগ, রাইস ম্যাট, টেবিল কভার, টেবিল ম্যাট, ক্যাপ, ফ্লোর ম্যাট, লেডিস ব্যাগ, জুট অর্নামেন্ট, রুম ম্যাট, ফ্রুট বক্স, ট্রাভেল ব্যাগ, ওয়াল ম্যাট, অফিস ব্যাগ, রিং প্লান্টার, বেডশিট, স্কুল-কলেজ ব্যাগ, স্যান্ডেল, অফিস ফোল্ডার, কলমদানি, ভ্যানিটি ব্যাগ, লেডিস বটুয়া, ফেব্রিক্স, ঢোল ব্যাগ, টি ম্যাটসহ ৬০ থেকে ৭৫ ধরণের পাটের তৈরি পণ্য স্থান পেয়েছে।
১২০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা মূল্যের পাটের তৈরি পণ্যের চাহিদা বেশি। তবে বেশি দামের পণ্যের চাহিদা কম। নারকেলের ছোবা, পাখির বাসা, বাঁশের আসবাবপত্রসহ পাটের সুতা, ব্যাগ, হোগলা পাতার সংমিশ্রণে তৈরি করা পণ্যও স্টলে স্থান পেয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণে পাট পণ্য তৈরি করা হয়। তাতে পাটের তৈরি পণ্যেরও ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসির) প্যাভিলিয়নে জুট ব্র্যান্ড, ক্রিয়েটিভ জুট টেক্সটাইল প্রোডাক্টস, রূপালী কুটির শিল্প, বেকি সেন্টার, ফাইন ফেয়ার ক্রাফটস, ব্যাগ বাজার, হ্যান্ডি ক্রাফটস অ্যান্ড ফ্যাশন, রুরাল উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট, বেঙ্গল ব্রেইডেড রাগস লিমিটেড, হেরিটেজ ইকো প্রোডাক্টসহ ২০টি স্টল রয়েছে।
মেশিন আর হস্তচালিত তাঁতে এসব পণ্য তৈরি হয়। পাটজাত পণ্যকে দেশে জনপ্রিয় করতে সরকার দেশের কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করেছে বলেও স্টলের মালিকরা জানিয়েছেন। পাট থেকে বস্তা, শাড়ি, ফ্রেব্রিক, সোফা, হ্যান্ডব্যাগ, কার্পেট, পর্দা, জুতা, শো-পিসসহ শত শত রকমের পণ্য তৈরি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ, আমেরিকায়ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বেড়েছে।
ঢাকার নতুন বাজার থেকে আসা গৃহবধূ অনামিকা দাস বলেন, দৃষ্টিনন্দন পাটজাত পণ্যের বাহারি সমাহারে তিনি মুগ্ধ। হাতের তৈরি পাটের পণ্য দাম কম হওয়ায় কিনেছেন স্কুল ব্যাগ, লেডিস সাইড ব্যাগ।
গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থেকে আসা গৃহবধূ নাসিমা সুলতানা বলেন, পাটের তৈরি ঘরের শোভাবর্ধন পণ্য দেখতে সুন্দর, মসৃণ। দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের অংশ হিসেবে পাটের কিছু পণ্য ক্রয় করেছি।
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সিনথিয়া জাহান বলেন, পাট দিয়ে যে এতো বৈচিত্রপণ্য জিনিস তৈরি হয় সেটি তার জানা ছিল না। একটা সময় মনে করা হতো পাট দিয়ে শুধু চটের ব্যাগ তৈরি করা হয়। কিন্তু সে ধারণা এখন আর নেই। পাট দিয়েই তৈরি হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার সামগ্রী।
হ্যান্ডি ক্রাফটস অ্যান্ড ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক হৃদয় হোসেন বলেন, প্রচলিত বয়ন শিল্পে পাটের, সুতা, পাকানো সুতা, বস্তা, চট, কারপেট, ব্যাকিং, পর্দার কাপড়, কুসন কভার পাট থেকে পাটের মিশ্রণ করা হয়।
ময়মনসিংহ থেকে আসা রুরাল উইমেন এমপাওয়ারমেন্টের নারী উদ্যোক্তা আয়েশা হামিদা বলেন, এবারের মেলায় আমাদের তিনশোর কাছাকাছি পাটজাত পণ্যের সমাহার রয়েছে। গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ও রুচিশীল সব কিচেন পণ্য, টেবিল মেট, ব্যাগ সবই মিলছে এখানে। হাউজ ডেকোর আইটেমগুলো ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। ক্রেতা সাধারণের বেশ আগ্রহ রয়েছে পাটপণ্যে। আমরা বেশ সাড়া পাচ্ছি।
ব্যাগ বাজার স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি আকলিমা ইসলাম বলেন, পাট বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল। সোনালি আঁশের সমাদৃত বিশ্বব্যাপী। মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ু অনুকূলে থাকায় বাংলাদেশে উন্নতমানের পাট উৎপাদিত হচ্ছে। সেসব পাটেই পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।
জুট ব্র্যান্ড স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি জাহানারা খাতুন বলেন, বৈশ্বিক বাজারের দখলে কৌশলগত ত্রুটি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, অদক্ষ ও বেশি সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগে দিন দিন এ শিল্পে ভাটা পড়েছে। কিন্তু গৃহস্থালির কাজে পাটের তৈরি পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে।
রূপালী কুটির শিল্পের বিক্রয় প্রতিনিধি মাছুম আহম্মেদ বলেন, পাট ও তুলার মিশ্রণে তৈরি ব্যাগ রপ্তানি করা হচ্ছে। পাট দিয়ে শাড়ি, লুঙ্গি, খেলনা, বাহারি ব্যাগ, শো-পিস, ওয়াল ম্যাট, পাপোস, জুতা, স্যান্ডেল, শিকা, দড়ি, সুতলি, দরজা-জানালার পর্দার কাপড়, গহনা ও টিস্যুবক্সসহ -২৮৫ ধরণের পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। মেলায় পাটের তৈরি ৬০/৭৫ ধরণের পণ্য স্থান পেয়েছে।
জারিফ এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় প্রতিনিধি কাউসার হোসেন বলেন, পাট ও পাটপণ্য সামগ্রী বহুমুখীকরণে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছে জেডিপিসি। এখানে স্টল নেওয়া মূলত সে কারণেই। মেলায় বেশ সাড়া পাচ্ছি।
জেডিপিসির ম্যানেজার (অপারেশন) জাফর সাদেক বলেন, পলিথিনের ভয়াবহতায় আজ পরিবেশ বিপর্যস্ত। সরকার পলিথিন বন্ধে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। পাটপণ্য দেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হলে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে। এসব পণ্য ব্যবহারের পর তা ফেলে দিলে পচে যাবে। এটা পরিবেশবান্ধব।
পরিবেশবান্ধব বহুমুখী পাটপণ্য ছড়িয়ে দিতে এক হাজার ১০০ তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক এখানে মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য আনা হয়েছে। আমাদের ২৮৮টি পাটপণ্য মেলায় আনা হয়েছে।