
মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ,
সাভারে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবককে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় নয়টার দিকে সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের বেড়াইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষে আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু সাঈদ (৩০) নামের এক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আবু সাঈদ স্থানীয় বাবুলের চাচাতো ভাই বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষের বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাতের দিকে স্থানীয় বাবুল ও ঢাকা জেলা জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটির ৬ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতা নিয়ে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে জাকির হোসেনের অনুসারীরা বাবুলের চাচাতো ভাই আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা তাদের উপরও হামলা চালায়। এতে আরও অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর, তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা বলেন,
“ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তবে তাকে ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযোগ
এলাকাবাসীরা জানান, বিএনপির নাম ব্যবহার করে জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তিনি প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার পর থেকে বেড়াইদ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে আরও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
পুলিশ বলেছে, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

























